
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দিচ্ছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক, সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন
হাসান রেজা : আগামী ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের মধ্যেই মৎস্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক। তিনি বলেছেন, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে মাছের উৎপাদন ছিল ২৭ লাখ ১ হাজার মে. টন, বর্তমান মৎস্যবান্ধব সরকারের গৃহীত উন্নয়নমুখী বহুবিধ কার্যক্রম এবং চাহিদামাফিক সম্প্রসারণ সেবা প্রদানের ফলে ২০১৫-১৬ বছরে মাছের উৎপাদন ৩৮ লাখ ৭৮ হাজার মে. টনে উন্নীত হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাছের উৎপাদন ৪০ লাখ ৫০ হাজার মে. টন অর্জিত হওয়ার সম্ভাবন রয়েছে। উৎপাদনের এ ক্রমধারা অব্যাহত থাকলে আগামী ২ বছরের মধ্যে মাছ উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব। মন্ত্রী আজ মঙ্গলবার জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উপলক্ষে মৎস্য অধিদপ্তরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এ বছর ‘মাছচাষে গড়বো দেশ, বদলে দেবো বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে ১৮ জুলাই (আজ) থেকে আগামী ২৪ জুলাই জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ উদযাপিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী মোহাম্মদ ছায়েদুল হক মৎস্য খাতের সামগ্রিক কার্যক্রম উপস্থাপন করেন। এ সময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ আরিফ আজাদ, অতিরিক্ত সচিব ড. মো. নজরুল আনোয়ার, বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান দিলদার আহমদ এবং বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদসহ মৎস্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ পালন উপলক্ষে কেন্দ্রীয় ও মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামীকাল ১৯ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে মৎস্য সপ্তাহের উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। আগামী ২২ জুলাই সকাল ৮টায় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সচিব ও মহাপরিচালকের নেতৃত্বে বর্ণাঢ্য র্যালি অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় মৎস্য খাতের বিভিন্ন সাফল্য তুলে ধরা হয়। সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৫-১৬ সালে দেশে মোট ৩৮.৭৮ লাখ মে. টন মাছ উৎপাদিত হয়েছে যার মূল্য প্রায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা। সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় ২০১৬-১৭ সালে জাটকা সমৃদ্ধ ১৭ জেলার ৮৫টি উপজেলায় ২ লাখ ৩৮ হাজার ৬৭৩টি জাটকা আহরণে বিরত জেলে পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি হারে ৪ মাসের জন্য মোট ৩৮ হাজার ১৮৭ মে. টন চাল প্রদান করা হয়েছে। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৬৮,৩০৫ মে. টন মৎস্য ও মৎস্যজাত পণ্য রপ্তানি করে ৪,২৮৭ কোটি টাকা আয় হয়েছে। মৎস্য অধিদপ্তর চাঁদপুরে মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট স্থাপনের মাধ্যমে ডিপ্লোমা-ইন-ফিসারিজ কোর্স চালু করেছে। এছাড়া গোপালগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও সিরাজগঞ্জ জেলায় আরো ৩টি মৎস্য ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট স্থাপনের কাজ সফল সমাপ্তির পথে রয়েছে বলে জানানো হয়। সারাদেশে জুন-২০১৭ পর্যন্ত ১৬ লাখ ২০ হাজার জেলের নিবন্ধন ও ডাটাবেজ প্রস্তুত করা হয়েছে এবং ১৪ লাখ ২০ হাজার জেলের মধ্যে পরিচয়পত্র বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে। ২০১৬-১৭ আর্থিক সালে রাজস্ব ও উন্নয়ন খাতের আওতায় দেশব্যাপি ৫৫৮.৩৫ মে. টন পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে এবং ১,২৫১টি বিল নার্সারি স্থাপিত হয়েছে। সম্প্রতি হাওর অঞ্চলে আকস্মিক বন্যা কবলিত ৭ জেলায় মৎস্য খাতে ক্ষয়ক্ষতি প্রশমনের লক্ষ্যে মৎস্য অধিদপ্তরের উন্মুক্ত জলাশয়ে বিল নার্সারি স্থাপন ও পোনা অবমুক্তকরণ প্রকল্পের মাধ্যমে ২৯৭টি বিল নার্সারি স্থাপন এবং ৬৫ মে. টন পোনা মাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জলাশয়ে বিগত ৫ বছরে ৫৩৪টি অভয়াশ্রম স্থাপন ও পরিচালনা করা হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরে গবেষণা ও জরিপ পরিচালনার জন্য ‘আর ভি মীন সন্ধানী’ নামে একটি সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন গবেষণা ও জরিপ জাহাজের মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করে ইতোমধ্যে ১৭৬ প্রজাতির মৎস্য ও ক্রাস্টাসিয়ান পাওয়া গেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে কাঁকড়া ও কুচিয়ার চাষ আশাতীতভাবে বেড়ে চলেছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে প্রায় ১শ’ মে. টন কাঁকড়া এবং ৪২.৫ মে. টন কুচিয়া উৎপাদিত হয়েছে এবং এই সময়ে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে কাঁকড়া ও কুচিয়া রপ্তানি করে যথাক্রমে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ এবং ১ কোটি ৩২ লাখ টাকা আয় হয়েছে।

