বিনোদন ডেস্ক : টিভি নাটকে এ মুহূর্তে কোনো ব্যস্ততা নেই। কাজ করবেন না কোরবানির ঈদের আগ পর্যন্ত। থাকবেন নয়নতারাকে নিয়ে। তাকে ঘিরেই এখন যত ব্যস্ততা জনপ্রিয় অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনার। সঙ্গে আলাপকালে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। বললেন নয়নতারার কথা। পাঠক পড়ে হয়তো দ্বিধায় পড়তে পারেন। এ আবার কে? হ্যাঁ, এটা খুব সহজ উত্তর। ভাবনার এই নয়নতারা আর কেউ নন। তিনি নিজেই। ক্যারিয়ারের প্রথম চলচ্চিত্র ‘ভয়ংকর সুন্দর’-এ এই নয়নতারা রূপেই ভাবনাকে পাওয়া যাবে। অনিমেষ আইচের পরিচালনায় দীর্ঘদিনের বহুল প্রতীক্ষার পর তার অভিনীত ছবিটি এবার মুক্তির মিছিলে যোগ দিয়েছে। আসছে ৪ঠা আগস্ট বড় পর্দায় আসছেন ভাবনা। তিনি বলেন, টিভি নাটকে রোজার ঈদের জন্য বেশকিছু কাজ করেছি। এখন কোনো ব্যস্ততা নেই। কাজ করবোও না কোরবানির ঈদ পর্যন্ত। এখন এই কয়টা দিন নয়নতারাকে নিয়েই থাকতে চাই। এতদিন নাটকের এই জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে নানান রূপে দেখেছেন দর্শক। এবার অভিষেক চলচ্চিত্রে নয়নতারা রূপে হাজির হচ্ছেন তিনি। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম এমনকি সর্বত্র তার ভক্তদের মাঝে বেশ উচ্ছ্বাস দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে ভাবনার। অনুভূতি কি জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে অনুভূতির কথা বলতে পারছি না। যখন একটা কাজ আর কাজ থাকে না, তার চাইতে বেশি কিছু হয়ে দাঁড়ায় তখন কিছুই বলা যায় না। ‘ভয়ংকর সুন্দর‘-এর পেছনে প্রতিনিয়ত শ্রম দিয়েছি। এখনো দিয়ে যাচ্ছি। প্রতিটি ক্ষণ প্রত্যাশা শুধু বেড়েই চলেছে। সে জায়গা থেকে আসলে অনুভূতিটা কেমন হওয়া উচিত সে ভাষা আমার জানা নেই। ক্যারিয়ারের প্রথম চলচ্চিত্র ভাবনার। নিজেকে উজাড় করে ২০১৫ সালের পুরোটা সময় দিয়ে কাজ করেছেন ‘ভয়ংকর সুন্দর’-এর জন্য। বড় পর্দায় মুক্তিকে ঘিরে কেমন প্রস্তুতি চলছে তার? ভাবনা বলেন, দেখুন আমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ জায়গা থেকে কঠোর পরিশ্রম করে ছবিটি নির্মাণ করেছি। অনিমেষ নিজের অর্থ দিয়ে এটি তৈরি করেছে। সে জায়গা থেকে বলতে পারি আমাদের তো সেরকম কোনো অর্থ নেই। নিজেরাই যেভাবে পারবো প্রচারণা চালাবো। সেভাবে বড়সড় কোনো আয়োজন নেই যে, ‘ভয়ংকর সুন্দর’কে প্রমোট করবো। আমাদের জন্য টেলিভিশন, রেডিও ও সংবাদমাধ্যম আছে যারা আমাদের প্রচারণায় সাহায্য করবেন। আর এর মাধ্যমেই আমরা সিনেমা হলে দর্শক টানার চেষ্টা করবো। আশা করছি বাংলাদেশের মানুষ প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে ছবিটি দেখবেন। শৈশব থেকেই সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সঙ্গে পরিচয় ভাবনার। তার বাবা একজন মঞ্চ অভিনেতা ও নির্মাতা। সে সুবাদে ছোটবেলায় ক্যামেরার সঙ্গে সখ্য গড়ে ওঠে এ অভিনেত্রীর। মাত্র দুই বছর বয়সেই ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছিলেন। তবে ২০০৮ সালে মূল অভিনেত্রী হিসেবে শোবিজ অঙ্গনে তার অভিষেক ঘটে। ভাবনা অভিনীত প্রথম নাটক ‘নট আউট’। এ নাটকে নিজেকে একজন দক্ষ অভিনেত্রী হিসেবে প্রমাণ দিয়েছেন। এরপর মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর ‘ফার্স্ট ডেট’ নাটকে অভিনয় করেন। নাটকটি প্রচারের পরই বেশ আলোচিত হয়ে ওঠেন তিনি। অল্প দিনেই এই লাস্যময়ী অভিনেত্রী তার সাহসিকতা ও মেধা দিয়ে দর্শক-নির্মাতাদের নজরে আসতে সক্ষম হন।
ভাবনা বলেন, আমি অভিনয়ের প্রতি বেশি মনোযোগী। তাই নাটকের ক্ষেত্রে গল্প ও নির্মাতা বাছাই করে কাজ করি। তবে আমাকে রোমান্টিক চরিত্রেই অভিনয় করতে হবে, এমন কোনো কথা নেই। যেকোনো চরিত্রে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারি। ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই ভাবনা তার অভিনয়ের জাদু দিয়ে বেশকিছু জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক দর্শককে উপহার দিয়ে এসেছেন। এর মধ্যে রয়েছে ‘চৌধুরী ভিলা’, ‘অচেনা প্রতিবিম্ব’, ‘শূন্য সমীকরণ’, ‘চেনা মুখ অচেনা মুখ’, ‘জয় পরাজয়’, ‘সোনার সুতা’ প্রভৃতি।

