ঢাকাTuesday , 27 January 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিগত সরকারের আমলে বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে : ডাঃ শফিকুর রহমান

Link Copied!

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি অপরাধ ও অন্যায় করা হয়েছে সাতক্ষীরায়। দেশের অন্যান্য জেলায় এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়নি। বুলডোজার দিয়ে জামায়াতের নেতাকর্মীদের ঘর ভাঙা হয়েছে। তিনি বলেন, তারা কি অপরাধ করেছিল? মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সাতক্ষীরা সরকারি বালক বিদ্যালয় মাঠে নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত ২০১৫ সালে সাতক্ষীরায় এসেছিলাম। মোটরসাইকেলে ঘুরে ঘুরে দেখার চেষ্টা করেছিলাম। সেদিন ঘুরতে আসিনি। এসেছিলাম ৪৫ জন শহীদের পরিবারের খোঁজ নিতে। তাদের মা–বাবার পাশে দাঁড়াতে এসেছিলাম। যেসব মা ও বোনদের বিধবা করা হয়েছিল, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলাম। যে সব শিশু বাবাকে হারিয়ে অন্ধকার দেখছিল, চেয়ে চেয়ে দেখছিল- আমাদের বাবা আসছে না কেন-তাদের চোখের পানি মুছিয়ে দিতে এসেছিলাম। যে সকল যুবকের হাত-পা কেটে নেওয়া হয়েছিল, আমি তাদের প্রশ্নের অংশীদার হতে এসেছিলাম। তাদের মায়ের চোখের পানি দেখেছি, রক্তের ফোঁটা দেখেছিলাম। কিছুসংখ্যক মা বলেছিলেন, আমার সন্তানের কী দোষ? তারা মারল কেন? আমি তাদের বলেছিলাম, আপনার সন্তানের দোষের জবাব আল্লাহ দিয়েছেন। আমি তাদের বলেছিলাম, আল্লাহ ছাড়া কারও কর্তৃত্ব মানি না। প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর। এটাই ছিল আপনার সন্তানের একমাত্র দোষ। ইনশাআল্লাহ আখিরাতে বিচার পাওয়া যাবে।
সমাবেশে তিনি বলেন, ২০১৫ সালে সাতক্ষীরার বিভিন্ন উপজেলায় সফরের সময় স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বলে তিনি বঞ্চনা ও অবহেলার অভিযোগ শুনেছেন। অনেকেই বলেছিলেন, সরকার সাতক্ষীরাকে দেশের অংশ হিসেবে গুরুত্ব দেয়নি। এই জেলার সঙ্গে সৎ মায়ের মতো আচরণ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়ার কারণেই সাতক্ষীরাকে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। তারা ভেবেছিল এই অবস্থা চিরকাল থাকবে। কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা সম্মান দেন, আর যাকে ইচ্ছা সম্মান কেড়ে নেন। ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী দেশের সবচেয়ে নির্যাতিত রাজনৈতিক দল। আমাদের অসংখ্য নেতা-কর্মীকে হত্যা ও গুম করা হয়েছে, অনেককে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। দলের নিবন্ধন ও প্রতীক বাতিল করা হয়েছে এবং একপর্যায়ে দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বহু মানুষকে আটক রেখে নির্যাতন করা হয়েছে। সাতক্ষীরার মানুষের সবচেয়ে বড় ‘অপরাধ’ ছিল ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে অবস্থান নেওয়া। “আমরা বিশ্বাস করি, ইনসাফের পক্ষে যারা থাকে, আল্লাহ শেষ পর্যন্ত তাদের সম্মান দেন। সাম্প্রতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ তারিখে আল্লাহ যখন আমাদের এই অবস্থা থেকে মুক্তি দিয়েছেন, তখন আমরা সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছি। জননিরাপত্তা রক্ষায় নিজ নিজ এলাকায় দায়িত্ব পালনের কথা বলেছি। আমরা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। তিনি জানান, দলের নেতা-কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে-কোনো ব্যক্তির বা রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি করা যাবে না। সাতক্ষীরাসহ সারা দেশে আমাদের নেতা-কর্মীরা চাঁদাবাজি শুরু করেনি। অন্যায়ভাবে কাউকে মামলা দেওয়া হয়নি। যারা অপরাধ করেছে, তাদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দলও গত ১৫ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাংবাদিক, আলেম-ওলামাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। অনেক সময় জুলুমের শিকার মানুষই পরে জালিম হয়ে যায়। তাই ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা জরুরি। সাতক্ষীরার ৪টি সংসদীয় আসনে ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের সরকার গঠনে সমর্থন চান জামায়াত আমির। তিনি বলেন, মদিনা সনদের আদলে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই তাদের লক্ষ্য। ডা. শফিকুর রহমান দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিতদের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো নির্ধারণ করা হবে এবং যারা দেশের জন্য অধিক সময় দায়িত্ব পালন করেন, তাদের ন্যায্য পারিশ্রমিক নিশ্চিত করা হবে। ভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “ভোট মানে দুটি পথ-হ্যাঁ এবং না। হ্যাঁ মানে স্বাধীনতা, না মানে পরাধীনতা।” তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, দেশের তরুণ সমাজ পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সাতক্ষীরার চারটি আসনে দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান। সমাবেশে সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতের আমির শহিদুল ইসলাম মুকুলের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ মুহাম্মদ ইজ্জতউল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের প্রার্থী রবিউল বাশার এবং সাতক্ষীরা-৪ আসনের প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম। সমাবেশে ১০ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আজিজুর রহমান।