ঢাকাMonday , 5 October 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঠাকুরগাঁওয়ে আলুর দামে ধস, ২০ টাকার আলু ১৪

Link Copied!

হিমাগারে সংরক্ষণ করে ভালো দামে আলু বিক্রির আশায় ছিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের কৃষক ও ব্যবসায়ীরা। কিন্তু সেই আশায় এখন যেন গুড়েবালি। হিমাগার ভাড়া, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর দাম পড়েছে ১৯ থেকে ২০ টাকা। অথচ বর্তমানে বাজারে সেই আলু বিক্রি হচ্ছে মাত্র ১৪ টাকা কেজি দরে। ফলে প্রতি কেজি আলুতে ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি মৌসুমে মাঠপর্যায়ে আলুর দাম তুলনামূলক কম থাকায় ভবিষ্যতে দাম বাড়ার আশায় অনেকে আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেন। মৌসুমে প্রতি কেজি আলু ১০ থেকে ১২ টাকা দরে কেনাবেচা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বাজারে প্রত্যাশিত দাম না বাড়ায় হিমাগারে সংরক্ষিত আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তারা। ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি এলাকার কৃষক আরমান হোসেন বলেন, “মাঠে আলুর দাম কম থাকায় হিমাগারে রেখেছিলাম। ভেবেছিলাম পরে দাম বাড়লে খরচ উঠে লাভ হবে। কিন্তু এখন হিমাগার ভাড়া ও অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ১৯ থেকে ২০ টাকা পড়েছে। সেই আলু ১৪ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে।” রানীশংকৈল উপজেলার কৃষক ও ব্যবসায়ী মো. ওহাব বলেন, গত দুই-তিন মৌসুম ধরে আলু চাষ ও হিমাগারে সংরক্ষণ করে লোকসানের মুখে পড়ছেন তারা। এবারও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এতে তার পুঁজি হারানোর উপক্রম হয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে কৃষকরা ভবিষ্যতে আলু চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। কৃষকদের স্বার্থে সরকারকে আলুর বাজারদর সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখতে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তিনি। সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর গ্রামের ব্যবসায়ী শামসুজ্জোহা বলেন, এ সময়ে হিমাগার থেকে প্রচুর পরিমাণে আলু বের হওয়ার কথা থাকলেও বাজারে চাহিদা কম থাকায় তা হচ্ছে না। এখনো প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আলু হিমাগারে পড়ে আছে। দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব না হলে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের লোকসান আরও বাড়বে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ঠাকুরগাঁওয়ে ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে প্রায় ৩৭ হাজার হেক্টর জমিতে। এর মধ্যে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু চাষ হয়েছে। জেলায় আলু সংরক্ষণের জন্য রয়েছে ১৯টি হিমাগার। এসব হিমাগারে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার মেট্রিক টন আলু মজুদ রয়েছে। বাজারে চাহিদা কম থাকায় ধীরগতিতে আলু বের হচ্ছে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি হিমাগার মালিকরাও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। শাহী হিমাগারের ম্যানেজার মো. আল আমিন বলেন, আলুর বাজারদর কম থাকায় হিমাগার মালিকরাও চিন্তিত। হিমাগার থেকে আলু বের না হলে কৃষক, ব্যবসায়ী ও হিমাগার মালিক—সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আলুর বাজারে মন্দার প্রভাব পড়েছে হিমাগারের শ্রমিকদের ওপরও। শ্রমিকরা জানান, হিমাগার থেকে আলু ওঠানো-নামানোর কাজ কমে যাওয়ায় তাদের আয়ও কমে গেছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আলমগীর কবির বলেন, কৃষকেরা লাভের আশায় আলু হিমাগারে সংরক্ষণ করেছিলেন। বর্তমানে আগের তুলনায় বাজারদর অনেক কম থাকায় তারা লোকসানের মুখে পড়েছেন। কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, লোকসান কমাতে দ্রুত হিমাগারে সংরক্ষিত আলু বাজারজাতের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি অতিরিক্ত আলু রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হলে বাজারে সরবরাহের চাপ কমবে এবং হিমাগারে পড়ে থাকা আলু দ্রুত বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে। এতে কৃষক ও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।