রাজধানীর বনানীর শেরাটন হোটেলে শনিবার (১০ জানুয়ারি) আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম অনুষ্ঠানে এসে তারেক রহমান দেশের জাতীয় পর্যায়ের গণমাধ্যমের সম্পাদকদের বিভিন্ন পরামর্শ ও উদ্বেগের কথা শোনেন। সেখানে সিনিয়র সাংবাদিকরাও নিজ আসন থেকে দাঁড়িয়ে মাইকে তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা বার্তাসহ বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন। অনুষ্ঠানে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান,শফিক রেহমান, নূরুল কবির, মাহফুজ আনাম সহ অনেক বরেণ্য সম্পাদকগণ মঞ্চে উঠে বক্তব্য দেন। সবাই নিজেদের মতো করে বললেও উদ্দেশ্যবিহীন কেউ কথা বলেননি এটা স্পষ্ট।
অনুষ্ঠানে আমার দেশ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান তারেক রহমানের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। আপনার চারপাশের লোকজন আপনাকে যা বলছে, আপনি সেটাই শুনছেন। কিন্তু ১৭ বছরের প্রকৃত ইতিহাস এটা না। সেই ইতিহাস আমি আপনার কাছে বর্ণনা করব।’ আগামীতে কোন অনুষ্ঠান করলে ১৫ মিনিটে ৫০ বছরের ইতিহাস বলবো। উনার এই বক্তব্য নোট করেন তারেক রহমান।
মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘জনাব তারেক রহমান আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। আপনি জানেন না, এখানে কী হয়েছে। আপনার বিশিষ্ট লোকজন আপনাকে যা বলেছে এটাই আপনি শুনেছেন। এখন যারা মিডিয়ার নতুন বন্ধুরা আপনাকে যেটা বলছে, সেটাই আপনি শুনছেন এবং আপনি মনে করছেন এটাই বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস। না, এটা ১৭ বছরের ইতিহাস না।
মাহমুদুর রহমান যা বলেছেন তা কি ঠিক বা সঠিক? তিনি আওয়ামী লীগ সরকার আমলে মার খেয়েছেন, রক্তাক্ত হয়েছেন, পালিয়ে ছিলেন ও নির্যাতন, নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এটা সত্য। কিন্তু তারেক রহমান দেশের কিছু জানেন না বা খবর রাখেননি এটা মাহমুদুর রহমানের অজ্ঞতার পরিচয়। অথবা তারেক রহমানের খুব কাছে পৌঁছার একটি কৌশলগত পলিসি। যাতে আগামী সভায় ১৫ মিনিট সময় পেয়ে কৌশলে একটি রাজনৈতিক দলের সাফাই করতে পারেন। মাহমুদুর রহমান যতোটুকু শিখেছেন তার চেয়ে শতগুণ বেশি অভিজ্ঞতা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হয়েছে বলে বিশ্লেষকরা মতপ্রকাশ করেন।
মাহমুদুর রহমানের জ্ঞাতার্থে তারেক রহমানের নেতৃত্বের জুলাই-আস্টের একটি অংশ তুলে ধরা হলোঃ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তারেক রহমানের আদেশ ও নির্দেশে বিএনপি পুরোদমে সক্রিয় হয় জুলাইয়ের ১৩ তারিখের পরে। ১৪ তারিখ তারেক রহমান বিএনপির হাইকমান্ড, ছাত্রদল ও যুবদলের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে গ্রুপে মিটিং করেন। তাদেরকে ঢাকার ১০টি জোনে ভাগ করে কাজ করতে বলেন। প্রাধান্য দেয়া ৪টি জোন শাহবাগ, কাকরাইল, কাওরানবাজার ও ধানমণ্ডি। বাকি ৬টি জোন ঢাকার প্রবেশপথ গুলো ঘিরে তৈরি করা হয়। প্রত্যেক জোনে ছাত্রদলের ১০ জন ও যুবদলের ১০ জনকে দায়িত্ব দেন নেতৃত্ব দিতে। প্রতি জোনে সমন্বয়ের দায়িত্ব পান বিএনপির একাধিক নেতা।
তাদের প্রধান কাজ ছিল ঢাকার আশেপাশের জেলাগুলো থেকে ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীদের ঢাকায় নিয়ে আসা এবং ছাত্রদের রক্ষায় ঢাল হিসেবে পাশে থাকা। একই দিনে তারেক রহমান মির্জা আব্বাসকে নির্দেশ দেন ঢাকায় আসা সকল নেতাকর্মী ও ছাত্রের খাওয়া-দাওয়া ও পানির ব্যবস্থা করতে। ১৫ থেকে ১৮ তারিখ মির্জা আব্বাস ৮ ট্রাক পানি ও দুই ট্রাক প্যাকেটজাত খাবার বিতরণ করেন। পরবর্তীতে আরও অনেক ট্রাক ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা নিয়ে আসেন। এনসিপি ও শিবিরের (ছাত্রশিবির) এখন যারা গর্ত থেকে বের হয়ে গলা উঁচু করছে, তারা কি জানে যে ছাত্ররা মির্জা আব্বাসের খাবার খেয়ে রাস্তায় ছিল?
১৫ জুলাই দলের হাইকমান্ডের সদস্যদের সাথে তারেক রহমান একাধিক মিটিং করেন। সেখান থেকে জেলা কমিটিগুলোকে সক্রিয় করার ও প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিএনপিপন্থি পরিবহন ব্যবসায়ীদের অনুরোধ করা হয়, জেলা পর্যায়ের সকল নেতাকর্মীর ঢাকায় আসা ও জেলা/থানা শহরে যাতায়াতের ক্ষেত্রে যেন সর্বোচ্চ সহায়তা করা হয়। ১৬ জুলাই থেকে জেলা ও থানা বিএনপি এবং স্থানীয় ছাত্রদল/যুবদল আন্দোলনে সংঘবদ্ধভাবে অংশ নেওয়া শুরু করেন। সেই সময়ে জেলা শহরগুলোতে প্রশাসনে যারা কর্মরত ছিলেন, তাদের বড় অংশই এসপি ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার। তারা অনুরোধ করেন, যেন ছাত্রদের উপর কোনো গুলি চালানো না হয়। তারা যেন অন্তত বেআইনি কোনো নির্দেশ পালন না করেন। জেলা শহরে মাঠপর্যায়ে পুলিশ কাজ করে মূলত এসপি সদর সার্কেলের কমান্ডে।
২০ জুলাইয়ের পর থেকে সারাদেশে আন্দোলনের নিয়ন্ত্রণ সামষ্ঠিকভাবে বিএনপির হাতে চলে যায়। এই সময়টাতে তারেক রহমান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মির্জা আব্বাস, ড.মোশাররফ, সালাউদ্দিন আহমেদ, হাবীবুন্নবী সোহেল, সুলতান সালাউদ্দিন টুকুসহ বহু দলীয় কর্মী ছাড়াও ফেসবুক এক্টিভিস্ট ও ইউটিউবার এবং বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করেন। ছাত্রদের রক্ষায় তারেক রহমানের হয়ে লন্ডন প্রবাসী ড. ফয়েজ উদ্দিন এমবিই সহ অনেকেই তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি চালাচালি করেন। এ ব্যাপারে ড. ফয়েজ উদ্দিন শতাধিক চিঠি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পাঠান।
জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে তারেক রহমান বিএনপি পন্থি চিকিৎসক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের সাথে একাধিক মিটিং করেন। চিকিৎসকদের নির্দেশ দেন, যে কোনো মূল্যে আন্দোলনে আহতদের সর্বোচ্চ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে। ঢাকা ও জেলা পর্যায়ের অনেকগুলো বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার তখন এ কাজে সংযুক্ত হয়েছিল। বিএনপিপন্থি বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষকরা আহতদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব নিয়েছিলেন।
৩ আগস্ট রাতে তারেক রহমান জেলা পর্যায়ের নেতাদের সাথে একাধিক মিটিং করেন। নির্দেশ দেন যে কোনো মূল্যে সর্বোচ্চ মানুষ নিয়ে ঢাকায় প্রবেশ করতে হবে। ৪ আগস্ট ভোর থেকেই নারায়ণগঞ্জ, চিটাগাং রোড, গাজীপুর, সাভার, দোহার, বিক্রমপুর, এসব এলাকায় লাখ লাখ বিএনপি ও ছাত্রদলকর্মী জড়ো হতে থাকেন।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের সাথে সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকে ছাত্রদল ও বিএনপির আলাদা একটি দল। ঢাকায় তাদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন মির্জা আব্বাস। ঢাকার শাহজাহানপুর, উত্তরা, যাত্রাবাড়ি, আব্দুল্লাহপুর ও দোহারের হাজার হাজার বাসাবাড়িতে তখন বিএনপির কর্মীরা রাত কাটিয়েছে। সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সোহেল ও এ্যানি নিজের জীবনবাজি রেখে তারেক রহমানের হুকুম পালন করেছেন।
ছাত্র সমন্বয়কদের সাথে ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেন ছাত্রদল সভাপতি রাকিব, সাধারণ সম্পাদক নাসির, ও আমান উল্লাহ আমান। এই পুরো প্রক্রিয়ায় শিবির বা জামায়াতের কাউকে সামনে খুঁজে পাওয়া যায়নি। বরং কিছু উপলক্ষে ছাত্রদলের যোগাযোগের প্রেক্ষিতে শিবিরের সে-সময়ের কিছু নেতা গা-বাঁচানো জবাব দিয়েছিল এবং অনেকেই ছাত্রলীগ সেঁজে ছাত্র-জনতাকে পেটাচ্ছিল।
ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বাকের হোসাইন বিএনপির নয়া চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর ফেইসবুক পোস্টে লিখেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আপসহীন দেশনেত্রী মরহুমা খালেদা জিয়ার রক্তের উত্তরাধিকার তারেক রহমানোর কাছে যা প্রত্যাশিত ছিলো, তিনি সেই প্রত্যাশা পূরণ করেছেন। সাংবাদিকদের সম্মানিত করে জিয়া পরিবার ও বিএনপি গণমাধ্যমবান্ধব বলে যে বিশ্বাস লালন করে তা আরেকবার সত্য প্রমাণিত করলেন তারেক রহমান। মিডিয়া সেলের প্রধান ডা. আলমগীর পাভেল এবং তারেক রহমানের তথ্য সচিব সালেহ শিবলীকেও ধন্যবাদ জানান এই সাংবাদিক নেতা।
তারেক রহমান ১৯৮১ সালে বাবা হারানোর শোকাবহ এবং ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর মা হারানোর শোকের কথা উল্লেখ করেছেন, যা উপস্থিত সবাইকে শোকবিধুর করেছে। মতবিনিময় অনুষ্ঠানের লক্ষ্য ঠিক কি ছিলো তা নিশ্চিত ও সুনির্দিষ্টভাবে একমাত্র আয়োজকরাই বলতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে একাধিক মকসুদ থাকা বিচিত্র না,অপরাধও না। তবে প্রধান বিষয় হিসেবে যেটা আন্দাজ করা যায় সেটা হচ্ছে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ১৩ তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে দলের যে নির্বাচনী ইশতেহার তৈরি হচ্ছে সেটাকে অধিকতর সুচারু,সমন্বিত, আধুনিক জনমুখী,আকর্ষণীয় ও গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে সাংবাদিকদের পরামর্শ ও চিন্তাভাবনা ভাগাভাগি করা। অন্যদিকে আগামী নির্বাচনে বিএনপিই ক্ষমতায় আসছে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন এই উপলব্ধির মাঝে লুকিয়ে রেখেই দাওয়াত পাওয়া সাংবাদিকদের মধ্যে খুব কমই অনুপস্থিত ছিলেন। তাদের কথার সুর ও শৈলীতেও ছিলো এর স্বচ্ছ আলামত। বিশেষ করে গত ১৫ বছর যারা নির্যাতিত নিপীড়িত ও বেকারত্ব ঘোচাতে পারেননি তাদেরকে মিডিয়া সেল থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। এ জন্য অনেক ত্যাগিরা তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র প্রতিবাদও করেছেন।
অনুষ্ঠানে তশরিফ আনা বিজ্ঞ সম্পাদক, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা তাদের সুচিন্তিত মতামত দিয়েছেন। মতামতগুলো অনেকাংশে পেশাকেন্দ্রিক। মোটাদাগে বললে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশ তৈরি, গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার নিশ্চিত করা, গণতন্ত্র বিকাশে সাংবাদিকতার গুরুত্ব অনুধাবন, সাংবাদিক বিশেষ করে নারী সাংবাদিকদের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বিধান ও বর্ধিত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ইত্যাদিতেই তাদের বক্তব্য সীমায়িত ছিলো। কেউ কেউ তারেক রহমানের প্রশংসা করেছেন, সেটা সৌন্দর্য ও ভদ্রতা। অবশ্য দলীয় পদধারী কোনো কোনো সম্পাদক পেশা ও রাজনীতি দুটোই সামাল দিতে গিয়ে অথবা স্বভাববশত প্রশস্তি একটু বেশি করেছেন। যা তারেক রহমানের পছন্দ হয়েছে বলে অন্তত তার চেহারা দেখে মনে হয়নি। সম্পাদকদের কেউ কেউ বিশ বছর পর নতুন তারেক রহমানকে দেখেছেন বলে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করলেও বিশ বছর আগের তারেক রহমান আর হালের তারেক রহমানের মধ্যে মৌলতফাৎ। কোন কোন জায়গায় তারা বক্তব্য স্পষ্ট না করে চালাকি করেছেন তাও বুঝতে পেরেছেন তারেক রহমান। কেউ কেউ বিশ্বের পরিবেশ বিপর্যয়, জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সংকট, নদীর নাব্যতা হ্রাস ইত্যাদি বিষয় নিয়ে পরামর্শ দিলেও উপস্থিত দুর্মুখ সাংবাদিকরা এটাকে আসল বিষয় এড়িয়ে যাওয়ার ফন্দি হিসেবে দেখেছেন। একজন অনলাইন সম্পাদক শুভেচ্ছা জানিয়েই আনুমানিক দশ সেকেন্ডে কথা শেষ করেছেন। আরেকজন প্রবীণ সম্পাদক বিবিধ বিষয়ে কথা বলেছেন। একজন নিজস্ব ভঙ্গিতে পতিত স্বৈরাচার আমলে সাংবাদিক নির্যাতনের বিরুদ্ধে কেউ না দাঁড়ানোর দায়ে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অনুযোগ করেছেন। তারেক রহমান দেশের অবস্থা ও পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশেষ লোকদের জানানো ছাঁচে অবহিত বলে মন্তব্য করেছেন। তবে দুজন সম্পাদক এবং মিডিয়া সেল থেকে ভদ্রভাবে নিজ নিজ অংশের সংশোধনী দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমানের বিনয় ও ভদ্রতা ও পরিমিতিবোধের সুষমা সবাইকে আকৃষ্ট ও মুগ্ধ করেছে। বিশিষ্ট সাংবাদিক মরহুম আ,ই,ম ফখরুদদ্দিনের মোহতারামা সহধর্মিণী মমতাজ বিলকিস বক্তব্য শেষে নিজের লেখা একটি বই তারেক রহমানকে উপহার দিতে বাঁক ফেরার সাথে সাথে এক চেয়ার পরে বসা তারেক রহমান যেভাবে উঠে এসে তা গ্রহণ করেন, তা কারো দৃষ্টি এড়িয়ে থাকলে বুঝতে হবে তিনি গোলাপ ফুল দেখার চাইতেও সুন্দর একটি জিনিস থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। তারেক রহমান শুনছেন বেশি, বলবেন কম।
তারেক রহমানের আরো ব্যস্ততা আছে এটা সঞ্চালকদের পক্ষ থেকে আগেই জানিয়ে দেয়া হয়।তারপরও নাতিদীর্ঘ বক্তব্যে তারেক রহমান দেশের অর্থনীতি, বেকারত্ব, নিরাপত্তা,নপরিবেশ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বৈদেশিক কর্মসংস্থান, সামাজিক নিরাপত্তা, নারী উন্নয়ন ইত্যাদি বিষয়ে তার চিন্তা ও পরিকল্পনার নির্যাস তুলে ধরেন। এতা বোঝা গেছে তিনি পর্যাপ্ত গৃহকর্ম (হোম ওয়ার্ক) করেছেন। লন্ডনে নির্বাসিত জীবনের সময়কে পাই পাই হিসাব করে কাজে লাগিয়েছেন। কুরআন মজিদে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ’লা ইরশাদ করেন ” আল্লাহ কোনো সৎকাজের শ্রম বৃথা যেতে দেন না”। নিশ্চয় তিনি তারেক রহমানের শ্রম-সাধনার যথাযথ পুরস্কার দিবেন।
শহীদ প্রসিডেন্ট জিয়াউর রহমান , বেগম খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমান বাংলাদেশের মানুষের নয়ণমনি,প্রাণভোমরা। শহীদ জিয়ার সযত্নে গড়া বিএনপি হচ্ছে সেই দল যার লিখিত গঠনতন্ত্র পড়ার প্রয়োজন কেউ অনুভব করে না,বরং প্রত্যেক মানুষ নিজের মনে একটা কাল্পনিক গঠনতন্ত্র রচনা ভেবে সুখ অনুভব করে “আমার দল এরকম”। দলের জন্য মানুষ এতো মজনু হওয়ার ইতিহাস স্বার্থপর এই ধরাতে বেশি পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। এটাই বিএনপির অজেয় শক্তি। বিএনপি নেতৃত্বকে এই বিষয়টি যথার্থভাবে উপলব্ধি করার বিনীত অনুরোধ। হৃদয়ের নিভৃত কন্দরে সেই দরদের ছিঁটেফোঁটা অনুভবের রেশ ধরে বলতে চাই (লেখক), মতবিনিময়ের একটা সুন্দর আয়োজন হয়েছে কিন্তু সময় সংকীর্ণতার কারণে হয়তোবা কিছু প্রমাদ দেখা গেছে, যেমন অনুষ্ঠান স্থলের আসনবিন্যাসটা আরেকটু সুন্দর হতে পারতো, প্রথম ও দ্বিতীয় কাতার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের জন্য সংরক্ষিত রাখলে ভালো হতো। কিছু সাংবাদিকের ভালো হোমওয়ার্ক আছে তারা বক্তব্য দিতে পারলে উন্নত কিছু পরামর্শ পাওয়া যেতো। কিছু বক্তার কথায় কোনো সারবত্তা ছিলো না, বিরক্তিকর এটা না হয় বললাম না। সম্পাদকদের মধ্যে দুয়েকজন বক্তব্য দেয়ার সুযোগ পাননি, পেলে অবদান রাখতে পারতেন।
“বাইরের পৃথিবী ডেইলি স্টার-এর চোখে বাংলাদেশকে দেখে ” অনুষ্ঠানে শ্রুত এমন কথা খুবই আপত্তিকর শুধু নয়, বস্তুনিষ্ঠও নয়। ‘ভ্যালেন্টাইন ডে’ নিয়ে সুড়সুড়ি দেয়া খুবই বিপজ্জনক। এটি নিয়ে কথা বলার আগে ইতিহাসের পাতায় তরতাজা দৃষ্টি দিয়ে আসা উচিত। দেশের মানুষ একজন প্রবীণ ও সম্মানিত সাংবাদিক নবতিপর বয়সেও চ্যাবলা ডাকে শুধু এটি দেশে চালু করার কারণে। এ জন্য মাঠের বাস্তবতা (গ্রাউন্ড রিয়্যালিটি) জানতে হবে।
জাতীয়তাবাদী ত্যাগি, নির্যাতিত সাংবাদিকদের ভাষ্য ও বক্তব্য হচ্ছে, বিএনপি ক্ষমতায় যাচ্ছে বলে যে সাঁজসাঁজ রব উঠেছে তা চুলচেরা মূল্যায়ন করে কোনো ফাঁক যাতে না থাকে সে ব্যবস্থা নিয়ে মানুষের উপলব্ধির সফল রূপায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। সংগঠন হিসেবে বিএনপিকে শক্তিশালী করার স্থায়ী নীতি গ্রহণ করতে হবে। যাতে অতীতের মতো কঠিন মুহূর্তে ছারখার হয়ে না যায়। কারণ সাধারণ মানুষের সমর্থন যতো বেশিই থাকুক না কেনো তারা ঝুঁকি নেয় না, ভোট দেয়। নীতি হতে হবে ভোটের জন্য জনগণ, বিপদ কাটাবে কর্মীগণ দক্ষতা, সততা এবং বিশ্বস্ততা রক্ষা করতে হবে। সিদ্ধান্ত গ্রহণে বিচক্ষণতা, সময়ক্ষেপণ না করা। মানুষকে বিশ্বাস না করে উপায় নেই কিন্তু চোখে চোখে রাখতে হবে। কথা অলঙ্কারে মোহিত হওয়া যাবে না। সাংবাদিক অঙ্গনে যোগ্য প্রতিনিধি রাখতে হবে। যাতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা যথাযথভাবে পাওয়া যায়। বিশেষ করে কঠিন সময়ে যারা বিএনপির সাথে ছিলেন। জাতীয়তাবাদী ঘরানার গণমাধ্যম করতে হবে প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক। এসবে নিষ্ঠাবান জাতীয়তাবাদী দক্ষ সাংবাদিকদের নিয়োগ করতে হবে। সাংবাদিকদের দলীয় রাজনীতিতে নিরুৎসাহিত করে পেশায় উৎসাহ দিতে হবে। দলীয় রাজনীতি করাতে গিয়ে মেধাবী সাংবাদিকরা হারিয়ে যাচ্ছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর জামাত-শিবির বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়া, বেসরকারি টেলিভিশন, ডিজিটাল পোর্টাল ও অনলাইন পোর্টাল-এ ইচ্ছেমতো নিজেদের লোক ঢুকিয়েছে। সেই অনুপাতে বিএনপি অনেক পিছিয়ে। যতসামান্য মিডিয়ায় জাতীয়তাবাদী সাংবাদিক যারা চাকরি পেয়েছেন, তারা শুধু নিজেদের আখের গোছানোর চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। বিএনপির মিডিয়া সেলে যারা আছেন, তারাও বিষয় টি গুরুত্ব দিয়েছেন কিনা তাও যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। গত সাড়ে ১৫ বছর ধরে বিএনপিপন্থী শত শত সাংবাদিক এখনো বেকারত্ব ঘোচাতে পারেনি। অনেকের ঢাকা ছাড়ার উপক্রম হয়েছে। অথচ ডিইউজে, বিএফইউজে ও প্রেসক্লাবে যারা নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের অনেকেই এখন আর বেকার নয়। এমনও দেখা গেছে এক সময় স্টাফ রিপোর্টার বা সিনিয়র রিপোর্টার ছিলেন, তারা এখন বড় পদে নিয়োগ পেয়েছেন। এসবের জন্য দায়ী বিএনপিপন্থী নেতারা। ত্যাগি, মেধাবী, যোগ্য ও বঞ্চিত সাংবাদিকরা এখন তারেক রহমানের দিকে তাকিয়ে আছেন। আরেকটি বিষয় হচ্ছে, যারা বিভিন্ন মিডিয়ায় ৫ আগস্টের পর সম্পাদক বা হেড অব নিউজসহ বিভিন্ন পদে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের অনেকেই বিএনপি-জামাত মিশ্রিত। এরা মূলত বিএনপির ঘাড়ে মাথা রেখেই সাংবাদিক নেতা এবং চাকরি নিয়েছেন। এরা বিএনপির মিডিয়া কভারেজ কতোটুকু দিতে সক্ষম হয়েছেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত সাড়ে ১৫ বছর সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া, তারেক রহমান এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে মাঠ পর্যায়ের হাজার হাজার নেতাকর্মী নির্যাতন-নিপীড়ন ও জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। এ সংক্রান্ত একটি স্পেশাল নিউজও এই সকল সুবিধাবাদিরা সংশ্লিষ্ট রিপোর্টারকে এ্যাসাইন দিয়েছেন বলে তেমন নজির নেই। এটি হলে ভোটের বাজারে বিএনপি আরো অনেক বেশি এগিয়ে থাকতো। তবে জামাত-শিবির বিএনপিকে ঠিকই ঘায়েল করেছে। যার প্রভাব পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচন গুলোতে। আরো বিষয় হচ্ছে, বিভিন্ন মিডিয়ায় থাকা আওয়ামী পন্থী সাংবাদিকরা মিশে গেছেন বিএনপি-জামাতের সাথে। অনেক মালিক আগে আওয়ামী লীগের গুণগান করতেন, এখন বিএনপি-জামাতের আস্থা আরজনের চেষ্টা করছেন।
সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম বাবু বলেন, তারেক রহমান মিডিয়ার সাথে কথা বলবেন এটাই স্বাভাবিক। সেই প্রথাকে সামনে রেখেই তারেক রহমান সাংবাদিকদের সাথে কথা বলেছেন। বিএনপির মিডিয়া সেল সাক্ষাৎকারের আয়োজন করেছিলেন, স্বাভাবিক কারণেই দেশের সিনিয়ার সাংবাদিক, সম্পাদক এবং বিএনপির বিট করেন, তারা আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। এছাড়া এমন অনেক সাংবাদিকদের দেখা গেছে, যারা গত সরকারের প্রেস ব্রিফিংয়ে নিয়মিত উপস্থিত হতেন তারাও আমন্ত্রিত হয়েছিলেন। গত সরকারের সময় যারা বিদেশে সফরসঙ্গী হয়েছিলেন তারাও আমন্ত্রিত ছিলেন। বিএনপির মিডিয়া সেল যাদের যোগ্য মনে করেছেন তাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তিনি বলেন, উক্ত অনুষ্ঠানে যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের অনেকে ফেসবুকে বিএনপি চেয়ারম্যানের সাথে নিজের ছবি পোস্ট করে আগের সরকারের মতো তেলবাজির জানান দিচ্ছেন কি? তাহলে তারা কি আওয়ামী লীগ সরকার আমলে যেভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে ছবি তুলে রীতিমতো তদবির বাণিজ্য থেকে শুরু করে সব বাণিজ্যে লিপ্ত হবেন। তারেক রহমানের সাথে সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠানে ছবি তুলে ফেসবুক ভরে ফেলেছেন যারা, তাদের উচিত নেতার মতো আদর্শবান হতে হবে। কেউ যেন দাবি না করেন, আমরা বিএনপি চেয়ারপারসনের লোক। অতীতের মত যদি এমনই হয়ে যায়, তাহলে সাংবাদিক কমিউনিটির জন্য এটা কখনো ভালো লক্ষণ নয়, দল বড় না দেশ বড়, এটা বোঝার ক্ষমতা নিশ্চয়ই সেই সব সাংবাদিকদের রয়েছে। যারা বিএনপি চেয়ারম্যানের সাথে ছবি তুলে পোস্ট করছেন, এটা আসল সাংবাদিকতার লক্ষণ হতে পারে না, এটা শুধু অন্যদের বোঝানো, আমি উনার সাথে ছবি তুলেছি, যেটা লজ্জার বিষয় ছাড়া অন্য কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন সিনিয়র সাংবাদিক খোরশেদ আলম বাবু।

