পাঞ্জেরী ডেস্ক : আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস, প্রাচীন যৌথ সম্পত্তির সমাজের নেতৃত্বদানকারী নারীর শৃঙ্খলিত হওয়ার অমানবিক ইতিহাসের গতিপ্রকৃতি বদলে দেয়ার প্রয়াস। দিকে দিকে আজ শিকল ভাঙার গান। নারী আবার তার মর্যাদার আসন ফিরে পাওয়ার সংগ্রামে নেমেছে। অবশ্য এ সংগ্রামে বয়স কম করে হলেও চারশ বছর। আর সংগঠিত সংগ্রামের ইতিহাস খাতাকলমে আড়াইশ বছর।
এই সময়ের মধ্যে নারী অধিকার আন্দোলন অনেক দূর এগিয়েছে। শিক্ষা, কর্মসংস্থান, মজুরি, সম্পত্তির অধিকার, ভোটাধিকার, সক্রিয় রাজনীতিতে অংশগ্রহণ, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প সাহিত্যের সব শাখায় বিচরণ- এসবে ঈর্ষণীয় সাফল্য দেখিয়েছে নারী। নিজের স্থানটুকু আদায় করে নিয়েছে।
কিন্তু তারপরও দেশে পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় এখনো নারীদের সমান চোখে দেখার মতো মূল্যবোধ তৈরি হয়নি; হয়তো আইন করে তাদের অধিকার সংরক্ষণের চেষ্টা হচ্ছে। এ কারণেই এখনো পারিবারিক নির্যাতন, কর্মক্ষেত্রে, রাস্তায়, গণপরিবহনে যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, অ্যাসিড নিক্ষেপের মতো ঘটনা ঘটে। নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ তৃতীয় বিশ্বের মধ্যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে জাতিসংঘ প্রশংসা করলেও বাস্তব চিত্রটা মোটেও সন্তোষজনক নয়।
যেমন এখনো এদেশে ধর্মীয় বিধি-বিধানের নামে নিগৃহিত, নির্যাতিত হয় নারী। বাল্য বিয়ে কিছুটা কমেছে। তারপরও গ্রামে প্রায়ই হচ্ছে। যৌতুকপ্রথার বলি হচ্ছে অনেক শিক্ষিত নারীও। শিক্ষিতের হার বাড়ার সঙ্গে যৌতুকের স্বরূপটাও বদলেছে। অলিখিত চুক্তিভিত্তিক যৌতুক এখন ‘উপহার’ নামে এক জবরদস্তির সংস্কৃতিতে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের কারণে যৌন হয়রানি ও অ্যাসিডের নিক্ষেপের মতো অপরাধগুলো নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়ছে। এসব অপরাধী প্রায়ই স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনীতিকদের প্রশ্রয় পায়। নারী অধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যানটা দেখলেই অনেকটা পরিষ্কার হবে।
২০১৪ সালে গ্রাম্য সালিশ ও ফতোয়ার শিকার হয়েছে ২৩ নারী। এর মধ্যে মামলা হয়েছে মাত্র ১০টির। এভাবে নিগৃহিত হয়ে আত্মহত্যা করেছেন ৬ জন। এই নিগ্রহের ধরনগুলো হলো- দোরররা মারা, একঘরে করা, ডিভোর্স, শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
অ্যাসিড সন্ত্রাসের ঘটনা ঘটেছে মোট ৪৮টি। মামলা হয়েছে ১৩টি। এর মধ্যে ৬ বছরের কম বয়সী থেকে ৩০ বছরের বেশি বয়সী নারী রয়েছে। এই সহিংসতার কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে: পারিবারিক বিবাদ, যৌতুক, শত্রুতা, জমি নিয়ে বিরোধ, কুপ্রস্তাবে রাজি না হওয়া, কন্যা শিশু জন্ম দেয়া, ধর্ষণ চেষ্টা এবং অজানা কিছু কারণ।
নানাভাবে যৌন হয়রানির শিকার হওয়ার ঘটনা ২৪১টি। এর মধ্যে আবার ১৪৬ জন নারী এবং ৯৫ জন পুরুষ। এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ঘটেছে: আত্মহত্যা, আত্মহত্যার চেষ্টা, প্রতিবাদ করায় হত্যা, বখাটেদের ভয়ে স্কুলে যাওয়া বন্ধ, হয়রানি, বখাটেদের আক্রমণের শিকার।
পারিবারিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ৪৮৮টি। মামলা হয়েছে ২৬১টি। সহিংসতার ধরণগুলোর মধ্যে রয়েছে: স্বামীর হাতে নির্যাতন, স্বামীর পরিবারের লোকদের হাতে নির্যাতন, স্বামী হাতে খুন, স্বামীর পরিবারের লোকদের হাতে খুন, নিজের আত্মীয়ের হাতে খুন এবং আত্মহত্যা।

