নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনকারী বিচারক বাসুদেব রায়ের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিলের দুই আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। রোববার প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ মোজাম্মেল হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
এ সময় আদালতে খালেদার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এজে মোহাম্মদ আলী, জয়নুল আবেদীনসহ বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আর দুদকের পক্ষে ছিলেন খুরশিদ আলম খান।
আইনজীবী জয়নুল আবেদীন সাংবাদিকদের বলেন, আপিল বিভাগ খালেদার করা দুটি আপিল খারিজ করে দিয়েছেন। এখানে আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট রয়েছে। এর কারণে এ আদেশের বিরুদ্ধে রিভিউ আবেদন করা হতে পারে।
এছাড়া খালেদার জিয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেয়ার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা আরো দুটি আপিল রয়েছে। এই আপিল দুটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমরা বিচারিক আদালতকে বলবো।
দুদকের দায়ের করা জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ফান্ড মামলায় এ বিচারক খালেদার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন।
গত ৭ জুলাই খালেদার পক্ষে তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এ লিভ টু আপিল দায়ের করেন।
এদিকে ঢাকা বিশেষ জজ আদালতে বিচারক বাসুদেব রায়ের নিয়োগের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করলে গত ১৯ জুন বিচারপতি কাজী রেজা-উল হকের একক বেঞ্চ তৃতীয় বেঞ্চ হিসেবে তা খারিজ করে দিয়ে আদেশ দেয়।
এর আগে গত ২৫ মে খালেদা জিয়ার এ রিট আবেদনের বিষয়ে দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দেন হাইকোর্টের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ।
জ্যেষ্ঠ বিচারপতি ফারাহ্ মাহবুব বিচারিক আদালতে মামলা দু’টির কার্যক্রমের ওপর তিন মাসের স্থগিতাদেশ দেন ও পাশাপাশি রুল জারি করেন। রুলে মামলা দু’টির অভিযোগ গঠনকারী বিচারক বাসু দেব রায়ের নিয়োগকে কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চাওয়া হয়।
অপরদিকে কনিষ্ঠ বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দ খালেদা জিয়ার রিট আবেদনটি খারিজ করে দেন। দ্বিধাবিভক্ত আদেশ দেয়ায় প্রধান বিচারপতি তৃতীয় বেঞ্চ হিসেবে কাজী রেজা উল হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ নির্ধারণ করেন রিট দুটির নিষ্পত্তি করতে।
গত ১২ মে খালেদা জিয়ার পক্ষে অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান এ রিট আবেদন দায়ের করেন। রিট বিবেচনাধীন থাকা পর্যন্ত মামলা দু’টির বিচারিক কার্যক্রমের ওপর স্থগিতাদেশও চাওয়া হয়।
গত ১৯ মার্চ খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ফান্ড মামলায় অভিযোগ গঠন করে ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-৩ এর বিচারক বাসুদেব রায়।


