ঢাকাThursday , 12 November 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গ্রামাঞ্চলে বাল্যবিবাহের হার প্রকট

Link Copied!

chumkiনিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশে মেয়েদের বাল্যবিবাহের হার বেশ উদ্বেগজনক। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে তা খুবই প্রকট আকার ধারণ করছে। এ সমস্যা সমাধানে প্রয়োজন সামাজিক আন্দোলন। সরকারও নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে এ সমস্যা সমাধানে। তবে রাতারাতি তা সমাধান করা সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকী। আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা ‘প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল’ বাল্যবিবাহ বিষয়ক এক গবেষণা প্রতিবেদনের ফলাফল প্রকাশ করতে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। মেহের আফরোজ এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর সেনেত গ্যাব্রিজিবার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স অরেফিন সিদ্দিক, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসিমা বেগম এনডিসি, বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার বেনিত-পিয়েরে লারামে প্রমুখ।
প্রতিমন্ত্রী চুমকী আরো বলেন, সরকার ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছে, আগামী ২০২১ সালের মধ্যে বাল্যবিবাহ বন্ধ করবে এবং ২০৪১ সালের মধ্যে তা সর্ম্পূণরূপে বন্ধ হবে। বাংলাদেশ এখন নিম্নমধ্য আয়ের দেশ। সরকার ঘোষণা দিয়েছে আগামী ২০২১ সালের মধ্যে দেশকে মধ্যআয়ে উন্নীত করবে। এরজন্যে অবশ্যই আমাদের বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাল্যবিবাহ রোধে জোর দিচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, কীভাবে দেশে বাল্যবিবাহ রোধ করা যায় তার উপর জোর দিচ্ছে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে ২০১৬ সালে এই মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দুটি কাজ হবে পথ শিশুরা যাতে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে না বেড়ায় এবং বাল্যবিবাহের হার যেন কমে। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে আমরা কর্ম-পরিকল্পনা শুরু করেছি। বাল্যবিবাহ রোধের লক্ষ্যে ২০১৬ সালে দেশের প্রতিটি জেলায় কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।
বাল্যবিয়ের মাধ্যমে মেয়েদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়
অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক শিক্ষাকে সকল সামাজিক রোগ নিরাময়ের মহাওষুধ হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ব্যবহারিক শিক্ষার মাধ্যমে মানুষকে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে তুলতে পারলে বাল্যবিয়েসহ সমাজের সব ব্যাধি দূর করা সম্ভব হবে। বাল্যবিয়ের মাধ্যমে মেয়েদের মৌলিক অধিকার হরণ করা হয়।
বাল্যবিয়ে রোধে তৃণমূল পর্যায়ে নারী শিক্ষা প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান সরকারের সমালোচনা করে বলেন, যে দেশের সরকার সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয় সে দেশে ক্ষুধা, দারিদ্র্য, বাল্যবিবাহ তো থাকবেই। আমরা দেশে ‘গুড গভর্ন্যান্স’ চাই। আইনের সঠিক ব্যবহার চাই। রাষ্ট্রকে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, যদি পিতাদের আইনের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াতে হয়, পুলিশ যদি মামলা না নেয়, কোনো মামলার যদি সঠিক বিচার করা না হয় তাহলে রাষ্ট্র ব্যর্থতার পরিচয় দেবে। আমরা রাষ্ট্রকে ব্যর্থ দেখতে চাই না।
২০১৫ সালে প্লান ইন্টারন্যাশনাল ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান কোর‌্যাম ইন্টারন্যাশনালের সহযোগিতায় ‘বাল্যবিবাহের অন্তর্নিহিত কারণ ও প্রভাব’ সংক্রান্ত এক গবেষণা প্রতিবেদনে জানা যায়, বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে  মেয়েদের ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহের হার বেশ উদ্বেগজনক। মেয়েদের ক্ষেত্রে শিক্ষার সুযোগ, অর্থনৈতিক সুযোগ ও স্বাস্থ্যসেবার অভাব এবং সেই সঙ্গে চরম দারিদ্র্য, দুর্বল বিচার ব্যবস্থা ও আইন প্রয়োগ প্রক্রিয়া ইত্যাদি বাল্যবিবাহের এই উচ্চহারের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত কারণ। ১৮ বছর বয়স পূর্ণ হওয়ার আগে বাংলাদেশের ৭৩% মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সেই ২৭% মেয়ের বিয়ে হয়ে যায়। আর ছেলেদের ক্ষেত্রে এই হার ৩.৭%।
জানা যায়, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল এ বছর এশিয়ার তিনটি দেশের (বাংলাদেশ, পাকিস্থান ও ইন্দোনেশিয়া) নির্দিষ্ট কিছু স্থানে বেসরকারিভাবে বাল্যবিবাহের কারণ ও নিগুঢ় তথ্য বিশ্লেষণের উদ্দেশ্যে এক সামগ্রিক গবেষণা পরিচালনা করে। সমীক্ষাটি এই দেশগুলোর আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপটে বাল্যবিবাহের বর্তমান পরিস্থিতির একটি শক্তিশালী তুলনমূলক বিশ্লেষণ বলে দাবি করে প্লান ইন্টারন্যাশনাল। সমীক্ষা অনুযায়ী, এখনও সমাজের গভীরে প্রচলিত প্রথা ও ধারণার কারণে অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহের শিকার হচ্ছে।