ঢাকাFriday , 17 November 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন মৎস্য স্থাপনা পুনর্বাসন ও উন্নয়ন প্রকল্পের নানামুখী কার্যক্রম

Link Copied!

ঢাকা উপ-পরিচালক কাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তার অফিস ভবন

হাসান রেজা : দেশে মানসম্মত মৎস্য বীজ ও পোনা উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের আওতাধীন মৎস্য স্থাপনা পুনর্বাসন ও উন্নয়ন প্রকল্প নানামুখী কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কৌলিতাত্ত্বিক অবক্ষয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে কার্পজাতীয় মাছের গুণগতমানের রেণু ও পোনা উৎপাদন বৃদ্ধিসহ বর্তমান মৎস্য স্থাপনাসমূহ সংস্কার ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে প্রকল্পটি মৎস্য চাষিদের মাঝে আধুনিক মৎস্য চাষ প্রযুক্তি প্রদর্শন ও সম্প্রসারণে অগ্রণী ভূমিকা রাখছে।
প্রকল্পটির মাধ্যমে সরকারি জরাজীর্ণ মৎস্য হ্যাচারি ও নার্সারিগুলো সংস্কারের মাধ্যমে আধুনিকায়ন করে হ্যাচারি ও নার্সারিগুলোকে কৌলিতাত্ত্বিক রেণু ও পোনা উৎপাদনের মডেল রূপে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে যা মৎস্য উৎপাদনে অনন্য ভূমিকা পালন করে চলছে। অন্যদিকে এ প্রকল্পের মাধ্যমে মৎস্য সম্প্রসারণ, পরামর্শ, তথ্য আদান প্রদান ও মৎস্য উৎপাদনে সহায়ক কারিগরি প্রশিক্ষণ প্রদানের লক্ষ্যে অধিদপ্তরের বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে জরাজীর্ণ দপ্তরসমূহ সংস্কার, সম্প্রসারণ ও নতুন ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে যার ফলে দেশের মৎস্য সম্প্রসারণ কার্যক্রম সুষ্ঠু ও নিরবচ্ছিন্নভাবে পালন করা সম্ভব হচ্ছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রকল্পের কার্যক্রমের ফলে উন্নত মৎস্য চাষ প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে স্থাপনাসমূহের উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। পাশাপাশি সরকারি মৎস্য স্থাপনাসমূহ উন্নয়নের মাধ্যমে মৎস্য চাষি ও মৎস্যজীবীদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব হবে। এছাড়া, স্থানীয় মৎস্য চাষিদের প্রশিক্ষণ প্রদান ও সম্প্রসারণের মাধ্যমে প্রযুক্তি উন্নয়ন ও হস্তান্তর করা সম্ভব হবে।

মৎস্য বিভাগীয় উপ-পরিচালকের দপ্তর, রংপুর

মৎস্য সংশ্লিষ্টরা জানান, মাছ চাষে সফলতায় ভাল ও গুণগত মানসম্পন্ন রেণু ও পোনা প্রাপ্যতা অন্যতম প্রধান শর্ত এবং ভাল জাতের ও গুণগত মানসম্পন্ন রেণু ও পোনার প্রধান উৎস্য হলো মৎস্য হ্যাচারি ও নার্সারি। বর্তমানে দেশে মাছ চাষ সম্প্রসারণের সাথে সাথে উন্নত জাতের রেণু ও পোনার চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এ চাহিদা পূরণে সরকারি হ্যাচারি ও নার্সারিগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মাধ্যমে ডিপিপিতে সংস্থানকৃত ৬০টি নতুন উপজেলা মৎস্য ভবন কাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে সবগুলো উপজেলা মৎস্য ভবন কাম প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ৮টি নতুন জেলা মৎস্য ভবনের মধ্যে জুন ২০১৭ পর্যন্ত ৭টি জেলা মৎস্য ভবন নির্মাণ কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। নারায়ণগঞ্জ জেলা মৎস্য ভবন নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে যা শীঘ্রই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে প্রকল্প অফিস। ২টি নতুন বিভাগীয় মৎস্য ভবনের মধ্যে রংপুর বিভাগীয় মৎস্য ভবন নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পূর্ণ হয়েছে। রাজধানীর উত্তরাস্থ ৯তলা বিশিষ্ট ঢাকা বিভাগীয় কাম জেলা মৎস্য ভবন নির্মাণ কাজ শীঘ্রই সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে। প্রকল্পের আওতায় ৮১টি সরকারি হ্যাচারি, মিনি হ্যাচারি, আঞ্চলিক মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সংস্কারের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। ইতোমধ্যে ৫১টি সরকারি হ্যাচারি, মিনি হ্যাচারি, আঞ্চলিক মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংস্কার সম্পূর্ণ হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৩০টি সরকারি হ্যাচারি, মিনি হ্যাচারি, আঞ্চলিক মৎস্য প্রজনন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সংস্কার কাজ খুব শীঘ্রই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছে প্রকল্প সূত্র। প্রকল্পের আওতায় অধিদপ্তরের বিভাগীয়, জেলা অফিস ও সাভার প্রশিক্ষণ একাডেমিসহ মোট ৪৮টি স্থাপনা সংস্কার ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারিত ছিল। ইতোমধ্যে ৪২টি স্থাপনা সংস্কারের কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে এবং অবশিষ্ট ৬টি স্থাপনার কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং শীঘ্রই সম্পন্ন হবে বলে জানা গেছে।

জেলা মৎস্য ভবন, জয়পুরহাট

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক মো. জাকির হোসেন দৈনিক পাঞ্জেরী’কে জানান, উন্নত জাতের মাছ চাষের পূর্বশর্ত হচ্ছে মানসম্পন্ন রেণু ও পোনা। আমাদের মৎস্য হ্যাচারি ও নার্সারিগুলো ৬০ এর দশকে নির্মাণের পর সেগুলো আর কোন সংস্কার করা হয়নি। ফলে এসব খামার থেকে রেনু ও পোনার উৎপাদন বহুলাংশে হ্রাস পেয়েছিলো। বর্তমানে প্রকল্পের কার্যক্রমের ফলে মানসম্পন্ন রেনু ও পোনার উৎপাদন নিশ্চিত হয়েছে; যা দেশের মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।