ঢাকাSunday , 26 November 2023
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ফরিদপুর-১ আসনে নৌকার মাঝি হতে চান জননেতা আব্দুর রহমান

Link Copied!

আগামী ৭ জানুয়ারিই হচ্ছে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে শুরু করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত দলটির নির্বাচনী মনোনয়ন বোর্ড বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। ইতিমধ্যে দলের কেন্দ্রীয় ও হেভিওয়েট কয়েকজন প্রার্থীর মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে। দলটির অন্যতম হেভিওয়েট প্রার্থীদের একজন প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান। আসন্ন নির্বাচনে প্রেসিডিয়াম সদস্য আব্দুর রহমান মনোনয়ন পেতে পারেন ফরিদপুর-১ আসন থেকে। বর্তমানে মনজুর হোসেন বুলবুল এ আসনের এমপি। মঞ্জুর হোসেন বুলবুল ফরিদপুর-১ আসন থেকে ২০১৮ সালে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুর-১ (মধুখালী, বোয়ালমারী, আলফাডাঙ্গা) আসনে ২২ জন। তারা হলেন- বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও সাবেক দুই বারের সংসদ সদস্য আব্দুর রহমান, সাবেক সংসদ সদস্য কাজী সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় কৃষকলীগের সাবেক সহ-সভাপতি, ঢাকা টাইমস সম্পাদক আরিফুর রহমান দোলন, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এ্যাডভোকেট লিয়াকত সিকদার, বোয়ালমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এম মোশাররফ হোসেন মুশা মিয়া, কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ খান মঈনুল ইসলাম মোস্তাক, আওয়ামী লীগের বন ও পরিবেশ বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য আব্দুল্লাহ আল মামুন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ডা. দিলীপ কুমার রায়, কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম কৃক, পুলিশের সাবেক এআইজি মালিক খসরু, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মণ্ডলীর সদস্য সৈয়দ শামীম রেজা, ফিনল্যান্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন, শিল্প ও বাণিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য ইঞ্জিনিয়ার হাসনাত মিয়া, লায়ন সাখাওয়াত হোসেন, ইউনিভার্সিটি অব পুন্ড্র সাইন্স এন্ড টেকনোলজির সাবেক ভিসি বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. লুৎফর রহমান, আওয়ামী লীগের স্বাস্থ্য বিষয়ক উপ-কমিটির কমিটির সাবেক সদস্য ডা. গোলাম কবীর, যুদ্ধকালীন কোম্পানি কমান্ডার বখতিয়ার রহমান বতু, আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মো. খায়ের মিয়া, ডেফোডিল ইউনিভার্সিটির প্রভাষক শেখ আব্দুর রহিম ও ফরিদপুর জেলা কৃষক লীগের সাবেক সহ-সভাপতি মাজারুল ইসলাম টুকু ও খিজির আহমেদ।
ফরিদপুর-১ আসনে মোট ভোটার চার লাখ ৫৩ হাজার ৬৭৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার দুই লাখ ৩০ হাজার ৬১ জন আর মহিলা ভোটার দুই লাখ ২৩ হাজার ৬১৪।
জননেতা আব্দুর রহমান এর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক ক্যারিয়ার: ১৯৫৪ সালের ৯ই মার্চ, বৃহত্তর ফরিদপুর জেলার মধুখালী উপজেলার কামালদিয়ায় মা আয়েশা’র কোল আলোকিত করে পৃথিবীর বুকে জন্ম নেন আব্দুর রহমান। পিতা মো. শরিয়তউল্যা ও মাতা আয়েশা শরিয়তউল্যার খুব আদরের ছিলেন মো. আব্দুর রহমান। গ্রামের সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা প্রকৃতি, নদী ও পাখির কলতানে বেড়ে ওঠা ডানপিটে আব্দুর রহমানের স্কুলজীবন থেকেই রাজনীতিতে হাতেখড়ি। ১৯৬৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. শামসুজ্জোহা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টররের দায়িত্ব পালনকালে আইয়ুব বিরোধী আন্দোলনের সময় পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের মুখে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের রক্ষা করতে গেলে তাকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। কিশোর আব্দুর রহমান তখন বোয়ালমারীর খরসূতী চন্দ্র কিশোর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্র ছিলেন। স্কুলের ছাত্রছাত্রী এবং সহপাঠীদের নিয়ে শিক্ষক ড. শামসুজ্জোহাকে হত্যার তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ করেন এবং বোয়ালমারীতে কালুখালী ভাটিয়াপাড়া রেল সংযোগে টানা ৪ ঘণ্টা রেল অবরোধ করে রাখেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে এই প্রতিবাদী চরিত্র থেকেই রাজনীতিতে আসেন এবং পরবর্তীতে খরসূতী চন্দ্র কিশোর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ডাকে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য যুবকদের অনুপ্রেরণা যুগিয়ে সংঘবদ্ধ করেছেন। ভারতের রানাঘাট ক্যাম্পে ট্রেনিং নেন এবং ট্রেনিং শেষে দেশে ফিরে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন প্রতিবাদী ছাত্রনেতা আব্দুর রহমান। ১৯৭৩ সালে ফরিদপুর সরকারি ইয়াছিন কলেজ ছাত্র সংসদের সহ-সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৭৪ সালে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন তুমুল ছাত্র জনপ্রিয়তার কারণে। কলেজে অধ্যয়ন অবস্থায় ১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ফরিদপুর জেলা শাখার প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পরে গণপ্রতিরোধ আন্দোলন ও সংগ্রামের নেতৃত্ব দেন এবং দীর্ঘদিন কারাভোগ করেন।
মেধাবী ছাত্র নেতা আব্দুল রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে সফলতার সাথে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন এবং যথাক্রমে এলএল.বি ডিগ্রি অর্জন করেন। প্রিয় নেত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা দেশরত্ন শেখ হাসিনা যখন দলের দায়িত্ব নিলেন ১৯৮১ সালে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে, তখন মূলত আব্দুর রহমান তাকে ঘিরেই তার নেতৃত্বের প্রতি নিঃশর্ত আস্থাশীল এবং আনুগত্য প্রকাশ করেছেন এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা বিভিন্ন সময়ে আব্দুর রহমানকে যে দায়িত্ব দিয়েছেন, সে দায়িত্বটুকু সঠিকভাবে পালন করেছেন। ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের কার্যনির্বাহী সদস্য এবং পরবর্তীতে সাংগঠনিক দক্ষতার কারণে ১৯৮৪ সালে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মনোনীত হন। ১৯৮৬ সালে সারাদেশে প্রচণ্ড ছাত্র জনপ্রিয়তার কারণে, ছাত্র নেতৃত্বের গুণাবলীতে আকৃষ্ট হয়ে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী ছাত্র আব্দুর রহমানকে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেন। তিনি ১৯৮৬-৮৮ ইং পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেন। নিঃশর্ত আদর্শিক ও প্রতিবাদী চরিত্রের এই ছাত্রনেতা সফলভাবে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে স্বৈরাচার এরশাদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী গণ-আন্দোলন গড়ে তোলেন।
পরবর্তীতে ২০০১-০২ মেয়াদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় পর্বেক্ষক সদস্য ছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৭তম সম্মেলনে, ২০০২-০৯ ইং মেয়াদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে বিপুল ভোটে নৌকা প্রতীক নিয়ে ফরিদপুর-০১ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ১৯তম সম্মেলনে ২০০৯-১২ ইং মেয়াদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য হন। ২০১৪ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২য় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ফরিদপুর-১ আসনের উন্নয়নের রূপকার হিসেবে আজও তার জন্য জনগণ কাঁদে। ২০তম সম্মেলনে ২০১৬-১৯ ইং মেয়াদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন এবং বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে খুলনা ও বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক দায়িত্ব সফলভাবে পরিচালনা করেন। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ২১তম জাতীয় সম্মেলনে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হন এবং একইসাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।