ঢাকাMonday , 8 October 2018
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

তাল, খেজুর, সুপারি ও নিম চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে বজ্রপাত হ্রাসের প্রচেষ্টা

Link Copied!

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা, বিলুপ্তপ্রায় ও পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ সংরক্ষণের জন্য তাল, খেজুর, সুপারি ও নিম চাষ সম্প্রসারণ কর্মসূচির মাধ্যমে স্থাপিত তাল প্রদর্শনী কার্যক্রম পরিদর্শন করছেন কর্মসূচি পরিচালক কৃষিবিদ মো. শহিদুল্লাহ্। এ সময় কালুখালি (রাজবাড়ি) উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাছিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন

নিজস্ব প্রতিবেদক : পরিবর্তিত জলবায়ুর ঝুঁকি বিশেষ করে বজ্রপাত মোকাবেলায় বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী, বিলুপ্তপ্রায় ও পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ চাষ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ‘জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা, বিলুপ্তপ্রায় ও পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ সংরক্ষণের জন্য তাল, খেজুর, সুপারি ও নিম চাষ সম্প্রসারণ কর্মসূচি’র মাধ্যমে বেশ কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, পরিবেশ, জীব-বৈচিত্র্য ও জীবনের নিরাপত্তা বিধানে এবং আবহমান বাংলার ঐতিহ্য সংরক্ষণে তাল, খেজুর ও সুপারির পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব নিম চাষ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ি, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ ও বরিশাল জেলার ১৭টি উপজেলায় জুলাই-২০১৭ হতে জুন-২০১৯ মেয়াদে কর্মসূচির কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে।
সূত্রমতে, প্রাচীনকাল থেকে আবহমান বাংলার মানুষের খাদ্যাভাস, সংস্কৃতি ও লোক ঐতিহ্যর সাথে মিশে থাকা দেশীয় প্রজাতির তাল, খেজুর, সুপারি ও নিম গাছ সংরক্ষণ ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা এবং পতিত জমিতে দেশীয় প্রজাতির এসব বৃক্ষ রোপণে জনগণকে সচেতন করার মাধ্যমে শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধি করা এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য। পরিবর্তিত জলবায়ুর ঝুঁকি বিশেষ করে বজ্রপাত মোকাবেলায় বাংলাদেশের আবহাওয়া উপযোগী বিলুপ্তপ্রায় ও পরিবেশবান্ধব বৃক্ষ চাষ সম্প্রসারণ ও পরিবেশ সংরক্ষণ; পতিত জমি, জমির আইল, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসা, মসজিদ-মন্দির, রাস্তার দুই পার্শ্বে, বাড়ির আঙিনা, কবরস্থান, শ্মশানে বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে জমির যথাযথ ব্যবহার ও শস্যের নিবিড়তা বৃদ্ধিতেও কাজ করছে কর্মসূচিটি। এছাড়া, উচ্চমূল্যের অর্থকরি ফসলের চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে কৃষকের আয় বৃদ্ধি; গুড় ও পাটালি উৎপাদনের মাধ্যমে গ্রামীণ নারীদের আয়বর্ধনমূলক কর্মকা-ে সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করছে এ কর্মসূচি। পাশাপাশি নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং ভেষজ ও জৈব-বালাইনাশক গুণাগুণসম্পন্ন বৃক্ষ রোপণ কার্যক্রম সম্প্রসারণের মাধ্যমে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা এবং বর্তমান সরকারের ভিশন-২০২১ এর উন্নয়ন সূচকসমূহ অর্জনের লক্ষ্যে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে এ কর্মসূচি।
সংশ্লিষ্টরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি ও ক্ষতির অন্যতম শিকার বাংলাদেশ। জলবায়ুর বিরূপ প্রভাবে দেশের কৃষি সেক্টর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত। ইতোমধ্যে জলবায়ু ও আবহাওয়ার বৈরী আচরণ দৃশ্যমান। কার্বন-ডাই-অক্সাইড অস্বাভাবিক পরিমাণে বৃদ্ধি পাওয়ায় বায়ুমন্ডল ও ভূ-পৃষ্ঠের উষ্ণতা বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশে বজ্রপাতের পরিমাণ আশংকাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে বজ্রপাতে অসংখ্য মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন, আহতও হচ্ছেন।
কৃষি বিভাগ জানায়, বজ্রপাতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঝুঁকিতে থাকে সাধারণ প্রান্তিক কৃষকগণ। তারা বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ থেকে আষাঢ়-শ্রাবণ মাস পর্যন্ত ফসলের মাঠে বজ্রপাতের মধ্যেও জীবন বাজি রেখে কাজ করেন। এ সময় বজ্রপাতের কারণে অনেক কৃষকের মৃত্যু হয়, এ রকম মৃত্যুতে অসহায় ও নিঃস্ব হয়ে পড়ে একজন কৃষকের পুরো পরিবার। বজ্রপাতের প্রকটতা সাম্প্রতিককালে এতোটাই বেড়ে গেছে যে, বর্তমানে কৃষকরা বজ্রপাতের মৌসুমে মাঠে কাজ করার আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশের প্রচলিত উঁচু গাছ যেমন তাল, খেঁজুর, সুপারি গাছ প্রায় বিলুপ্তির পথে; এর ফলে বজ্রপাতের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। তাদের মতে, যদি খোলা বিস্তীর্ণ মাঠে তাল, খেজুরের মত উঁচু গাছ থাকতো তাহলে বজ্রপাত অনেকাংশে গাছের উপর দিয়ে যেতো, ফলে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঝুঁকি বহুলাংশে হ্রাস পেতো। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে এক সময়ে অসংখ্য তাল ও খেজুর গাছ ছিলো, বর্তমানে এ ধরণের গাছের সংখ্যা অনেক কমে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বজ্রপাতের মতো ভয়াবহ দুর্যোগ মোকাবেলায় উঁচু বৃক্ষ রোপণের কোন বিকল্প নেই। বজ্রপাতের প্রকোপ কমানোর লক্ষ্যে সরকারের কৃষি মন্ত্রণালয় তাল গাছ রোপণের বিষয়ে বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে এবং এ লক্ষ্যে তাল গাছ রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। জীব-বৈচিত্র্য রক্ষা ও পরিবেশ সংরক্ষণের পাশাপাশি তাল গাছের অর্থনৈতিক ভূমিকা অপরিসীম। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় তাল, সুপারি এবং খেজুর গাছের অবদান অনন্য।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলেন, আমাদের দেশের সভ্যতা ও সংস্কৃতির অংশ পুষ্টিকর ও নিরাপদ খাদ্য তাল ও খেজুর বর্তমানে বিলুপ্তির পথে। ঝড়-বাতাস প্রতিরোধী এসব অর্থকরি বৃক্ষ দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। ধীরে বেড়ে ওঠা এবং দেরিতে ফল প্রদানের কারণে মানুষ এই গাছগুলোর প্রতি আগ্রহ হারাচ্ছে। তাই বিক্ষিপ্তভাবে তাল ও খেজুর বীজ রোপণ না করে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে তাল, খেজুর, সুপারি ও নিম চাষ সম্প্রসারণ কর্মসূচি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করেন তারা।
অপ্রচলিত এবং পরিবেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এসব বৃক্ষ সম্প্রসারণে করণীয় সম্পর্কে তাল, খেজুর, সুপারি ও নিম চাষ সম্প্রসারণ কর্মসূচির কর্মসূচি পরিচালক মো. শহিদুল্লাহ্ দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, আমরা দানাদার ফসল, সবজি ও ফল উৎপাদনে ব্যাপক অগ্রগতি অর্জন করেছি। দেশীয় প্রজাতির গাছ তাল, খেজুর ও নিমসহ বিভিন্ন প্রজাতির ঔষধি বৃক্ষ সম্প্রসারণে বৃহৎ কার্যক্রম গ্রহণ করা হলে পরিবেশগত উন্নতির পাশাপাশি মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হবে এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ নিশ্চিত হবে। তিনি আরো বলেন, দেশে বিদ্যমান ৭৫টি হর্টিকালচার সেন্টারের মাধ্যমে মানসম্পন্ন তাল, খেজুর, নিমসহ অন্যান্য ঔষধি বৃক্ষের চারা উৎপাদন করে পরিকল্পিতভাবে সারা দেশে রোপণ করা হলে অদূর ভবিষ্যতে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলা অনেকাংশে সহজ হবে।