গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের ২৬১ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, এসময়ে ৯টি মামলায় ১ হাজার ৬০ জন (এজাহার নামীয়সহ অজ্ঞাত) নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। রোববার (৫ নভেম্বর) বিকেলে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সারাদেশে ধেয়ে আসা ভয়ঙ্কর গ্রেপ্তার ঝড় চলছে অভিযোগ করেছে রিজভী বলেন, ‘তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত বিএনপির সব স্তরের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অবৈধ সরকারের ধেয়ে আসা গ্রেপ্তার ঝড় চলছে। সারাদেশকে রক্তাক্ত করেছে এই ফ্যাসিবাদী সরকার।দেশকে বিরোধীদল শূন্য করার প্রক্রিয়া হাতে নিয়েছে তারা। একেবারে নিশ্চুপ, নিস্তব্ধ পরিবেশে তারা নির্বাচনের নামে আরেকটি তামাশা করবেন এবং নির্বাচন কমিশন শেখ হাসিনা যে তালিকা ধরিয়ে দেবেন সেই তালিকা অনুযায়ী বিজয়ী প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করবেন।’ তিনি বলেন, ‘গোটা জাতিকে ঋণগ্রস্ত করে শেখ হাসিনা তার অবৈধ ক্ষমতা ধরে রাখতে চাচ্ছেন।
মন্ত্রীদের কথাবার্তা শুনলে মনে হয় তাদের মধ্যে সভ্যতা বলে কিছু নেই। পুলিশ, র্যাব, রাষ্ট্রশক্তিকে ব্যবহার করে জনগণের ওপর স্টিম রোলার চালাচ্ছে। এক ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে সরকার।’
নেতাকর্মীদের সতর্ক থেকে রাস্তায় নামার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, ‘বিএনপিসহ বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করার জন্য সরকার নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চক্রান্ত করছে, তাই সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করে এই অবৈধ সরকারের পতন ঘটাতে হবে। তাছাড়া কারও মুক্তি নেই। কারণ যে দেশের পুলিশ নিজে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় তারা কখনো জনগণের বন্ধু হতে পারে না, তারা এখন জনগণের প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।’
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কঠোর সমালোচনা করে রিজভী বলেন, ‘অদ্ভুত এক সাধারণ সম্পাদক। আগে দস্যুদল তার প্রতিপক্ষকে ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করার সময় একটা অট্টহাসি দিতো। তিনি (ওবায়দুল কাদের) আজ সেই ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়ে মুচকি হাসি দিচ্ছেন। ওবায়দুল কাদেররা আজ রাষ্ট্রশক্তি, পুলিশ, র্যাবকে ব্যবহার করে তাদের সঙ্গে যৌথভাবে বিরোধীদলের নেতাকর্মীদের ওপর আক্রমণ করছে, আবার মিথ্যা মামলা দিচ্ছে। দেশে এখন ১৯৭১ সালের পরিস্থিতি বিরাজমান। মানুষ কথা বলতে পারছে না। নিজ দেশে স্বাভাবিকভাবে নির্ভয়ে চলতে পারছে না। টিক্কা খান, নিয়াজী খানের ভূমিকা গ্রহণ করেছে ওবায়দুল কাদেররা।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের শান্তিপূর্ণ অবরোধ কর্মসূচি চলছে। আগামীকালও আমাদের অবরোধ কর্মসূচি আছে, শেষ হলে কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’
সারাদেশে দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে হামলা-মামলার বিবরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে মহাসমাবেশের ৩/৪ দিন পূর্ব থেকে এ পর্যন্ত মোট
৫ হাজার ২৮৪ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মোট মামলা দেওয়া হয়েছে ১২২টি। এসময়ে আহত হয়েছেন ৩ হাজার ৪৯৮ জন নেতাকর্মী। মৃত্যু হয়েছে ১০ জনের (সাংবাদিক একজন)।
তিনি আরও জানান, ২৮ ও ২৯ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রঘোষিত কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারাদেশের প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী মোট গ্রেপ্তার ৭ হাজার ৯৭৪ জন। এ পর্যন্ত মোট মামলা হয়েছে ৫১৫টি। মোট ৩৯, হাজার ৬২০ জনকে আসামি করা হয়েছে। আহত হয়েছেন ৫ হাজার ৭৯১ জন নেতাকর্মী।

