
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আওতাধীন চাষি পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের খুলনায় অনুষ্ঠিত আঞ্চলিক কমর্শালায় বক্তব্য দিচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক মো. ছারওয়ার জাহান; মঞ্চে উপবিষ্ট আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ
নিজস্ব প্রতিনিধি : কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই)’র আওতাধীন চাষি পর্যায়ে উন্নতমানের ধান, গম ও পাট বীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের বার্ষিক কর্মপরিকল্পনা বিষয়ক দিনব্যাপী আঞ্চলিক কমর্শালা গত ২৩ জুলাই খুলনার দৌলতপুরস্থ ডিএই অডিটরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক মো. ছারওয়ার জাহান কমর্শালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। ডিএই’র খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মোহন কুমার ঘোষের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ডিএই’র নড়াইল জেলার উপপরিচালক মো. আমিনুল হক, উপপরিচালক (খুলনা) মো. আব্দুল লতিফ, উপপরিচালক (সাতক্ষীরা) কাজী আব্দুল মান্নান, উপপরিচালক (বাগেরহাট) মো. আফতাব উদ্দিন ও জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা (নড়াইল) এস এম ফেরদৌস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য এবং প্রকল্পের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিষয়ক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপপ্রকল্প পরিচালক সুরজিত সাহা রায়।
প্রকল্প পরিচালক মো. ছারওয়ার জাহান বলেন, কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের বীজ সংকট দূর করতে এ প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি কৃষক গ্রুপকে বীজ ব্যবসায়ী হিসেবে তৈরি করা হবে। এ বীজ ব্যবসায়ী দল প্রয়োজনে ১ থেকে ৫ একর জমি লিজ নিয়ে বীজ উৎপাদনের নিয়মকানুন মেনে বীজ উৎপাদন করবেন। ফলে এ গ্রুপটি ঐ ইউনিয়নের বীজ সরবরাহকারী গ্রুপ হিসেবে গড়ে উঠবে; বীজ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণসমূহ এ প্রকল্প থেকে সরবরাহ করা হবে। তিনি আরো বলেন, বীজ উৎপাদন এখন ব্যক্তি পর্যায় থেকে সংগঠন পর্যায়ে চলে গেছে। একটি ইউনিয়নে তিনটি মৌসুমে কি পরিমাণ ধান, গম ও পাট বীজের প্রয়োজন তা নির্ধারণ করে কৃষক সংগঠন নির্বাচন করতে হবে। এ সংগঠনটির বীজ উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় জমি লিজ নেয়ার সক্ষমতা থাকতে হবে, বাদবাকি সহায়তা প্রকল্প থেকে করা হবে বলে তিনি জানান।
প্রকল্পে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিষয়ে উপপ্রকল্প পরিচালক সুরজিত সাহা রায় বলেন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১ লাখ ১৯ হাজার ৭শ’ মে. টন ধান বীজ, ১০ হাজার ৫শ’ মে. টন গম বীজ ও ১শ’ ৫০ মে. টন পাট বীজ উৎপাদন ও বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে এ প্রকল্প কাজ করে যাচ্ছে। কৃষক, কৃষি সম্প্রসারণ ও সংশ্লিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সম্পর্ক জোরদার করে চাষি পর্যায়ে লাগসই নতুন জাত সম্প্রসারণসহ প্রদর্শনী কার্যক্রমে শতকরা ৩০ ভাগ মহিলাদের সম্পৃক্তকরণের মাধ্যমে দারিদ্র্য বিমোচন করা এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও নড়াইল জেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম পাওয়ার পয়েন্টে উপস্থাপন করা হয়। দিনব্যাপী এ কর্মশালায় খুলনা অঞ্চলভুক্ত ৪ জেলার জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাগণ, কৃষি তথ্য সার্ভিস (খুলনা) প্রতিনিধি, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন, কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

