ঢাকাTuesday , 26 December 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বিল নার্সাসি স্থাপন, পোনা মাছ অবমুক্তকরণসহ বিভিন্ন পদক্ষেপে নাটোরে বেড়েছে দেশি মাছের উৎপাদন

Link Copied!

নাটোর প্রতিনিধি : জেলার বিভিন্ন বাজারে দেশি মাছের প্রাচুর্য দেখা যাচ্ছে। সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নলডাঙ্গা, মাধনগর, পাটুল, সিংড়ার ত্রিমোহনী বাজারসহ বিভিন্ন মাছ বাজারে উঠছে দেশীয় বিভিন্ন জাতের মাছ। এক সময় এই জেলার বাজারগুলো দেশি মাছশূন্য থাকতো, কিন্তু বর্তমানে মৎস্য বিভাগের নানামুখী কার্যক্রমের ফলে পাল্টে গেছে সেই চিত্র। এখন বাজারগুলোতে চাষ করা মাছের যেমন আধিক্য রয়েছে তেমনি দেশি মাছেরও রয়েছে প্রাচুর্য; ক্রেতারা তাদের পছন্দমতো মাছ কিনতে পারছেন সহনীয় মূল্যে।
স্থানীয়রা জানান, নাটোরে খাল-বিলের পানি প্রায় শুকিয়ে গেছে। তাই জাল ফেলে মাছ শিকারের দৃশ্য এখন চোখে পড়ছে না খুব বেশি। তাই বলে মাছ শিকার কিন্তু বন্ধ নেই। বিলের ছোট-বড় জলাশয়, নালার পানি সেচে চলছে মাছ ধরা। এতে হাট-বাজার এখন ভরপুর ছোট-বড় দেশি মাছে।
মৎস্য সংশ্লিষ্টদের মতে, গত কয়েক বছরে বিলের ফসলে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ব্যবহার, চলন বিল, হালতি বিলের রাস্তায় সৃষ্ট বাঁধ প্রভৃতি কারণে কমে গেছে এ অঞ্চলের দেশি মাছের উৎস। সঠিক যুক্তিযুক্ত কারণ না মিললেও এই সময়ে যে মাছ মিলছে সেটাও কম নয়। আবার এক শ্রেণীর মানুষ বলছেন, বিলুপ্ত অনেক দেশি মাছ ফিরে এসেছে নতুন কিছু উদ্যোগে।
নাটোরের বাজারগুলোতে এখন পাওয়া যাচ্ছে টেংরা, বাতাসি, কৈ, বোয়াল, আইড়, পাবদা, শোল, খলিসা, সরপুঁটি, গচি, খড়িয়া, পিয়ালি, সিং, রানি, রুই, মৃগেল, কাতলাসহ অন্তত ৩০-৪০ প্রজাতির দেশি মাছ। দাম কোথাও একটু বেশি, কোথাও ক্রেতাদের নাগালের ভিতরেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৃগেল ১৪০ টাকা, কালিবাউশ ১৩০, টেংরা স্থান ভেদে ২৮০ টাকা থেকে ৪০০, খলিসা ১১০ থেকে ১৩০ টাকা, সিং ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা, পাবদা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, আইড় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, শোল ২৮০ থেকে ৩০০ টাকা, বোয়াল ৩০০ টাকা থেকে ৬০০, কৈ ৫৫০ থেকে ৬০০, রুই ২০০ টাকা, গচি ৪৮০ থেকে ৫৫০ টাকা, বাটা ১২০ টাকা, সরপুঁটি ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, কাতলা ২০০ টাকা, ছোট বাতাসি ৪৫০ টাকা, বড় বাতাসি ৬০০ টাকা, খড়িয়া ২২০ টাকা, চান্দা ১২০ টাকা, চিংড়ি মাছ ছোট সাইজ ৪০০ টাকা, বড় সাইজ ৬০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
মৎস্য সংশ্লিষ্টরা জানান, একসময় এই এলাকায় দেশি প্রজাতির মাছের প্রাচুর্য ছিল। নদী ও খাল-বিলে এসব মাছ ধরা পড়তো সহজেই। কিন্তু দিন দিন দ্রুত বর্ধনশীল মাছের বাণিজ্যিক চাষ, সংরক্ষণের অভাব ও নানা প্রাকৃতিক কারণে দেশি মাছের বহু জাতই বিলুপ্ত হয়েছিল। কিন্তু গত কয়েক বছরে মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে বিল নার্সাসি স্থাপন, পোনা মাছ অবমুক্ত, মা মাছ উৎপাদন বাড়াতে অভয়াশ্রম স্থাপনসহ নানামুখী পদক্ষেপ নেওয়ায় বর্তমানে বিলুপ্ত প্রায় ১৭ প্রজাতির মাছের আর্বিভাব ঘটেছে।
স্থানীয় মৎস্য বিভাগ জানায়, অধিদপ্তরের বিল নার্সারি স্থাপন ও পোনা অবমুক্তকরণ প্রকল্পের উদ্যোগে জেলার বিভিন্ন বিলে নার্সারি স্থাপন এবং মুক্ত জলাশয়ে পোনা অবমুক্তকরণসহ মা মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভয়াশ্রম গড়ে তোলায় বিলুপ্ত দেশি মাছের আর্বিভাব হয়েছে। এতে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ জেলেদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটছে। স্থানীয়রা সহজেই দেশি মাছ দিয়ে তাদের রসনা পূর্ণ করতে পারছেন। সেই সাথে এলাকার বাসিন্দাদের খাদ্য ও আমিষের চাহিদাও পূরণ হচ্ছে।