ঢাকাSunday , 30 June 2024
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিএনপিতে তারুণ্যনির্ভর কমিটি গঠনে তোড়জোড়

Link Copied!

বিএনপিতে তারুণ্যনির্ভর কমিটি গঠনে তোড়জোড় চলছে। দলের আস্থাভাজন, শারীরিকভাবে সুস্থ, আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে ভূমিকা রাখতে পারবে এবং রাজনৈতিকভাবে সচেতন- এমন নেতাদের নতুন কমিটিতে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে দলে বেশকিছু রদবদল ও নতুন মুখ কেন্দ্রীয় কমিটিতে স্থান পেয়েছে। এছাড়াও দলের স্থায়ী কমিটির শুণ্যপদসহ কেন্দ্রীয় কমিটিতে শুণ্যপদ পূরণে কাজ চলছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা জানান, আন্দোলনে সফলতা-ব্যর্থতা সংক্রান্ত দলের প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। সে প্রতিবেদনকে অনুসরণ করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটি, জাতীয় নির্বাহী কমিটি, সারাদেশের জেলা ও মহানগর কমিটি এবং কেন্দ্রীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি গঠন-সংক্রান্ত কাজ শুরু করেছেন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের নেতাদের মতামতও নেওয়া হয়েছে।
দলীয় সূত্রমতে মেয়াদোত্তীর্ণ দলের জেলা, মহানগর এবং কেন্দ্রীয় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কমিটি বিলুপ্ত করে ব্যর্থদের বাদ দিয়ে তারুণ্যনির্ভর কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। এরই অংশ হিসেবে একযোগে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, চট্টগ্রাম এবং বরিশাল মহানগর এবং কেন্দ্রীয় যুবদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়। এদিকে বিএনপির অন্তত আরও কয়েকটি জেলা কমিটি যে কোনো সময় ভেঙে দেওয়ারও আভাস দিয়েছে দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।
জানা যায়, সংগঠন পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে ঈদুল আজহার ঠিক আগে জাতীয়তাবাদী যুবদল ও ঢাকা মহানগর বিএনপিসহ একাধিক ইউনিটের কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। ঈদের পরপরই সেখানে কমিটি গঠনের সম্ভাবনা থাকলেও গত ১৫ দিনেও নতুন কমিটি হয়নি। দলের দায়িত্বশীল কয়েকজন নেতা বলছেন, ঈদুল আজহার পরই নতুন কমিটি ঘোষণার সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু ঈদের পর দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়ায় কমিটিকেন্দ্রিক তৎপরতা পিছিয়ে পড়ে। তা ছাড়া তরুণদের দিয়ে নতুন কমিটি গঠনের চিন্তাভাবনা রয়েছে বিএনপির হাইকমান্ডের। দলের এমন মনোভাব জেনে মহানগরের রাজনীতিতে সক্রিয় সিনিয়র নেতারাও কমিটিতে পদ পেতে শেষ মুহূর্তে তৎপর হয়ে উঠেছেন। এর বাইরে দলের প্রভাবশালী কয়েকজন নেতাও নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে জোরালো অবস্থান নেয়ায় এসব ইউনিটের নেতৃত্ব নিয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে বিএনপির হাইকমান্ড এখন পর্যন্ত তরুণ নেতৃত্বের প্রতি আস্থা রাখতে চায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কমিটিতে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে সিনিয়র নেতাদেরও পরামর্শ নিচ্ছে বিএনপি। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের ঘনিষ্ঠদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৭ জানুয়ারি নির্বাচন ঘিরে সরকার পতনের আন্দোলনে কেন্দ্রীয় ও তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের কার কী সফলতা-ব্যর্থতা ছিল, তা নিয়ে একটি প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল। ওই প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর দল পুনর্গঠনে হাত দেওয়া হয়েছে।
এদিকে মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় কেন্দ্রীয় মহিলা দল,স্বেচ্ছাসেবক দল, কৃষক দল, তাঁতী দল, মৎস্যজীবী দল ও শ্রমিক দলের কমিটিও ভেঙে নতুন কমিটি দেওয়ার ঘোষণার চিন্তাধারা চলছে। এ ছাড়া জাসাসেরও নতুন কমিটি যে কোনো সময় ঘোষণা হবে। পাশাপাশি সম্প্রতি ঘোষিত ছাত্রদলের ৭ সদস্যের কমিটির আকারও বাড়িয়ে ২৬০ সদস্যের করা হয়েছে। তবে দল পূর্নগঠন নিয়ে এরই মধ্যে কয়েকজন নেতা গণমাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। তাদেরকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।
দলের একজন যুগ্ম মহাসচিব নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বিষয়ে বলেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দল ঐক্যবদ্ধ। ১/১১তে আপনারা দেখেছেন জিয়া পরিবারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে কিন্তু দলের ক্ষতি করতে পারেনি। বিগত ১৭ বছরে সরকার বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা নিপীড়ন করেও কোন ক্ষতি করতে পারেনি। এবারও পারবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় গণমাধ্যমকে বলেন, কমিটি পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত আগেই ছিল, এখন তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। এটি একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া, এর বেশি কিছু নয়। তিনি বলেন, কমিটি গঠনে যোগ্য ও ত্যাগীদের মূল্যায়নের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আশা করি, যোগ্য ও ত্যাগীরা নেতৃত্বে আসবেন।
এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বড় রাজনৈতিক দলের ভেতর পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ সব সময় ছিল, এখনও আছে। কারও বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেন। যারা দলে গুরুত্বপূর্ণ পদপদবি পান না, তারাও ক্ষোভ থেকে কিছু কথাবার্তা বলবেন– এটাই স্বাভাবিক। তবে আবার কিছুদিন পর তা ঠিক হয়ে যায়। আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান যোগ্য ও ত্যাগী নেতাকে যথাযথ মূল্যায়ন করছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক গুজব ছড়ানো হয়, যা সত্য নয়।