লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: জেলার রায়পুরে প্রভাবশালীদের অত্যাচার থেকে বাঁচতে সন্তানদের নিয়ে ভিটা-মাটি ছেড়ে বিচারের আশায় পথে পথে ঘুরছে বিধবা নুর খাতুন বেগম (৪৫)।
নুর খাতুন ২নং উত্তর চরবংশী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড বকশি বাড়ির মৃত হযরত আলীর স্ত্রী।
এ ঘটনায় বিধবার ছেলে সিরাজ বাদী হয়ে ৪ জনকে আসামি করে থানায় মামলা করে। পরে আসামিদের ভয়ে ওই মামলাটি প্রত্যাহার করে নিতে বাধ্য হন। এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মাতব্বদের কাছে ওই বিধবা বিচার চাইলে পঞ্চাশ হাজার টাকা জামানত ছাড়া বিচার হবে না বলে তারা জানায়।
নির্যাতিত বৃদ্ধা নুর খাতুন সাংবাদিকদের জানান, প্রায় দশ বছর আগে তার স্বামী মারা যান। সেই থেকে ৬ সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছিলেন। কিন্তু একই এলাকার প্রভাবশালী মৃত কাদিম বকশির ছেলে মো. রফিক, বাছের, লিটন ও খালেক বকশিদের সহযোগিতা না চাওয়া ও সম্মান না করায় বিভিন্ন সময় তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হয়রানি করতো। কারণে-অকারণে ওই প্রভাবশালী বিধবা ও তার সন্তানদের বিভিন্ন সময় লাঞ্চিত ও সমাজচ্যুত করার হুমকি দেন।
গত বছরের ২৭ মে রাতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে বিধবার ছেলেকে প্রকাশ্য গ্রামবাসীর সামনে অনৈতিক কার্যকলাপের অভিযোগ এনে বেদম মারধোর করে। পরে স্থানীয় লোকজন নুর খাতুন ও ছেলে সিরাজ মিয়াকে উদ্ধার করে রায়পুর সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করান। পরদিন সকালে ওই প্রভাবশালীরা বিধবার বসতঘর ভাঙচুর, বিশ হাজার টাকা মূল্যের দুইটি গাছ, একটি বাঁশঝাড়, তিন বস্তা নারিকেলসহ প্রায় তিন লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়।
গত বছরের ২৮ মে আহত সিরাজ মিয়া বাদী হয়ে রায়পুর থানায় মো. রফিক, বাছেত, লিটন বকশি ও খালেক বকশিকে আসামি করে একটি এজাহার দায়ের করেন। কিন্তু আসামিরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় টাকার বিনিময়ে পুলিশ ওই মামলাটি যথাযথ তদারকি না করায় তাদের হুমকিতে ওই মামলাটি গত ১০ আগস্ট প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। পরদিন নুর খাতুন ও তার ছেলে সিরাজ নিজেদের বাড়িতে গেলে আবারও তাদের মারধর করে এলাকা থেকে তাড়িয়ে দেন। বর্তমানে ওই বসত ঘরটি জুয়া ও মাদকের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে বলে গ্রামবাসী জানান।
ওই নির্যাতিত বিধবা এ ঘটনায় ইউপি চেয়ারম্যান ও সমাজের মাতবরদের কাছে বিচার চাইলে তারা পঞ্চাশ হাজার টাকা জামানত রেখে বৈঠকে বসার নির্দেশ দেন। এতে রাজি না হওয়ায় বৃদ্ধা নুর খাতুনসহ তার দুই মেয়ে চার ছেলে বাড়িঘর ছেড়ে বিচারের আশায় পথে পথে ঘুরে বেড়াচ্ছেন।
এ ঘটনায় চরবংশী ইউপির ৮নং ওয়ার্ড সদস্য ফখরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে মোবাইল ফোনে বলেন, ‘অভিযুক্তরা এলাকার প্রভাবশালী হওয়ায় ওই নির্যাতিত বিধবা নারীর পক্ষে আমিসহ অন্য কেউ কথা বলার সাহস পায় না। আপনি সাংবাদিক ওই নারীকে সহযোগিতা করবেন।’
এ ঘটনায় ২নং উত্তর চরবংশী ইউপি চেয়ারম্যান খালেদ দেওয়ান বলেন, ‘বিধবা নুর খাতুনকে নির্যাতন, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা আমার জানা নাই। তবে ওই নির্যাতিত বিধবা নারী অভিযোগ দিলে পরিষদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত ফারুকসহ তার সহযোগীরা বলেন, ‘ওই বৃদ্ধাসহ তার ছেলে-মেয়েরা সমাজের খারাপ প্রকৃতির। আমাদের সঙ্গে মিছামিছি ঝগড়া করে। জমি নিয়ে বিরোধ থাকায় ওই নারীর ছেলের আমাদের বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যা মামলা করে। তাই হালকা-পাতলা মারধর দেয়া হয়েছে।’
রায়পুর থানার ওসি একেএম মঞ্জুরুল হক আখন্দ বলেন, ‘নির্যাতিত বিধবা অভিযোগ দিলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

