নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারের প্রতি আবারও সংলাপের আহ্বান জানিয়ে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ‘আলোচনার মাধ্যমে সকলের অংশগ্রহণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন পরিচালনার উপযোগী একটি নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকার কাঠামোর ব্যাপারে সমঝোতা আসার আহ্বান জানাচ্ছি। তা না হলে রাজপথে উত্তাল আন্দোলনে যাবে বিএনপি।’
শনিবার দুপুরে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে প্রকৌশলী মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
বেগম খালেদা জিয়া বলেন, ‘আমরা একটি সহিস্নু গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল। আমরা দেশের শান্তি সংঘাত, অস্থিরতা এবং রাজপথের উত্তাল আন্দোলনে সহসা যেতে চাই না। তবে আন্দোলনের সব পথ বন্ধ করে দিলে রাজপথ বেছে নেয়া ছাড়া এ দেশের জনগণের সামনে আর কোনো পথ খোলা থাকে না।’
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর কথা নিশ্চয় আপনারা ভুলে যাননি। ৫ তারিখের প্রহসনের নির্বাচনকে সংবিধানিক বাধ্যবাধ্যকতার নির্বাচন বলেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এরপরও আলোচনা চলবে এবং একটি সমঝোতা হলে সংসদ ভেঙে দিয়ে নতুন করে নির্বাচন করা যাবে। এখন সেই অঙ্গিকার ভুলে গিয়ে তিনি আলোচনায় বসতে অস্বীকার করছেন। আমরা এখনো এবং আমি আজ আবারও তাদেরকে আলোচনা ও সংলাপে ফিরে আসতে আহ্বান জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষ এমন একটি সংলাপের জন্য অনির্দিষ্ট কাল বসে থাকবে বলে মনে করার কোনো কারণ নেই। আমরা এখন আমাদের সংগঠনগুলোকে প্রস্তুত ও বিন্যাস্ত করছি। সামাজিক শক্তিগুলোকে সমন্বিত করছি। জনগণের কাছে যাচ্ছি। আমাদের বক্তব্য তুলে ধরছি। তাদের মতামত শুনছি। এই পর্বের পর সংলাপের উদ্যোগ না নিলে জনগণের দাবি আদায়ের চাপ প্রয়োগের জন্য দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে শিগগিরই রাজপথের আন্দোলনে নামতে হবে।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নগ্ন দলীয়করণ ও অবাঞ্ছিত হস্তক্ষেপে ভূলুণ্ঠিত। মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত। এখন আবার সুপ্রিমকোর্টের বিচারকদের অপসারণের ক্ষমতা অবৈধ ও অনির্বাচিত সংসদের হাতে নেয়ার উদ্যোগ চলছে।’
খালেদা বলেন, ‘সেই ক্ষমতা আজ আবার অনির্বাচিত অবৈধ সংসদের হাতে ন্যস্ত করা হচ্ছে। এতে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা আরো খর্ব হবে। ন্যায়বিচারের সুযোগ আরো সংকুচিত হয়ে পড়বে। দেশে নাগরিকদের কোনো অধিকার নেই। সভা-সমাবেশ প্রতিবাদ বিক্ষোভ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা স্বেচ্ছাচারী কায়দায় বন্দী করা হচ্ছে। বিরোধী দলের সভা-সমাবেশের সুযোগ প্রায় নেই বললেই চলে। বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রমের সুযোগও রাখা হচ্ছে না। শাসক দলের লোকেরা অবাধে আইন ভেঙে নানা অপতৎপরতা চালাচ্ছে। সশস্ত্র উপদলীয় সংর্ঘষ ও সন্ত্রাসে লিপ্ত হচ্ছে।’

