বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তিনি রাজনীতিকে কখনো অর্থ উপার্জনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেননি; বরং পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করেই রাজনীতির খরচ জুগিয়েছেন। নিজের সততা ও ত্যাগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, “রাজনীতি করে ব্যবসা করি না। বাপের জমিজমা, বাড়িঘর বিক্রি করে রাজনীতি করছি। এটা আপনারা ভালো করেই জানেন।”
গতকাল বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া ইউনিয়নের চন্ডিপুর এলাকায় আয়োজিত এক নির্বাচনী সভায় এসব কথা বলেন তিনি। বক্তব্যের শুরুতে আবেগপ্রবণ হয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তার বাবা চখা মিয়া (মির্জা রুহুল আমিন)-এর রেখে যাওয়া জমির অর্ধেকের বেশি বিক্রি করতে হয়েছে। এমনকি বাড়ির সামনের জমিটিও বিক্রি করে দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আমি নিজে কখনো দুর্নীতির মধ্যে যাইনি। রাজনীতি ব্যবহার করে কখনো অর্থ উপার্জন করিনি। আমার স্ত্রী ও সন্তানরা অত্যন্ত কষ্ট করে লেখাপড়া করেছে, সংসার চালিয়েছে।” নিজের জীবনযাত্রার সাদামাটা চিত্র তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ঢাকায় তিনি যে গাড়িটি ব্যবহার করেন, সেটি প্রায় ২০ বছর আগের পুরনো গাড়ি, যা এখন পর্যন্ত বদলাতে পারেননি।
মির্জা ফখরুল বলেন, তারা কোনো দয়া বা ভিক্ষার ওপর নির্ভর করে বাঁচতে চান না; বরং কাজের সুযোগ সৃষ্টি ও আত্মনির্ভরশীলতার ওপর গুরুত্ব দেন। গত দেড় দশকের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “১৫ বছর ধরে আমরা কোনো কথা বলতে পারিনি। আমাদের শুধু পিটিয়েছে, মামলা-মোকদ্দমা দিয়ে অস্থির করে রেখেছে। সেই দুঃসময় আমরা পার করে এসেছি।” তিনি আরও বলেন, এখন সময় ঘুরে দাঁড়ানোর। সাধারণ মানুষের কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা কাজ করে বাঁচতে চাই। আর এই কাজের যোগ্য হয়ে উঠতে আমাদের প্রশিক্ষণ নিতে হবে।”
সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে মির্জা ফখরুল আসন্ন নির্বাচনে জনগণের সমর্থন ও দোয়া কামনা করেন।

