
কর্মশালায় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ, যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিমসহ আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর অদূরে সাভারস্থ শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে গত ১৩ জানুয়ারি ‘ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচি : বাস্তবতা ও করণীয়’ শীর্ষক একটি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শীঘ্রই শুরু হতে যাওয়া দেশের ২০টি উপজেলায় ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির ৪র্থ পর্বের কার্যক্রম ও বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রণয়ণের লক্ষ্যে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ এবং বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ারুল করিম। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব রঞ্জিত কুমার দাসের সভাপতিত্বে কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা) আবুল হাছান খান (যুগ্ম সচিব), স্বাগত বক্তব্য রাখেন শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন কেন্দ্রের পরিচালক মোরশেদ উদ্দিন আহমেদ এবং আলোচক হিসেবে অংশ নেন অধিদপ্তরের পরিচালক (দারিদ্র বিমোচন ও ঋণ) মো. এরশাদ-উর-রশিদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মঞ্জুরুল কাদের এবং যুগ্ম সচিব মাশুক মিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাজী আখতার উদ্দিন আহমেদ বলেন, দেশের যুব সমাজকে সঠিকভাবে উদ্বুদ্ধকরণের মাধ্যমে তাদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে ন্যাশনাল কর্মসূচি সফল করতে হবে। এই কর্মসূচিতে যুব সমাজকে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে ইভটিজিং ও মাদকমুক্ত স্বনির্ভর সমাজ গড়া সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, কর্মসূচির আওতায় প্রশিক্ষিতরা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী কর্মে নিয়োজিত হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের উপকারভোগীদের উদ্বুদ্ধ করে তাদের উপস্থিতি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের উপকারভোগীদের নিয়ে আরো একটি কর্মশালা আয়োজনেরও আহ্বান জানান। এ ছাড়া, সঠিক পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে মাস্টার প্ল্যানের মাধ্যমে দেশের দারিদ্রপীড়িত অঞ্চলগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে পর্যায়ক্রমে এই কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানান তিনি। এ সময় যুব উন্নয়নের বিভিন্ন সাফল্য গাথা প্রচারের মাধ্যমে দেশের যুব সমাজকে এই কর্মসূচিতে সম্পৃক্ত হতে উৎসাহ সৃষ্টির ওপরও জোর দেন তিনি।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আনোয়ারুল করিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘরে ঘরে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে অঙ্গিকার করেছিলেন আজ তা বাস্তব রূপ পেয়েছে। বর্তমানে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তর প্রশিক্ষণ, ঋণ প্রদান ও আত্মকর্মের গণ্ডি পেরিয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে কর্মসংস্থান কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ন্যাশনাল কর্মসূচি নিরক্ষরতা দূরীকরণের মাধ্যমে বেকার ও মাদকমুক্ত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরো বলেন, এই কর্মসূচির মাধ্যমে প্রশিক্ষিতরা সরকারের বিভিন্ন সম্প্রসারণ বিভাগে অস্থায়ীভাবে নিয়োজিত হয়ে ২ বছরের কর্মঅভিজ্ঞতা লাভ করেন যা পরবর্তীতে তাদের কর্মসংস্থান লাভে বড় সহায়ক হিসেবে কাজ করে। তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট অনুযায়ী কর্মসৃজনসহ কর্মসূচি পরিচালনায় কেন্দ্রীয়, জেলা ও উপজেলা কমিটির সংস্কার সাধন এবং প্রশিক্ষণের বাছাই প্রক্রিয়ায় কোন ত্রুটি থাকলে তা চিহ্নিতকরণ ও পরিমার্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় তিনি সঠিক যুব পরিসংখ্যান প্রণয়নেরও আহ্বান জানান। বিশ্ব মানচিত্রে বাংলাদেশ দারিদ্র দূরীকরণে দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী দেশ হিসেবে সফলতা অর্জন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আনোয়ারুল করিম।
কর্মশালার সভাপতি রঞ্জিত কুমার দাস ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচির ৪র্থ পর্বের বাস্তবায়ন নির্দেশিকা প্রণয়নের প্রক্রিয়া তুলে ধরেন।

