ঢাকাFriday , 16 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কর্মই বদলে দিয়েছে নারীদের জীবনচিত্র

Link Copied!

nariপটুয়াখালী প্রতিনিধি : জেলার গ্রামাঞ্চলের হতদরিদ্র নারীরা ঘুরে দাঁড়াচ্ছে। ভিক্ষার পরির্বতে এখন কাজ করে সংসার চালাচ্ছে হাজার হাজার নারী। গ্রামীণ নারীদের এ কাজটি সহজ করে দিয়েছে ওয়েভ ফাউন্ডেশন নামে একটি বে-সরকারি প্রতিষ্ঠান।
সরেজমিনে পটুয়াখালী সদর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে গ্রামীন হতদরিদ্র নারীদের সাফল্যের নানা চিত্র। সদর উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ট্যাংরাখালী এলাকার হাজেরা বেগম (৬৫)। এক সময় ভিক্ষা করে সংসার চালাতেন। স্বামী মমিন হাওলাদার মারা গেছেন প্রায় ৩০ বছর আগে। দুই বছর ধরে ওয়েভ ফাউন্ডেশনের সহায়তায় ১৪ হাজার টাকা পুঁজি নিয়ে গ্রামে বিভিন্ন বাড়ি কাপড় ফেরি করে বিক্রি করেন। আয় বাণিজ্য ভালো হওয়ায় সংসার থেকে বিদায় দিয়েছেন অভাব।
হাজেরা বেগম বলেন, ‘আমার জীবনে অ্যাহন আর কষ্ট নাই। খয়রাত করতাম। মাইনস্যে খারাপ কইতে। খয়রাত না পাইলে আগে ভাত খাইতে পারতাম না। আমি অ্যাহন খুব ভালো আছি।’
শুধু হাজেরাই না। শহর থেকে উত্তরে পটুয়াখালী সেতু পার হলেই নজরে আসে কৃষ্ণা রানির দোকান। অভাব নেই এখন কৃষ্ণার সংসারে। লাউকাঠী বাজার পুলের পাশে পিঠার দোকান খুলে জীবনের ছন্দে ফিরিয়েছেন জয়নব বিবি। সেখান থেকে কিছু দূর উত্তরে গেলে লাউকাঠী দুই নম্বর আবাসন পল্লিতে বসবাসরত মো. মুজাফফরের স্ত্রী মইফুল বিবি ওই প্রতিষ্ঠানের ‘রিকল’ প্রকল্পের মাধ্যমে বাঁশশিল্প দিয়ে নিজেকে সাবলম্বী করেছেন।
ওয়েভ ফাউন্ডেশনের ওই প্রকল্প একটি ভিখারি পল্লীর পরিচয় পাল্টে দিয়েছেন। ভিক্ষার পরিবর্তে ওই পল্লীর লোকজন এখন শুধুই কাজ নিয়ে ব্যস্ত। শহর থেকে ৭ কিলোমিটার উত্তর পূর্বদিকে অবস্থিত পূর্ব তেলিখালী খালেরপাড়ের অধিকাংশ মানুষগুলো দারিদ্রতার কারণে ভিক্ষা করেই জীবিকা চালাতো। ভিক্ষা এখন ওই পল্লীর সবার জন্য অতীত হয়ে গেছে। ভিখারি পল্লির পরিবর্তে ঠোঙা পল্লি হিসেবে পরিচিত পেয়েছে এলাকাটি। ওই পল্লির ছোট পিয়ারা, বড় পিয়ারা, ছোট আলেয়া, বড় আলেয়া, সালমা, জেসমিন, মাজেদাসহ সবাই এখন ঠোঙা তৈরি করে। এক সময় এ পল্লির শিশুরা পর্যন্ত ভিক্ষার সঙ্গে জড়িত থাকলেও এখন সবাই স্কুলে যায়।
ওই পল্লির নারীদের ঠোঙা বানানোর জন্য অফেরতযোগ্য ১৪ হাজার টাকা করে দেয়া হয়। সংসারের ব্যয় মিটিয়ে পুঁজি জমাচ্ছে প্রতিটি পরিবার। এখন স্বাবলমী সবাই। ঠোঙাপল্লির ছোট পিয়ারা বলেন, ‘ঠোঙ্গা বানাইয়া কামাই করতে পারি এই লইগা পোলাপান লেহাপড়া কইরগা বড় অইবে। অভাব নাই কোন।’
ওয়েভ ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা গেছে, গ্রামের হতদরিদ্র পরিবারের মানুষরা আর্থ-সামাজিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা এবং তাদের কর্মমুখি করতে ২০১১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ‘রিকল’ প্রকল্প নামে কার্যক্রম শুরু হয়। প্রকল্প চালুর পর পটুয়াখালী সদর উপজেলার ১২ ইউনিয়নে ৬ হাজার ৫০০ হতদরিদ্রকে ওই প্রকল্পের আওতায় নিয়ে আসা হয়। উপকার ভোগীদের পছন্দানুযায়ী ব্যবসা কিংবা কাজ দেয়া হয়।
ওই প্রকল্পের প্রকল্প সমন্বয়কারী তৌফিকুর রহমান বলেন, ‘এ পর্যন্ত শতভাগ সফল আমরা। মূলত প্রশিক্ষণ এবং সার্বক্ষণিক তদারকির জন্য উপকারভোগী প্রতিটি লোক ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আমাদের সহায়তায় এবং তাদের চেষ্টায় মানুষগুলো এখন আত্মনির্ভর। এমনকি শিক্ষা এবং স্বাস্থ্য ক্ষেত্রেও তারা সচেতন।’