ঢাকাThursday , 17 September 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

জয়ের খুশিতে খায়রুন নাহার

Link Copied!

naharনিজস্ব প্রতিবেদক : স্কুলের গণ্ডি পেরুতে না পেরুতেই বাবাকে হারিয়ে পাঁচ সদস্যের পরিবারের হাল ধরতে হয়। অল্প বয়স আর স্বল্প শিক্ষা কিন্তু মনোবল অনেক বেশি। সাংসার চালাতে ছোট খাটো বেশ কিছু ব্যবসার সঙ্গে নিজেকে জড়ানো। এখান থেকে সঞ্চয় করে নেন অভিজ্ঞতা। কিন্তু লেখাপড়াটা আর এগিয়ে নেয়া সম্ভব হয় না। এরপর আর দশটা মেয়ের মতো বিয়ে করে ঘর সংসারের শুরু। ব্যবসায়ী স্বামী তাকে অনেক দিন ব্যবসার কাজ তেমন কিছু করতে দেননি। কিন্তু হঠাৎ করে নিজের ব্যবসায় ধস নামলে স্বামীও অসহায় হয়ে পড়েন। বিপদের এই সময় সহধর্মীনি হন স্বামীর শেষ ভরসা। সর্বশান্ত স্বামীকে নিয়ে তিনি আবার সাহস, উদ্যাম আর বুকভরা আশা নিয়ে নতুনকে জয় করার শপথে আবদ্ধ হন। নিজেদেরকে আবার দাঁড় করাতে হবে সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে। স্বামীকে সব সময় সমর্থন দেয়া আর নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করতে সংগ্রামের শুরু। মাত্র তিন বছরের প্রচেষ্টায় অর্জন করে নিলেন জাতীয় মৎস পুরস্কার ২০১৫- তিনি বেগম খায়রুন নাহার। জয়ের খুশিতে খায়রুন নাহারের উজ্জ্বল চোখ-মুখ উৎসাহের অপর এক নাম।
বেগম খায়রুন নাহার ২০১২ সালে ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ থানার মহেশ্চাতুল গ্রামে ১১০ কাঠা জায়গার ওপরে শুরু করেন মাছের চাষ। খুবই সামান্য পূজি বিনিয়োগে খায়রুন নাহরের চাষ পদ্ধতি শুরু হয়। মাত্র দেড় থেকে দু বছরের মাথায় ৪০ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন এবং বাৎসরিক লক্ষাধিক টাকা অর্জনে সমর্থ হন। চারজন কর্মচারীকে নিয়ে খায়রুন নাহার নিজেই সব কাজ নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করতেন। কাজের উদ্যাম আর প্রচেষ্টার কাছে এতোবড় অর্জন সম্ভবও হয়েছে বলে তার দাবি। এরই মধ্যে ধীরে ধীরে কাজের প্রসারতা বাড়তে শুরু করে। মাছ চাষের সঙ্গে শুরু হয়েছে মাছের খাবার তৈরি এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সৌর বিদ্যুতের মাধ্যমে সেচ কাজ প্রকল্প।
খায়রুন নাহার বলেন, ইচ্ছাশক্তি আমাকে এখানে পৌঁছতে সাহায্য করেছে। তাই সামান্য পূজি বিনিয়োগ করে এখানে আসতে পেরেছি। তাছাড়া আমি নিজ হাতে কাজ করতে কখনো পিছপা হইনি। আমার পুরো কাজ নিজের তত্বাবধানে থেকেছে।
খায়রুন নাহারের কাজের উদ্দেশ্য সম্পর্কে জানতে চাইলে বলেন, অর্জন নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। কিন্তু আত্মনির্ভশীল হতে আগ্রহী নারীদের সাধ্যমতো সাহায্য করতে সবসময় আমি সচেষ্ট। তিনি নতুনদের যত্নের সঙ্গে সাহায্য করতে খুবই আগ্রহী। তার কাছ থেকে যেকোনো আগ্রহী নারীই পরামর্শ নিতে পারেন। খায়রুন নাহার বলেন, আমাদের জনবল এবং যথেষ্ট সম্পদ রয়েছে। তার উপযুক্ত ব্যবহার করতে হবে। তবেই সম্ভব হবে দেশকে আর্থিকভাবে সমৃদ্ধ করা।
এ পর্যন্ত আপনি কতো জনকে সাহায্য করেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ময়মনসিংহ, নেত্রকোনা, নরসিংদী এবং টাঙ্গাইলের বেশ কিছু নারীকে আমি প্রশিক্ষণ দেয়া এবং বুদ্ধিগত পরামর্শ দিয়ে সাহায্য করেছি। তাদেরকে যে কোনো সমস্যায় এগিয়ে যেতে দ্বিধা করিনা। আমার ইচ্ছা দেশের প্রতিটি জেলায় কাজ করা। আত্মকর্মসংস্থানের জন্য যারা আগ্রহী তাদের জন্য আমার সর্বোচ্চ সাহায্য থাকবে।
খায়রুন নাহার মনে করেন, চাকরির অপেক্ষা করে সময় নষ্ট করার প্রয়োজন নেই। আমাদের দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে কর্ম উদ্যোগী এবং কর্মঠ হওয়া জরুরি।
খায়রুন নাহার বলেন, আমি কাউকে শুধু অর্থ দিয়ে সাহায্য করার পক্ষে নই, তাকে উপার্যনক্ষম করে দেয়াটা আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমার কাছ থেকে এলাকার অনেক নারী পরামর্শ নিয়ে এখন স্ববলম্বী হয়েছেন। দেশের প্রতিটি প্রান্তে আমি ছুটে যেতে চাই। যারা অভিজ্ঞ আছেন তাদের প্রতিও আমার অনুরোধ থাকবে, আগ্রহীদের পরামর্শগত এবং কৌশলগত সাহায্য করুন।
খায়রুন নাহার দেশের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অবদান রাখতেও সচেষ্ট। তিনিই প্রথম সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করে চাষীদের সেচ সুবিধা দেয়ার কথা ভাবছেন। তিনি আশাবাদী এ ব্যাপারে সফলতা আনা সম্ভব।
প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তার ব্যাপারে খায়রুন নাহার বলেন, কাজের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমি মাছ চাষের ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছি। আমি একাধিক বিশেষজ্ঞর পরামর্শ নিয়েছি। পরামর্শের আলোকে নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়েছি। যে কেউই আমার মতো বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিতে পারেন। সেজন্য দরকার  নিজের জড়তা কাটিয়ে সাহস নিয়ে এগিয়ে যাওয়া।
আর্থিক সহায়তা প্রসঙ্গে বলেন, সামান্য কিছু ব্যাংক লোন তাকে নিতে হয়। এক্ষেত্রেও আমাদের দেশে ব্যাংকসহ যথেষ্ট আর্থিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সব ধরনের সুযোগ সুবিধা বিবেচনা করে আর্থিক সহায়তার ব্যাপারে নিজেকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
নিজ হাতে সংসারের সব কাজ সামলিয়ে খায়রুন নাহার কর্মক্ষেত্রে যথার্থ ভূমিকা রেখে চলেছেন। কাজের সফলতার পেছনে স্বামীর সহায়তাকেও মূল উৎসাহের জায়গা হিসেবে দেখেন। তার মতে, প্রতিটি স্বামী-স্ত্রীরই একে অপরের সহায়ক ভূমিকা পালন করা উচিৎ। উভয়ের প্রতি মর্যাদাশীল থেকে ভালো কাজের উদ্যোগ নিলে জয় অবশ্যই সম্ভব।