ঢাকাTuesday , 6 January 2026
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আম-ছালা সবই হারাচ্ছে এনসিপি

॥ ভাষ্যকার॥
January 6, 2026 8:11 pm
Link Copied!

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনী জোটে গিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) দল হিসেবে বড় ধরনের সংকটে পড়েছে। আসন সমঝোতা, আদর্শিক অবস্থান ও দলীয় ভবিষ্যৎ-সব মিলিয়ে এনসিপি যেন ‘আম-ছালা দুইই’ হারানোর পথে। এমনটাই অভিমত প্রবীণ রাজনৈতিকদের।

সূত্রমতে, জোট গঠনের সময় প্রাথমিকভাবে জামায়াত ও এনসিপির মধ্যে প্রায় ৩০টি আসন নিয়ে সমঝোতার কথা শোনা গেলেও সাম্প্রতিক সময়ে সেই সংখ্যা নাটকীয়ভাবে কমে আসছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হচ্ছে, জামায়াত ১০টির বেশি আসন ছাড়তে রাজি নয়। এতে এনসিপির একাধিক আলোচিত ও সক্রিয় নেতা চূড়ান্ত তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যদিও দলীয় সূত্রগুলো বলছে, এই পরিস্থিতি এনসিপির ভেতরে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টি করতে পারে। যদিও নির্বাচনী কৌশলের কথা বলে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি জামায়াত বা এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্ব।

প্রবীণ রাজনৈতিকদের মতে, এই জোটে জামায়াতের লাভ তুলনামূলকভাবে বেশি। এনসিপির তরুণ ও তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী নেতাদের সামনে রেখে জামায়াত নিজেদের দীর্ঘদিনের ‘ধর্মীয় দল’ ইমেজ কিছুটা হলেও পুনর্গঠন করার সুযোগ পাচ্ছে। অন্যদিকে এনসিপির ক্ষেত্রে ঘটছে উল্টোটা।
একসময় যে দলটি ১৯৭১, সংস্কার প্রশ্ন এবং জুলাই সনদ ইস্যুতে জামায়াতকে প্রকাশ্যেই কঠোর ভাষায় সমালোচনা করেছে, সেই দলই এখন একই শক্তির সঙ্গে জোটবদ্ধ! এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম নিজেও অতীতে সংসদীয় সংস্কার ও রাজনৈতিক সংস্কার প্রশ্নে জামায়াতকে দায়ী করেছিলেন সেই বক্তব্য এখন দলটির জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠছে।
এনসিপি দীর্ঘ সময় বিএনপির সঙ্গেও রাজনৈতিক সমঝোতার চেষ্টা করেছিল বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। তবে শেষ পর্যন্ত সে আলোচনা বাস্তব রূপ পায়নি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জামায়াতের সঙ্গে জোট করে এনসিপি ভেবেছিল তারা দরকষাকষিতে শক্ত অবস্থান নিতে পারবে। বাস্তবে উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে। বিএনপি সরে যাওয়ায় এবং অন্য কোনো বড় জোটে জায়গা না থাকায় এনসিপির সামনে এখন কার্যত কোনো বিকল্প পথ খোলা নেই। এই সুযোগেই জামায়াত আসন বণ্টনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে।

আরও গুরুতর অভিযোগ উঠেছে মনোনয়ন নিয়ে। রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, এনসিপি নির্দিষ্ট সংখ্যক আসনের বাইরে অন্য জায়গায় মনোনয়নপত্র দাখিলই করেনি। যদি শেষ পর্যন্ত সেই আসনগুলোও না পায়, তাহলে দলটি নির্বাচনে অংশগ্রহণের বাস্তব সুযোগ হারাবে।

এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা এনসিপির সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতারণার শামিল হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে “সৎ লোকের শাসন”-এর কথা বলা জামায়াতের জন্য এমন অভিযোগ বড় ধরনের নৈতিক প্রশ্ন তৈরি করবে।

অনেকে জামায়াতের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকার কথাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন। ১৯৮৬ সালের নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলা হচ্ছে রাজনৈতিক স্বার্থে অবস্থান বদল জামায়াতের জন্য নতুন নয়।

সব মিলিয়ে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, জামায়াতের সঙ্গে জোট করে এনসিপি দল হিসেবে বিশ্বাসযোগ্যতা, আদর্শিক অবস্থান এবং সাংগঠনিক শক্তি সবকিছুতেই বড় ঝুঁকিতে পড়েছে। আসন সংখ্যা ১০ হোক বা ৩০ এই জোটের মূল্য এনসিপিকে দীর্ঘদিন দিতে হতে পারে বলেই মনে করছেন তারা।