
নিজস্ব প্রতিবেদক :
‘বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ব্যক্তি স্বার্থের প্রশ্নে রঙ বদলান’ বলে মন্তব্য করেছেন দলটির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী আহমেদ।
তিনি বলেন, ‘মওদুদ আহমদ নিজের বাড়ি রক্ষার জন্য ক্ষমতাসীনদের সন্তুষ্ট করতে তার সদ্য প্রকাশিত বইয়ে নানা কথা লিখেছেন। একজন দলছুট, নীতিছুট, আদর্শছুট মানুষের ছাপানো বইয়ের বক্তব্যে কিছু আসে যায় না।’
সোমবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন রিজভী আহমেদ।
‘বাংলাদেশ: ইমারজেন্সি অ্যান্ড দি আফটারম্যাথ: ২০০৭-২০০৮’ বইটি না পড়লেও বিদেশ থেকে গণমাধ্যমে বইটি সম্পর্কে জেনেছেন তিনি।
বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদ, ওয়ান ইলেভেনের প্রেক্ষাপটের বিষয়ে মওদুদ আহমেদ যা লিখেছেন তার প্রতিক্রিয়ায় রিজভী বলেন, ‘২০০৬ সাল পর্যন্ত মওদুদ আহমেদ কোন সরকারের মন্ত্রী ছিলেন? যদি জঙ্গিবাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা থেকে থাকে তাহলে তিনি পদত্যাগ করেননি কেন?’
তিনি বলেন, ‘তিনি লিখেছেন, বেগম খালেদা জিয়া তার সন্তানদের মুক্তির জন্য চেষ্টা করেছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যে সময় মুক্তি পেয়েছিলেন সে সময় তো দেখা গেলো ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ সাহেবও মুক্তি পেয়েছিলেন। এর ২/৩মাস পর বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও মুক্তি পেয়েছিলেন।’
রিজভী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার ওপর অনেক চাপ ছিল। তিনি তাদের কথা শোনেননি বলে তার ছেলেদের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। তার বড় ছেলে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লন্ডনে চিকিৎসাধীন। তিনি এখন খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটেন।’
মওদুদের বইয়ের বক্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক আখ্যা দিয়ে মওদুদকে ফাস্ট ফুডের সাথে তুলনা করেন রিজভী আহমেদ।
মওদুদকে সুবিধাবাদী, ডিগবাজ অবিহিত করে তিনি বলেন, ‘একটি কাক সাত সমুদ্র পাড়ি দিয়ে গেলেও সে কাকই থেকে যায়।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির জন্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন এবং এর প্রতিবাদ জানিয়ে রিজভী বলেন, ‘সরকারি দলের নেতাদের বিরুদ্ধে যে মামলা রয়েছে তা হাইড্রোজেন বেলুনের মতো উড়ে যাচ্ছে। আর বিরোধী নেতাকর্মীদের হয়রানিমূলক মামলা দেয়া হচ্ছে।’
তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর সমালোচনা করে রিজভী আহমেদ বলেন, ‘মন্ত্রীত্ব ধরে রাখতে এবং প্রধানমন্ত্রীর মনোরঞ্জন করতে বিএনপি চেয়ারপারসনের সমালোচনা করছেন তিনি।’
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সালাম, নগরের সদস্য সচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিএনপি’র স্ব-নির্ভর বিষয়ক সম্পাদক রুহল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, সহ-দপ্তর সম্পাদক আব্দুল লতিফ জনি, আসাদুল করীম শাহিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) থেকে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশ: ইমারজেন্সি অ্যান্ড দি আফটারম্যাথ: ২০০৭-২০০৮’ বইটি মওদুদ লিখেছেন কারাবন্দী থাকা অবস্থায়। ইংরেজিতে লেখা বইটিতে মওদুদ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযান, দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের নামে সেনা কর্মকর্তাদের কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি দমন কমিশনের অবস্থা, বিচার বিভাগ, অর্থনীতি, রাজনৈতিক সমঝোতা, সেনাপ্রধান মইন উ আহমেদের ভূমিকা এবং ২০০৮-এর জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেছেন।
মওদুদ আহমদ তার বইয়ে লিখেছেন, খালেদা জিয়ার কাছে ওই সময় তার দুই সন্তান তারেক ও কোকোর ভাগ্যই ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো আলোচনায় যেতে রাজি ছিলেন না খালেদা জিয়া। নানা রকম চাপেও অনড় ছিলেন বিএনপির চেয়ারপারসন। সে সময়ে দেশের মানুষের নেত্রী, বিএনপির চেয়ারপারসন কিংবা একজন রাজনীতিবিদের চেয়েও একজন মা হিসেবে দুই সন্তানের মুক্তির বিষয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন খালেদা জিয়া।
ছায়া সামরিক সরকারের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সমঝোতা প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে মওদুদ আহমদ লিখেছেন, প্রচণ্ড আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে খালেদা জিয়া তার মাথা উঁচু করে রেখেছিলেন। হাঁটুতে তার গুরুতর সমস্যা থাকলেও তিনি দেশ ছাড়ার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। তিনি দেশেই চিকিৎসা নিতে চেয়েছিলেন। যে কোন ধরনের প্যারোলেও অনিচ্ছুক ছিলেন তিনি। খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে চারটি দুর্নীতির মামলা ছিল। কিন্তু তার কোনটিতেই বিচারকাজ শুরু হয়নি। সে কারণে খালেদা জিয়া আশা করেছিলেন যথাযথ আইনি প্রক্রিয়াতেই তিনি মুক্তি পাবেন। শেখ হাসিনার মতো সরকার থেকে কোন ধরনের সুবিধা নেয়ার পক্ষপাতী তিনি ছিলেন না।

