ঢাকাSunday , 8 March 2015
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নারীর ক্ষমতায়ন মানেই মানবতার উন্নয়ন

Link Copied!

womens-day1পাঞ্জেরী ডেস্ক : আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। এবারের নারী দিবসের প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে ‘Make It Happens’ বা ‘সম্ভব করে তুলুন’। আর জাতিসংঘের প্রতিপাদ্য হচ্ছে ‘Empowring Women Empowring Humanity: Picture it’ অর্থাৎ নারীর ক্ষমতায়ন মানেই মানবতার ক্ষমতায়ন, আমরা যেন সেটা কল্পনায় বা ছবি করে দেখতে পাই।
১৯৭৫ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়া হয়। এবং তখন থেকেই নিয়মিতভাবে এ দিবসটি পালন করা হয়ে আসছে। যদিও নারী অধিকার আন্দোলনের ইতিহাস আরো প্রাচীন। কিন্তু এতোদিন পরেও নারীর সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান সন্তোষজনক নয়। বিশেষ করে বাংলাদেশে পত্রিকার পাতায় প্রায় প্রতিদিনই ধর্ষণ, নির্যাতন, যৌতুক, অ্যাসিড নিক্ষেপ, গ্রাম্য সালিশি ফতোয়ায় একঘরে করে রাখা, পাচার, কর্মক্ষেত্রে বা বাইরে যৌন হেনস্থা- এসব ঘটনার খবর প্রকাশিত হচ্ছে।
এছাড়া অর্থনৈতিক অবস্থান বিবেচনায়ও নারীরা এখনো বৈষম্যের শিকার হচ্ছে। আন্তর্জাতিক ট্রেড ইউনিয়ন কনফেডারেশনের ২০০৯ সালের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে পুরুষের চেয়ে নারী ১৬ ভাগ পারিশ্রমিক কম পায়। অপর এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, পৃথিবীতে নারীরা কাজ করছে শতকরা ৬৫ ভাগ। অথচ, তার আয় মাত্র দশ শতাংশ। পৃথিবীতে নারী-পুরুষের অনুপাত প্রায় সমান। কিন্তু পৃথিবীর মোট সম্পদের একশ ভাগের মাত্র এক অংশের মালিক নারীরা।
মেয়েদের গৃহস্থালী কাজের আর্থিক স্বীকৃতি এখনও মেলেনি। দিনের আঠারো ঘণ্টা এ কাজে সম্পৃক্ত থাকলেও অর্থনৈতিক মূল্যে তা অদৃশ্যই থাকে। দক্ষিণ এশিয়া, আফ্রিকা ছাড়াও উন্নত বিশ্বের চিত্রটাও অনেকটা একই।
ইতিহাসের পাতায় নারী দিবসের উল্লেখ্যযোগ্য দিনগুলো:
১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে সেলাই কারখানার নারী শ্রমিকরা রাস্তায় নামেন
১৮৬০ সালের ৮ মার্চ নারী শ্রমিকরা সংঘবদ্ধ হয়ে তাদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে নিজস্ব ইউনিয়ন গঠনে ব্যর্থ হয়
১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত প্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনের নেত্রী ক্লারা জেটকিন পুরুষের পাশাপাশি নারীর সম-অধিকারের দাবিটি আরও জোরালো করেন
১৯০৭ সালে জার্মানির স্টুটগার্টে অনুষ্ঠিত হয় প্রথম আন্তর্জাতিক সমাজতান্ত্রিক নারী সম্মেলন
১৯০৮ সালে নিউইয়র্কের সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট নারী সংগঠনের পক্ষ থেকে আয়োজিত নারী সমাবেশে জার্মান সমাজতান্ত্রিক নেত্রী ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়
১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে ১৭টি দেশের ১০০ জন প্রতিনিধি নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলন
১৯১১ সাল থেকে ৮ মার্চ দিনটিকে `নারীর সম-অধিকার দিবস` হিসেবে পালিত হয় ক্লারা জেটকিনের নেতৃত্বে এই সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী
১৯১১ সালের ১৯ মার্চ প্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস উদযাপন করা করা হয়। এই দিনে সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে লক্ষাধিক নারী মিছিল ও সমাবেশের মধ্য দিয়ে এ দিনটি উদযাপন করেন
১৯১৪ সাল থেকে বেশ কয়েকটি দেশে ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালিত হতে থাকে
১৯৪৫ সালে সানফ্রান্সিসকোতে রাষ্ট্রসংঘ স্বাক্ষর করে `জেন্ডার ইকুয়ালিটি` চুক্তিতে নারী অধিকারের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনায় রেখে
১৯৭৫ সালে রাষ্ট্রসংঘ ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে যায়
১৯৭৭ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ পরিষদে ৮ মার্চ নারী দিবস পালনের জন্য উত্থাপিত বিল অনুমোদন পায়
১৯৮৪ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ঘোষণা করে রাষ্ট্রসংঘ। ঐতিহাসিক সংগ্রামের স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রসংঘ এই সিদ্ধান্ত নেয়
২০০৯-এ বিশ্বের ২৯টি দেশে সরকারি ছুটি সহ প্রায় ৬০টি দেশে রাষ্ট্রীয়ভাবে দিবসটি পালিত হয়েছে
২০১০ সালে বিশ্বজুড়ে নারী দিবস পালন করা হয় এবং অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া যায়।
বিশ্বের অনেক দেশে আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি ছুটির দিন হিসেবে পালিত হয় ৮ মার্চ। এরমধ্যে রয়েছে আফগানিস্তান, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বেলারুশ, বুরকিনা ফাসো, কম্বোডিয়া, কিউবা, জর্জিয়া, গিনি-বিসাউ, ইরিত্রিয়া, কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, লাওস, মলডোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনিগ্রো, রাশিয়া, তাজাকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান, উগান্ডা, ইউক্রেন, উজবেকিস্তান, ভিয়েতনাম, জাম্বিয়া। চীন, মেসিডোনিয়া, মাদাগাস্কার, নেপালে এদিন শুধু মেয়েরাই সরকারি ছুটি পায়। অবশ্য বাংলাদেশে এ নিয়ে সরকারি মহল এখনো তেমন কিছু ভাবছে না!