নিজস্ব প্রতিবেদক : শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অনলাইনে উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন সহিংসতা, হুমকিপ্রদান ও পর্নোগ্রাফির ঘটনা বেড়েই চলছে। এসব কারণে তরুণীদের আত্মহত্যার ঘটনাও ঘটছে। জরিপে দেখা যায়, শিক্ষা ও কর্মস্থলে ১৬ দশমিক ২ শতাংশ নারী বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এছাড়া দেশের নারীদের মধ্যে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন ২৬ শতাংশ এবং মানসিক নির্যাতনের শিকার হন ২৯ শতাংশ।
বুধবার সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে ‘আর্ন্তজাতিক নারী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি র্যালির ঘোষণাপত্রে এ কথা বলেন বক্তারা।
‘পরিবার ও সমাজ হোক নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতন প্রতিরোধ দুর্গ’ এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যৌথভাবে র্যালিটির আয়োজন করে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ ও ঢাবির উইমেন্স অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগ।
ঢাবির উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি আয়েশা খানম, সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু, উইমেন্স অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান সৈয়দ শাইখ ইমতিয়াজ ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের বিভিন্ন পর্যায়ের নেত্রীরাসহ উইমেন্স অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থীরা র্যালিতে অংশ নেয়।
সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘শতাব্দী এখন জ্ঞান, বিজ্ঞানের ওপরে চলছে। এখানে কোনো জাতি, ধর্ম, বর্ণ, শ্রেণী বিভেদ নেই। এখানে সকল ধর্মের সকল শ্রেণীর মানুষের সমান অধিকার। আমাদের দেশের নারীরা নানাভাবে যৌন হয়রানি ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের সকলের ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।’
আয়েশা খানম বলেন, ‘আমাদের সকল অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে যায় যখন নারীরা নির্যাতিত হয়। নারীরা নির্যাতিত হলে দেশের অর্থনৈতিক অর্জন বৃথা হয়ে যায়। নারীরা মানবসন্তান, তাদেরও মানবাধিকার রয়েছে। আমাদের সকলের দায়িত্ব এটি রক্ষা করা ‘
র্যালির পর ঢাবির নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে নারী আন্দোলন : নারী ও কন্যা শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ ও তরুণ সমাজের সম্পৃক্ততা’ বিষয়ে একটি পাঠচক্রের আয়োজন করা হয়।

