বিএনপির মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনে দলটির মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনা দেশে থাকলে অন্তত একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নৌকার কাণ্ডারী হয়েও নেতাকর্মীদের ফেলে ভারতে পালিয়ে গেছেন এবং দেশকে বিপদের মধ্যে ফেলে রেখেছেন।
সোমবার (২৬ জানুয়ারি) বিকেলে সদর উপজেলার বেগুনবাড়ি ইউনিয়ন মাঠ এবং বড় খোচাবাড়ি জগন্নাথপুর এলাকার সবুজ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দীর্ঘদিন পর দেশে ভোটের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এবার ভোট দিয়ে জনগণ সরকার নির্বাচন করবে। এবারের নির্বাচন আগের চেয়ে ভিন্ন। আগে দুটি মার্কা ছিল—ধানের শীষ ও নৌকা। এবার নৌকা নেই। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা থাকলে অন্তত একটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চলত।”
সমাবেশে নিজের নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, নতুন যে মার্কা এসেছে, তার একজন প্রতিনিধি এখানে দাঁড়িয়েছে—দেলাওয়ার। সে এই এলাকারই ছেলে। ভালো ছেলে, তবে বয়স কম। লেগে থাকলে সামনে আরও ভালো করতে পারবে। আমার বয়স হয়েছে, সরকারের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে।
তিনি বলেন, “আমি এমপি ছিলাম, সরকার চালানোর অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। শিক্ষকতা করেছি বলেই সবাই আমাকে ‘স্যার’ বলে। স্যার নামেই আমি পরিচিত। কেউ আমার সম্পর্কে খারাপ কিছু বলতে পারবে না। আমরা রাজনীতির নামে ব্যবসা করি না।”
বিএনপির অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপি একটি বড় দল এবং জনগণের অধিকার রক্ষার দল। বিএনপি মা-বোনদের অধিকার রক্ষা করে।
জামায়াত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তিনি কোনো দল বা পার্টিকে বদনাম করতে চান না। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধই বাংলাদেশের অস্তিত্বের ভিত্তি। যারা সে সময় পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছে এবং স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে না, জনগণ তাদের ভোট দিতে পারে না।
হিন্দু ভোটারদের উদ্দেশে মির্জা ফখরুল বলেন, এ দেশে কোনো সংখ্যালঘু নেই। সবাই বাংলাদেশি নাগরিক এবং সবার অধিকার সমান। কেউ ভয় পাবেন না। সাহস নিয়ে চলবেন। বিএনপি সব সময় পাশে থাকবে এবং নির্বাচিত হলে দেশের সকল নাগরিকের অধিকার রক্ষা করবে।
নির্বাচনী সভায় স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

