রংপুর প্রতিনিধি
জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ থেকে অব্যাহতির বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, ‘আজ হোক কাল হোক আমরা আবার এক হয়েই যাবো। এতে কোনো ভুল নেই। আমি জাতীয় পার্টি থেকে অন্য কোনো দলে যাচ্ছি না, যাবো না বা যাওয়ার সম্ভাবনাও নেই।’
সোমবার সকালে রংপুর সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
জাতীয় পার্টিতে বিভক্তি প্রসঙ্গে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, ‘যদি স্বামী-স্ত্রী হিসেবে এরশাদ ও রওশনের বিচ্ছেদ হতো, তাহলে দল ভাঙার সম্ভাবনা ছিল। যেহেতু তারা এখনো স্বামী-স্ত্রী হিসেবে আছেন, বিচ্ছেদ হয়নি। সুতরাং জাতীয় পার্টিও বিভক্ত হওয়ার সুযোগ নেই।’
এরশাদের ‘ভাগ্নে’ হিসেবে পরিচিত জাপার এই নেতা বলেন, ‘জাতীয় পার্টিতে কোনো ভেদাভেদ নেই। ভুল বোঝাবুঝি নেই। কিছু সুবিধাবাদী নিজ স্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য এই কাজগুলো করছেন বা স্যারকে বিভ্রান্ত চেষ্টা করছেন। আমি স্যারকে বিভ্রান্ত করতে চাই না।’
প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ থেকে অব্যাহতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রাঙ্গা বলেন, ‘পার্টির চেয়ারম্যান ৩৯ ধারার ক্ষমতাবলে আমাকে ওই পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। উনি কখনো মনে করলে আমাকে আবার গ্রহণ করতে পারেন।’
সুনীল শুভ রায় স্বাক্ষরিত ওই অব্যাহতি পত্র প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সুনীল শুভ রায়ও এক সময় বহিষ্কার হয়েছিলেন। তার সেই বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার হয়েছিল কিনা আমি জানি না। তাছাড়া তিনি তো আমাদের জাতীয় পার্টির একজন কর্মচারী। সুতরাং তিনি কি দিলেন আর কি বললেন এটা আমার দেখা বিষয় নয়।’
এ সময় তার সঙ্গে সহধর্মিনী সঞ্চিতা রহমান, জেলা জাপার সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ খাঁন, গঙ্গাচড়া জাপার সভাপতি সামসুল আলম, জেলা যুব সংহতির সভাপতি হাজী আব্দুর রাজ্জাক, সেক্রেটারি হাসানুজ্জামান নাজিম, জেলা ছাত্র সমাজের সভাপতি আশরাফুল ইসলাম জবা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ১০ সেপ্টেম্বর জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য পদ থেকে তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও মসিউর রহমান রাঙ্গাকে অব্যাহতি দেন দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।
বর্তমানে তাজুল ইসলাম বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও মসিউর রহমান স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন।
এ বিষয়ে এরশাদের ব্যক্তিগত সহকারী মেজর (অব.) খালেদ জানান, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে দলের গঠনতন্ত্রের ৩৯ ধারা অনুযায়ী তাজুল ইসলাম চৌধুরী ও মসিউর রহমান রাঙ্গাকে প্রেসিডিয়াম পদ থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান এরশাদ। সেইসঙ্গে রংপুর ও কুড়িগ্রাম জেলা কমিটিকে বিলুপ্ত করা হয়েছে। তবে দলে তাদের সদস্য পদ বহাল থাকবে।

