ঢাকাSaturday , 3 October 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নিরাপত্তাহীনতায় কমছে না বাল্যবিয়ে

Link Copied!

Ballo-bibahoরাজশাহী প্রতিনিধি : জেলার বাগমারা উপজেলার বড়বিহানালী ইউনিয়নের বড়কয়া গ্রামের মেয়ে পিংকি। বয়স মাত্র ১৩। অনেক ছোট বেলায় তার মা মারা যায়। এ অল্প বয়সে তাকে পোহাতে হচ্ছে বখাটেদের উৎপাত।
পিংকি বড়বিহানালী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণির ছাত্রী। অভাবের তাড়নায় মাঠে-ঘাটে খাটতে হয় তাকে।  তাই সব সময় চোখে চোখে রাখা সম্ভব নয়। বাবা আব্দুল মেয়ের নিরাপত্তা নিয়ে অনেক চিন্তায় থাকেন। অনেক ভেবে মেয়ের বিয়ে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
গত বুধবার বিয়ের দিনও ঠিক হয়। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তরিকুল ইসলামের হস্তক্ষেপে এ বাল্যবিয়েটি বন্ধ হয়। পিংকির বাবা আব্দুল জানান, অন্য কোনো কারণ নয়, মেয়েকে বাড়িতে রেখে দুশ্চিন্তায় থাকতে হয়। নানান দিক থেকে বখাটেদের হুমকি। মেয়ের কিছু হয়ে গেলে সর্বনাশের শেষ থাকবে না।
সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার কারণে থামানো যাচ্ছে না বাল্যবিয়ে। সম্প্রতি সময়ে রাজশাহী ও আশেপাশের উপজেলায় যে কয়টি বাল্যবিয়ের ঘটনা ঘটেছে তার প্রধান কারণ হিসেবে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতাকেই দায়ী করেছেন মেয়ের বাবা-মায়েরা।
এক জরিপে দেখা গেছে, বাংলাদেশে বাল্যবিয়ের হার সারা বিশ্বে চতুর্থ। জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের মতে, এ ক্ষেত্রে বিশ্বে নাইজার, মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্র এবং চাঁদের পরেই দেশটির অবস্থান। ইউনিসেফের মতে, ২০০৫ থেকে ২০১৩ সালে বাংলাদেশে শতকরা ২৯ ভাগ মেয়ের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছরের আগেই। আর শতকরা ৬৫ ভাগ মেয়ের বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর বয়সের আগেই।
মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক কল্পনা রায় জানান, সামাজিক অবক্ষয় বেড়ে যাওয়ার কারণে সামাজিক নিরাপত্তাহীনতার বিষয়টি বেড়ে যায়। রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ থেকে শুরু করে বাড়িতেও মেয়েরা নিরাপদ নয়। মেয়েরা যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এসব কারণে মেয়েরা বড় হয়ে গেলে অভিভাবকরা চিন্তায় পড়ে যায়। নিজের সম্মান ধরে রাখতে যে কোনো ভাবেই মেয়েকে কোনো ঝামেলা ছাড়াই স্বামীর হাতে তুলে দিয়ে চায় অভিভাবকরা।
তিনি আরো বলেন, ‘মেয়েদের নিরাপত্তা দিতে আমরা ব্যর্থ। সে কারণে বখাটেদের উৎপাত বাড়ছে। বাড়ির আশেপাশে খোঁজ নিয়ে দেখা যাবে যাদের মেয়ে সন্তান আছে সেসব অভিভাবক কেউ না কেউ এসব সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। বখাটেদের যেসব ঘটনা প্রকাশ পায় এগুলো অনেক ঘটনার সামান্য একটি অংশ।’
এসব ঘটনায় বখাটেদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। যারা এধরনের ঘটনা ঘটাচ্ছে তারা আইনের ফাঁক দিয়ে কোনো না কোনোভাবে বেরিয়ে যাচ্ছে। সে কারণে তাদের মধ্যে অপরাধ করার প্রবণতা আরো বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে বলেও জানান তিনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নগরীর সারকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, নগরীর মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজ তো দূরের কথা অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনেও বখাটেদের ভিড় লক্ষ্য করা যায়। বিষয়গুলো নিয়ে অনেক অভিভাবক চিন্তায় থাকেন। এসব সমস্যা সমাজ থেকে দুর না করা হলে বাল্য বিয়ে বন্ধ করা যাবে না।
ব্লাস্ট রাজশাহী ইউনিটের সমন্বয়কারী অ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ বলেন, ‘আমাদের হতাশ হলে চলবে না। সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে। সামাজিক সুরক্ষার বিষয়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করতে হবে। সামাজিক আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের নারীবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে হবে।’