
কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় খাঁচায় মাছ চাষ পরিদর্শন করছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)’র উপ-পরিচালক এইচ. এম. খালিদ ইফতেখার, প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদ হোসেনসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ
নিজস্ব প্রতিনিধি : মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের বহুমুখী কার্যক্রম সম্প্রতি পরিদর্শন করেছেন পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)’র প্রতিনিধি দল।
আইএমইডি’র শিক্ষা ও সামাজিক সেক্টরের উপ-পরিচালক এইচ. এম. খালিদ ইফতেখার প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন, কুমিল্লা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দপ্তরের সহকারি পরিচালক মো. শওকত আলী, মেঘনা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সুদীপ ভট্টাচার্য, স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান, প্রকল্পের সুফলভোগীসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
পরির্দশনকালে তারা প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে সরকারি পুকুর ও অন্যান্য বদ্ধ জলাশয় পুনঃখনন, বিল/জলাভূমি খনন/পুনঃখনন, মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন, পেনে মাছ চাষ, খাঁচায় মাছ চাষ, পুকুরে তেলাপিয়া, কৈ, শিং মাছের প্রদর্শনী খামার স্থাপন, জাল বিনিময়, কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের প্রশিক্ষণ, মৎস্য চাষি প্রশিক্ষণ, নিবন্ধিত জেলেদের প্রশিক্ষণ, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নিবন্ধিত জেলেদের বিকল্প আয়বর্ধনমূলক কর্মকান্ড উপকরণ সহায়তা প্রদান, অভিজ্ঞতা বিনিময় সফর, প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ, মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র স্থাপনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেন। এ সময় তারা প্রকল্পের কার্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত সুফলভোগীদের সাথে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।
নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বিতরণকৃত মৎস্যবান্ধব বেড় জাল পর্যবেক্ষণকালে প্রতিনিধি দলকে জেলেরা জানান, আগে তারা অবৈধ ও ক্ষতিকর জাল ব্যবহার করতেন। ক্ষতিকর জাল উপজেলা মৎস্য অফিসে জমা দিয়ে এখন তারা প্রকল্প থেকে প্রাপ্ত মৎস্যবান্ধব বেড় জাল ব্যবহার করছেন। এতে উন্মুক্ত জলাশয়ে ছোট মাছ বড় হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি তারা বেশি পরিমাণে মাছ আহরণ করতে পারছেন।
জেলার চান্দিনা ও আদর্শ সদর উপজেলায় নিবন্ধিত জেলেদের বিকল্প আয়বর্ধনমূলক উপকরণ হিসেবে প্রদত্ত সেলাই মেশিন পরিদর্শকালে সুফলভোগীরা বলেন, তারা নিয়মিত সেলাই মেশিন ব্যবহার করছেন এবং প্রতি মাসে প্রায় ৪-৫ হাজার টাকা উপার্জন করছেন।
জেলার সদর দক্ষিণ উপজেলায় ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে পুনঃখননকৃত চানমলিয়া বিল (অংশ-৩) পর্যবেক্ষণকালে সুফলভোগীরা বলেন, জলাশয়টিতে আগে মাছ চাষ হতো না। বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পুনঃখননের ফলে জলাশয়টিতে বর্তমানে তারা মাছ করতে পারছেন। ফলে ৩.৩০ হেক্টর আয়তনের জলাশয়ে মাছ চাষ করে প্রতি বছর কয়েক লাখ টাকা উপার্জন হবে বলে তারা জানান। এছাড়া প্রকল্প এলাকায় ৬৮টি তেলাপিয়া, কৈ, শিং মাছের প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে প্রকল্প এলাকায় অন্যান্য চাষিরা উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন নতুন তেলাপিয়া, কৈ, শিং মাছের খামার স্থাপন করছেন বলেও জানান তারা।
মেঘনা উপজেলায় খাঁচায় মনোসেক্স তেলাপিয়া প্রদর্শনী পরিদর্শনকালে সুফলভোগীরা বলেন, মাত্র ৩ মাসে ৩-৪টি মাছে ১ কেজি হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় কর্মসংস্থান হওয়ায় তারা বেশ খুশি। এর ফলে প্রকল্প এলাকায় অন্যান্য চাষিরা উদ্বুদ্ধ হয়ে খাঁচায় মাছ চাষ কার্যক্রম শুরু করছেন। ফলে প্রকল্প এলাকায় উন্মুক্ত জলাশয়ের সর্বোচ্চ ব্যবহারসহ মাছের উৎপাদন বাড়ছে এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
মেঘনা উপজেলায় স্থাপিত কইরারপুর মৎস্য অভয়াশ্রম পরিদর্শনকালে সুফলভোগীরা জানান, ইতোমধ্যে দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রাচুর্যতা বৃদ্ধিসহ সংশ্লিষ্ট জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন বলেন, প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে প্রকল্প এলাকায় গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীসহ সংশ্লিষ্টদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে। মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন ও আবাসস্থল পুনরুদ্ধারের ফলে মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দরিদ্র জেলেরা অধিক পরিমাণে মৎস্য আহরণ করায় বেশি আয় করছেন। অপরদিকে, বিকল্প আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে দরিদ্র জেলেদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটছে। ফলে সার্বিকভাবে বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবস্থার ইতিবাচক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।
উল্লেখ্য, স্থানীয় মৎস্য সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি, মৎস্য চাষ ও মৎস্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মানব সম্পদ উন্নয়নের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরাধীন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পটি কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৩৩টি উপজেলায় জুলাই-২০১৫ থেকে জুন-২০২০ মেয়াদে বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

