ঢাকাFriday , 28 August 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

শিশু নির্যাতন মামলা
ডাক্তার-তদন্তকারীর অনীহা দ্রুত নিষ্পত্তির অন্তরায়

Link Copied!

sisuনিজস্ব প্রতিবেদক : শিশু নির্যাতনের বহু মামলা বছরের পর বছর ঘুরছে শুধু সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও তদন্তকারী কর্মকর্তাদের সাক্ষ্যদানে অনীহার কারণে। আর সে জন্যই সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শিশু নির্যাতনের ঘটনা। সেই সাথে বাড়ছে এ সংক্রান্ত মামলাও। তবে মামলার সংখ্যা বাড়লেও বিচার নিষ্পত্তির হার বাড়ছে না আনুপাতিক হারে। বরং মামলার জট বাড়ছে দিনের পর দিন।
অনুসন্ধানে অনেক কারণের কথা জানা গেলেও সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে সময় মতো সাক্ষীদের সাক্ষ্য না দেয়া। আর এসব সাক্ষীদের মধ্যে সবচেয়ে অনীহা দেখিয়ে থাকেন সংশ্লিষ্ট ডাক্তার ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা। সাক্ষ্যদানে অনীহার তালিকায় রয়েছে ম্যাজিস্ট্রেটদের নামও। ট্রাইব্যুনাল থেকে সমন পাঠিয়ে এবং মোবাইলে যোগাযোগ করেও ওইসব সাক্ষীদেরকে ট্রাইব্যুনালে আনা যায় না। অথচ মামলার বিচার নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে এই দুই সাক্ষীর সাক্ষ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
ট্রাইব্যুনাল থেকে বারবার সমন পাঠানোর পর যখন ওইসব সাক্ষীদের সাথে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা যোগাযোগ করেন, তখন তারা সমন না পাওয়ার কথা বলেন। কিন্তু মোবাইলে যোগাযোগ করার পর নানা কায়দা কৌশলে নিকটবর্তী তারিখে সাক্ষ্য না দিয়ে পরবর্তী কোনো তারিখে সাক্ষ্য দেবেন বলে জানান। আবার অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা তাদের সেই অঙ্গীকারও রক্ষা করেন না। মামলার গুরুত্বপূর্ণ ওইসব সাক্ষীদের এমন অনীহার কারণে ন্যায় বিচারের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন বিচার প্রার্থীরা।
ঢাকার পাঁচটি নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে একই চিত্র পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে ঢাকার ৩ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের অতিরিক্ত সহকারী পাবলিক প্রসিকউটর মাহমুদা আক্তার জানান, চার্জ গঠন করার পরবর্তী তারিখে বা পরবর্তী ২/৩টি তারিখে বাদি তার সাক্ষীদেরকে নিয়ে এসে সাক্ষ্য দিয়ে যান। এরপরই মামলার গতি থমকে যায়। কারণ তখন ডাক্তার এবং তদন্ত কর্মকর্তাদেরকে সমন দিয়ে, এমনকি মোবাইলে যোগাযোগ করেও সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ট্রাইব্যুনালে হাজির করা যাচ্ছে না।
তিনি জানান, তার ট্রাইব্যুনালে শুধু ডাক্তার ও তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যের অভাবে দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে প্রায় ১০০টির মতো শিশু নির্যাতনের মামলা। এ বিষয়টি নিয়ে তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মিটিংয়েও যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছেন। কিন্তু তাতেও অবস্থার তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে হতাশা প্রকাশ করেন এ আইনজীবী। তার ট্রাইব্যুনালে গেলে তিনি মামলার একটি রেজিস্ট্রার খাতা বের করে এ জাতীয় বহু মামলার কথা তুলে ধরেন, যেগুলোর বাদিরা বছরের বছর ঘুরতে ঘুরতে কেউ কেউ বিচারের আশাই ছেড়ে দিয়েছেন।
তার দেয়া তথ্য মতে, ২০০০ সালে রমনা থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলা দ্বিতীয় তদন্ত কর্মকর্তা ও ডাক্তারের সাক্ষ্যের অভাবে ঝুলে আছে প্রায় পনের বছর। এছাড়া ২০০০ সালে ধামরাই থানার আরেকটি মামলায় ম্যাজিস্ট্রেট ও তদন্ত কর্মকর্তা সাক্ষ্য না দেয়ায় তা নিষ্পত্তি করতে পারছেন না বিচারক। এরও আগে ১৯৯৬ সালে পল্লবী থানার একটি হত্যা মামলা শুধুমাত্র তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্যের অভাবে বিচার নিষ্পত্তি করতে পারছেন না আদালত।
একই সালে (১৯৯৬) পল্লবী থানায় দায়ের করা একটি ধর্ষণ মামলাও ঝুলে আছে ডাক্তারের সাক্ষ্যের অপেক্ষায়। ১৯৯৭ সালের সূত্রাপুর থানার একটি অপহরণ মামলা ডাক্তার ও ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষ্যের অপেক্ষায় বিচার নিষ্পত্তি করতে পারছেন না বিচারক। একই ভাবে ২০০২ সালের সূত্রাপুর থানায় অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের একটি মামলা ম্যাজিস্ট্রেট ফাতেমার সাক্ষীর অভাবে ঝুলে আছে তের বছর ধরে। ২০০২ সালের কোতোয়ালী থানার একটি ধর্ষণ মামলা শুধু ডাক্তারের সাক্ষ্যের অপেক্ষায় ঝুলে আছে এখনো।
কেন তদন্ত কর্মকর্তা ও ডাক্তারদের সাক্ষ্যদানে এমন অনীহা? এই প্রশ্নের তেমন কোনো সদুত্তর দেয়া পিপি মাহমুদা আক্তারের পক্ষে সম্ভব না হলেও তিনি ধারণার ভিত্তিতে যা বললেন তা হচ্ছে, ‘তদন্ত কর্মকর্তারা মামলার তদন্তের পর, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে পুরো তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই বদলি হয়ে যান। এমন দূরবর্তী স্টেশনে তারা থাকেন যে, আাদলতে এসে সাক্ষ্য দেয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। আবার এসব মামলায় সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের তেমন কোনো চাপও থাকে না। মামলা করা এবং তদন্তের পর্যায়ে নানাভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকে, কিন্তু সাক্ষ্যদানের ক্ষেত্রে তেমন সুযোগ নেই বললেই চলে। তাছাড়া সাক্ষ্য দিতে আসা-যাওয়া বাবত সরকারিভাবে যে টাকা-পয়সা পাওয়া যায় তার চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয়ে যায়।’
একইভাবে ডাক্তাররা আদালতে এসে সাক্ষ্য দিতে অনাগ্রহী। কারণ সাক্ষ্য দিতে যখন তারা ডাক পান তখন অধিকাংশই আদালত থেকে দূরবর্তী কোনো স্থানের হাসপাতালে অবস্থান করেন। প্রায় সব ডাক্তারই প্রাইভেট প্র্যাকটিস করেন। এসব ফেলে সাক্ষ্য দিতে আসা-যাওয়া তাদের কাছে লোকসান বৈ লাভের কিছু নয়! আসা-যাওয়ার ঝামেলার কারণে আদালতে এসে সাক্ষ্য দিতে উৎসাহী হন না অনেক ম্যাজিস্ট্রেটও।
তাছাড়া সাক্ষ্যদানের পর আসামিপক্ষের আইনজীবীদের জেরার মুখে পড়ে বিব্রতবোধ করেন কম বেশি সব সাক্ষীই। একই চিত্র সবকটি ট্রাইব্যুনালেই। সে হিসেবে বলা যায়, প্রায় পাঁচশর মতো এ জাতীয় মামলা শুধুমাত্র ডাক্তার, তদন্ত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটদের সাক্ষ্যের অভাবে ঝুলে আছে ঢাকার পাঁচটি নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে।