নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের প্রাপ্তবয়স্ক সব নারীদের হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকায় অন্তর্ভূক্তি এবং সচেতন করতে ‘সব নারী ভোটার হও’ শিরোনামে একটি প্রচারাভিযান উদ্বোধন করা হয়েছে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে প্রকাশিত হালনাগাদকৃত ভোটার তালিকায় নারী ভোটারের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় বেসরকারি আটটি সংগঠন যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রচারাভিযান উদ্বোধন ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ অ্যালায়েন্স উইমেন লিডারশিপ, ইলেকশন ওয়াকিং গ্রুপ (ইডাব্লিউজি), জাগো ফাউন্ডেশনসহ মোট আটটি সংগঠন এ প্রচারাভিযান চালাবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সম্মেলনে ইডাব্লিউজি ড. আব্দুল আলিম বলেন, ‘ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও নতুন ভোটার অন্তুর্ভূক্তির বিষয়ে ইসি কার্যক্রমকে আমরা সহযোগিতা করতেই এ উদ্যোগ নিয়েছি।’ সাম্প্রতিক প্রতিবেদন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনে ২০১৪ সালে হালনাগাদ তথ্যে দেখা গেছে ৪৪ শতাংশ নারী ভোটার ২০১১ সালের আদমশুমারী অনুযায়ী মোট জনসংখ্যার ৪৯.৯৪ অংশ নারী ছিলেন। কিন্তু আদমশুমারি পর্যালোচনায় দেখা যায় নারীদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ভোটার তালিকায় আসেনি। সর্বশেষ এবছর ২ ফেব্রুয়ারি দেখা গেছে ৫ লাখ ৫৮ হাজারেরও বেশি নারী ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। ২০০৮ সাল থেকে এ প্রবণতা শুরু হয়েছে।’ এমন চলতে থাকলে এবং তালিকা থেকে বিপুল সংখ্যক নারী বাদ পরলে ভোটার তালিকার সততা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মহিলা পরিষদের সা. সম্পাদক মালেকা বানু বলেন, ‘হালনাগাদ তথ্যে কেন এত নারী বাদ পড়ছেন, বুঝতে হবে সঠিক ভোটার তালিকা করা হয়নি। নারী ভোটার কমে নারীর ক্ষমতায়নের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি হবে। এবং নারীরা সুযোগ বঞ্চিত হবেন।’
নারীদের বাদ পরার পেছনে যথাযথ কারণ ক্ষতিয়ে দেখতে নির্বাচন কমিশনকে আহ্বান জানান তিনি। প্রচারাভিযানের তথ্যের জন্য www.womencountbd.org নামের একটি ওয়েবসাইটও খোলা হয়েছে। এখানে এ বিষয়ে নানা তথ্য জানা যাবে।

