
কুমিল্লা জেলাধীন চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নে জাগজুর মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন, অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মোহা. বজলুর রশীদ, সহকারী পরিচালক মো. ওমর ফারুক, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শায়লা শারমিন
নিজস্ব প্রতিনিধি : মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় চলমান বিভিন্ন কার্যক্রম গত ১৫ জানুয়ারি পরিদর্শন করেছেন মৎস্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ।
পরিদর্শনকালে প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদ হোসেনসহ আরো উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মোহা. বজলুর রশীদ, সহকারী পরিচালক মো. ওমর ফারুক, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা শায়লা শারমিন। এ সময় প্রকল্পের সুফলভোগীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গও উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শন কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্মকর্তাগণ এদিন চৌদ্দগ্রাম উপজেলা কনকাপৈত ইউনিয়নে জাগজুর মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা এ অভয়াশ্রমের সুফলভোগীদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন, তাদের খোঁজ-খবর নেন। অভয়াশ্রমের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নে কোন সমস্যা আছে কি না তা জানতে চান, এ বিষয়ে সুফলভোগীদের বিভিন্ন পরামর্শ ও নির্দেশনা প্রদান করেন।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বৃহত্তর কুমিল্লার ৩টি জেলার (কুমিল্লা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর) ৩৩টি উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। অত্র প্রকল্পের আওতায় বিগত ২০১৫-১৬ অর্থবছর থেকে এ পর্যন্ত প্রকল্প এলাকায় ৭ লাখ ঘনমিটার সরকারি পুকুর ও বিল পুনঃখনন, ২৮টি মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন, ৬৮টি তেলাপিয়া/কৈ/শিং মাছের প্রদর্শনী খামার স্থাপন, ৯০টি পেনে মাছ চাষ প্রদর্শনী, ৪৯টি ইউনিট (প্রতি ইউনিটে ১০টি খাঁচা) খাঁচায় মাছ চাষ প্রদর্শনী, ১০,৮২০ জন নিবন্ধিত জেলেকে বিকল্প আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রশিক্ষণ প্রদানসহ এআইজিএ উপকরণ সহায়তা প্রদান, ২১,৬৫০ জন নিবন্ধিত জেলেকে জাল বিনিময় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে মৎস্যবান্ধব বেড় জাল বিতরণ, ৪,৮৮০ জন মৎস্য চাষিকে মৎস্য চাষ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ প্রদান, ৩৩ ব্যাচ অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। প্রকল্পের কার্যক্রমসমূহ বাস্তবায়নের ফলে ইতোমধ্যে প্রকল্প এলাকায় কর্মসংস্থান বৃদ্ধিসহ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি ও মৎস্যজীবীদের জীবনযাত্রার উন্নতি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

