ঢাকাSunday , 26 November 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের বহুমুখী কার্যক্রম

Link Copied!

প্রকল্প এলাকায় মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিসহ দারিদ্র দূরীকরণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে

প্রকল্প এলাকায় খাঁচায় মাছ চাষ পরিদর্শন করছেন প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন

বিশেষ প্রতিনিধি : মৎস্য উৎপাদন ৩০ ভাগ বৃদ্ধি এবং ১৫ ভাগ বর্ধিত কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়নকাল শেষে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার গ্রামীণ অর্থনীতির ১০ ভাগ উন্নয়নের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্প বহুমুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বৃহত্তর কুমিল্লার (কুমিল্লা, চাঁদপুর ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া) ৩৩টি উপজেলায় জুলাই’১৫-জুন’২০ মেয়াদে মৎস্য চাষ সম্প্রসারণ এবং মৎস্যজীবী ও মৎস্যচাষিদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নসহ মৎস্য সম্পদের উন্নয়নে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে প্রকল্পটি। অন্যদিকে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলার মাছের আবাসস্থল পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধিকল্পে ২.৪২ লাখ ঘনমিটার সরকারি খাস পুকুর ও ৩.৩৩ লাখ ঘনমিটার বিল/জলাভূমি পুনঃখনন কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিলুপ্তপ্রায় মৎস্য প্রজাতিসহ অন্যান্য মাছের প্রজাতিসমূহের প্রাচুর্যতা ও সংরক্ষণ ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২৪টি অভয়াশ্রম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এছাড়া বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় পেনে মাছ চাষ ও খাঁচায় মাছ চাষ জনপ্রিয় করার লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় ৭৯টি পেনে মাছ চাষ ও ৪৯ ইউনিট (৪৯০টি) খাঁচায় মাছ চাষ প্রদর্শনী প্রতিষ্ঠা সম্পন্ন হয়েছে। এর ফলে প্রকল্প এলাকায় অন্যান্য চাষিরা উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন নতুন পেনে মাছ চাষ ও খাঁচায় মাছ চাষ কার্যক্রম শুরু করেছেন।
প্রকল্প দপ্তর জানিয়েছে, প্রকল্প মেয়াদে ৫ বছরে প্রতি উপজেলা থেকে ২শ’ জন হিসাবে ৩৩টি উপজেলায় ৬ হাজার ৬শ’ জন মৎস্য চাষিকে মৎস্য চাষ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ৩দিন মেয়াদি প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৩ হাজার ৫শ’ ২০ জন মৎস্য চাষিকে মৎস্য চাষ ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। এর ফলে মৎস্য চাষিরা প্রশিক্ষণলব্ধ জ্ঞান কাজে লাগিয়ে মাছ চাষ কার্যক্রম বেগবান করে অধিক মৎস্য উৎপাদন করছেন এবং তাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
সূত্র জানায়, নিবন্ধনকৃত জেলে সম্প্রদায়কে মৎস্য প্রজননকালীন সময়ে (৩-৪ মাস) মৎস্য আহরণ থেকে বিরত রাখার জন্য প্রকল্প মেয়াদে ৩৩টি উপজেলায় ৩৩ হাজার নিবন্ধিত জেলেকে বিকল্প আয় বর্ধনমূলক কার্যক্রম হিসাবে সেলাই মেশিন, ছাগল, ভেড়া বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে ৯ হাজার ৩শ’ ৬০ জন নিবন্ধিত জেলের মাঝে সেলাই মেশিন/ছাগল/ভেড়া বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া, প্রকল্প এলাকায় ৬৮টি তেলাপিয়া, কৈ, শিং মাছের প্রদর্শনী খামার স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে প্রকল্প এলাকায় অন্যান্য চাষিরা উদ্বুদ্ধ হয়ে নতুন নতুন তেলাপিয়া, কৈ, শিং মাছের খামার স্থাপন করেছেন।
সূত্রমতে, প্রকল্প মেয়াদকালে জাল বিনিময় কার্যক্রমের আওতায় ৩৩টি উপজেলায় ৩ হাজার ৩শ’টি জাল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ইতোমধ্যে ২১ হাজার ৬শ’ ৫০ জন নিবন্ধিত জেলের মধ্যে ২ হাজার ১শ’ ৬৫টি মৎস্যবান্ধব বেড় জাল বিতরণ করা হয়েছে। এ কার্যক্রমে মৎস্যজীবীদের নিকট থেকে ক্ষতিকর জাল নিয়ে পুড়িয়ে বিনষ্ট করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় মৎস্য উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় নিবন্ধিত জেলেদের মাঝে বিতরণকৃত মৎস্যবান্ধব বেড় জাল ব্যবহারের ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি মৎস্যজীবীরা বেশি পরিমাণে মাছ আহরণ করতে পারছেন।
এছাড়া, মাছ আহরণ নিষিদ্ধকালীন সময়ে ছোট আকারের মাছ আহরণ না করা এবং নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার না করার জন্য সচেতনতা সৃষ্টি ও মৎস্য সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নের জন্য প্রকল্প থেকে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্প অফিস জানায়, মাছের আহরণ পরবর্তী ক্ষতি কমিয়ে আনা এবং অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক বাজারে মাছের গুনগতমান রক্ষার জন্য প্রকল্পের আওতায় ৪টি মৎস্য আহরণোত্তর পরিচর্যা কেন্দ্র স্থাপনের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে। এছাড়া, মৎস্য চাষিদের হাতে-কলমে আবাসিক ও নিবিড় প্রশিক্ষণ দেয়ার লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় কুমিল্লায় সকল সুযোগ সুবিধা সম্বলিত একটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. জাহিদ হোসেন দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, প্রকল্পের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে প্রকল্প এলাকায় গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীসহ মৎস্য সংশ্লিষ্টদের কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, মৎস্য অভয়াশ্রম স্থাপন ও আবাসস্থল পুনরুদ্ধারের ফলে মুক্ত জলাশয়ে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং দরিদ্র জেলেরা অধিক পরিমাণে মৎস্য আহরণ করায় বেশি আয় করছেন। অপরদিকে, বিকল্প আয়বর্ধনমূলক কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে দরিদ্র জেলেগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন হচ্ছে। বৃহত্তর কুমিল্লা অঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনৈতিক অবস্থার ইতিবাচক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি আরো বলেন, প্রকল্পের কার্যক্রম বাস্তবায়নের ফলে প্রকল্প এলাকার জনগোষ্ঠীর মধ্যে সুফল প্রাপ্তি শুরু হয়েছে।