নেত্রকোনা-৪ (মদন-মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরী) আসনে নির্বাচনি প্রচারণা এখন তুঙ্গে। সংসদ নির্বাচনে আসনটি সবসময়ই বিশেষ গুরুত্ব বহন করে চলেছে। এখানে যে দলের প্রার্থী জয়ী হয়েছে সেই দলই সরকার গঠন করেছে। গত ১২টি সংসদীয় নির্বাচনে এই ধারাবাহিকতা চলে আসছে।
আসনটিতে বিএনপি থেকে ধানের শীষ নিয়ে লুৎফুজ্জামান বাবর, বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী থেকে মো. আল-হেলাল তালুকদার (দাঁড়িপাল্লা), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে মো. মুখলেছুর রহমান (হাতপাখা), বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) থেকে জলি তালুকদার (কাস্তে) ও বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টি থেকে চম্পা রানী সরকার (কোদাল) প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
লুৎফুজ্জামান বাবরের আসন হিসেবে পরিচিত আসনটির প্রতিটি ওয়ার্ডে বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। কর্মীরা এখন দিন-রাত ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাইছেন। বিএনপির মিছিল ও শো-ডাউনে এলাকায় নির্বাচনি আবহ বেশ জমে উঠেছে।
লুৎফুজ্জামান বাবর ১৯৯১ (পঞ্চম), ১৯৯৬ (ষষ্ঠ) ও ২০০১ (সপ্তম) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি নির্বাচিত হন। তিনি বিগত বিএনপি সরকারে স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। তবে ১৯৯৬ সালের পুননির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী আব্দুল মমিনের কাছে হেরে যান।
লুৎফুজ্জামান বাবর বিভিন্ন এলাকায় পথ ও নির্বাচনি সভায় বলেছেন, আমার এলাকায় মাদক জুয়া চিরতরে বিদায় করা হবে। বেকারত্ব দূরীকরণ কৃষকসহ সর্বস্তরের মানুষের সমস্যা সমাধান করে এলাকায় উন্নয়ন করা হবে।
এছাড়া দাঁড়িপাল্লা নিয়ে বেশ শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন আল-হেলাল তালুকদার। গণসংযোগ, মিছিল, ঘরে ঘরে ক্যাম্পিং নিয়ে শক্ত অবস্থানে রয়েছেন জামায়াত সমর্থকরা।
ময়মনসিংহ মহানগর জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আল-হেলাল তালুকদার প্রচার-প্রচারণায় ও গণসংযোগে বলেন, হাওড় জনপদে মানুষের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য শিক্ষা, যোগাযোগ ও বন্ধ থাকা মোহনগঞ্জ-ময়মনসিংহ লোকাল ট্রেন চালুসহ সার্বিক উন্নয়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) জলি তালুকদার, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মো. মুখলেছুর রহমান ও বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির চম্পা রানী সরকারের তেমন জোর প্রচারণা নেই। আসনে ধানের শীষের প্রার্থী লুৎফুজ্জামান বাবর দীর্ঘ ১৭ বছর কারাগারে থাকার ঘটনাটিকে সাধারণ ভোটারদের খুবই আবেগতাড়িত করে তুলেছে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা যায়, আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮ ভোট। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯০ হাজার ৩১২ ভোট, নারী ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৯৮২ ভোট। তৃতীয় লিঙ্গ ভোটার রয়েছে ১৩ জন। মোট ভোট কেন্দ্র ১৪৯টির মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৪০ কেন্দ্র।

