লক্ষ্মীপুর সংবাদদাতা : আইরিন সুলতানা নিজের চেষ্টা ও কর্মদক্ষতায় লক্ষ্মীপুরে আজ একজন সফল নারী। স্থানীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে পেয়েছেন জয়িতার সম্মান। তার স্বপ্ন এখন জাতীয় পর্যায়ে সেরা জয়িতা নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহণ। আর সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি।
লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বঞ্চানগর গ্রামের আলী আকবর ও সামছুন নাহারের মেয়ে আইরিন সুলতানা দুই ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট। শৈশব থেকেই নিজেকে নিজেই প্রতিষ্ঠিত করার, অবহেলিত নারী সমাজকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন ছিল তার।
লক্ষ্য অর্জনে পড়ালেখার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে অন্তত ২০টি বিষয়ে প্রশিক্ষণ নেন। বাবা মৃত্যুর পরও লক্ষ্যে অটল থেকেছেন। চালিয়ে যান নিজের পড়ালেখা। শহরের একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠান থেকে ডিপ্লোমা ইন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করেন ।
ডিপ্লোমা শেষ করেই ঋণ নিয়ে কম্পিউটার কিনে বাসায় মেয়েদের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন। পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন দোকানের অর্ডারকৃত জামা-কাঁথা সেলাই ও নকশী করতেন। ২০১১ সালে সদর উপজেলার চরশাহী ইউনিয়নের মো. শাহজাহান ভূইয়ার পুত্র মো. মাহবুবুর রহমানের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।
এরপর স্বামীর সহযোগিতায় ২০১২ সালের ৯ অক্টোবর নিজের জমানো ও পরিবারের মূলধন দিয়ে শহরের ঝুমুরের মজু মার্কেটে স্থাপিত করেন আইরিন কম্পিউটার এন্ড ট্রেনিং সেন্টার। মেয়েদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শুরু করলেও বর্তমানে ছেলেমেয়ে উভয়কে আলাদাভাবে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও কম্পিউটারের মাধ্যমে ট্রেনিং প্রদান করে থাকেন। আর্থিকভাবে অসচ্ছল নারীদের, গরীব-মেধাবীদের বিনামূল্যে প্রশিক্ষণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান, গাছরোপণ ও স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ করেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ২০১৭ সালে আইরিন টেকনিক্যাল ট্রেনিং ইনস্টিটিউট (৬৭০৩৬) নামে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড থেকে স্বল্পমেয়াদি বেসিক ৩৬০ ঘন্টা অফিস এপ্লিকেশন, গ্রাফিক্স ডিজাইন এন্ড মাল্টিমিডিয়া, হার্ডওয়্যার এন্ড নেটওয়ার্কিং কোর্সের অনুমোদন নেন। এছাড়াও আউট সোর্সিংসহ আরো ৫টি ট্রেডে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। প্রতিষ্ঠানে আগত প্রশিক্ষণার্থীদের নিরাপত্তার জন্য একাধিক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করেছেন।
আইরিনের এই প্রতিষ্ঠান থেকে ২০১২ সালে ৫০, ২০১৩ সালে ৮০, ২০১৪ সালে ১৮২, ২০১৫ সালে ২২৭, ২০১৬ সালে ২১৭, ২০১৭ সালে ২৫০, জুন ২০১৮ পর্যন্ত ২০০ জন প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ১৪, সহ-পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ৫, গ্যাস অফিস ১, জেলা পরিষদে ২, জেলা শিক্ষা অফিসে ১ জনসহ সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন শতাধিক নারী-পুরুষ। এছাড়া আবার কেউবা নিজেই প্রতিষ্ঠান খুলে অন্যজনের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি করেছেন।
এভাবেই শুরু করার পর একের পর এক সাফল্য আসতে থাকে তার। বেকারদের কর্মসংস্থানে সাহস, সততা আর আপন কর্মের মাধ্যমে সফল হতে থাকেন আইরিন। অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেন স্থানীয়দের মাঝে। সফলতার স্বীকৃতি স্বরূপ চট্টগ্রাম বিভাগীয় সেরাসহ স্থানীয় পর্যায়ে পেয়েছেন বেশ জয়িতার সম্মাননা ও অনেক পুরস্কার।
সফলতার বিষয়ে আলাপকালে আইরিন সুলতানা বললেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘চাকরি করবো না, চাকরি দিবো’ সে কথাটিকে নিজের মধ্যে লালন করেই আজ সফল হয়েছি। সফলতার পুরস্কার স্বরূপ পেয়েছি বিভাগীয় সেরাসহ স্থানীয় বিভিন্ন সম্মাননা। এখন আমার স্বপ্ন জাতীয় পর্যায়ে সেরা জয়িতা নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকে পুরস্কার গ্রহন করা। আর সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি।’

