নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৫-১৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে কথামালার বাজেট বলে আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। এ বাজেটের ফলে নিত্য পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়বে। এটা বাস্তবায়ন করা করা সম্ভব নয়। তাছাড়া বাজেট কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে তাও সুস্পষ্টভাবে উঠে আসেনি বলে দলটির দাবি।
শুক্রবারে বিকেলে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব বলেন।
এর আগে এ সংবাদ সম্মেলনকে বাজেট পরবর্তী দলের প্রতিক্রিয়া নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বাজেটের আগে অর্থমন্ত্রী একটি দৈনিক পত্রিকায় সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া রাজনীতি থেকে ফিনিশ হয়ে গেছেন বলে যে মন্তব্য করেছেন তার প্রতিক্রিয়া জানাতে এ সংবাদ সম্মেলন ডাকা হয়েছে। অর্থমন্ত্রীর এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় বলতে চাই, একজন রাবিশ ও অর্বাচিন বালকের মুখেই এ ধরনের কথা মানায়। আর রাবিশ শব্দটি তিনি নিজেই প্রচলন করেছেন।’
তবে বিগত দিনের বাজেট এবং বর্তমানের বাজেটে যে ভর্তুকির কথা উঠে এসেছে এজন্য তিনি অর্থমন্ত্রীকে দায়ী করেন এবং বাজেটের বিভিন্ন দিক নিয়েই পুরো সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আগের বাজেটে জিডিপির হার ৬ শতাংশ ধরা হয়েছিল। এবার তা ৭ শতাংশ ধরা হয়েছে। কিন্তু এটাকে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে বলা হচ্ছে বলে বিএনপি মনে করে।’
শিক্ষাখাতে যে ১০ শতাংশ ভ্যাট বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে তা বাতিল করার জন্য বিএনপির পক্ষ থেকে তিনি দাবি জানান।
তিনি আরো বলেন, ‘সরকার কৃষি ক্ষেত্রে উন্নয়নের ফুলঝুরি সাজালেও প্রতি বছরই কৃষিতে ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। এবাজেটেও কৃষি খাতের উন্নয়নের কথা বলা হলেও মূলত একে কৃষি, ছাত্র ও বিনিয়োগ বান্ধব বলা যায় না। এটি আসলে কল্পনা বিলাসী ও কথামালার বাজেট।’
রিপন বলেন, ‘তবে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক আবহাওয়া তৈরি করতে না পারলে এ বাজেট বাস্তবায়ন করা অসম্ভব।’
বর্তমান বাজেটে প্রতিটি খাতে যে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তা শাসক দলের পকেটে যাবে। আর সে কারণেই মূলত এ বাজেট দেয়া হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য খাতের বাজেট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ খাতে ৪ দশমিক ৩ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। কিন্তু এটা যথেষ্ট নয়। এ খাতে ৬ শতাংশ বরাদ্দ করা উচিৎ ছিল বলে আমরা মনে করি।’
এ অবৈধ সরকারের বাজেটের বিপরীতে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবেন না বলে আপনি গতকাল বলেছিলেন। কিন্তু আজ বাজেট সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া দিচ্ছেন। তাহলে কি এ সরকারকে আপনারা মেনে নিয়েছেন? এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘সরকারকে মানা বা সংসদকে না মানা একথা ঠিক নয়। দেশে একটি সরকার রয়েছে, তাদের তো মানতেই হবে। কিন্তু আমরা বলছি বর্তমান সরকার ও সংসদে কোনো জনপ্রতিনিধিত্ব নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন, বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক খায়রুল কবির খান খোকন, সহ দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করিম শাহিন প্রমুখ।

