
বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিএডিসি’র সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছেন বিএডিসি’র চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামান; সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন
নিজস্ব প্রতিবেদক : বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিএডিসি’র সার ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভূমিকা শীর্ষক একটি সেমিনার গত ১৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর দিলকুশাস্থ বিএডিসি’র প্রধান কার্যালয় কৃষি ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিএডিসি’র বিদ্যমান সার গুদামসমূহের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনর্বাসন ও সার ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্প (এফএমএসপি)’র আয়োজনে সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামান। সদস্য পরিচালক (সার ব্যবস্থাপনা) মো. মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন মহাব্যবস্থাপক (সার ব্যবস্থাপনা) আশুতোষ লাহিড়ী, মহাব্যবস্থাপক (বীজ) নূর মোহাম্মদ মন্ডল, সদস্য পরিচালক (অর্থ) মোহাম্মদ মাহফুজুল হক।
চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, প্রতি বছর আমাদের প্রায় ৬৮ হাজার হেক্টর কৃষিজমি হ্রাস পাচ্ছে, অন্যদিকে ২০ লাখের মতো জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে পুষ্টিকর খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির বিকল্প নেই। এজন্য আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে আমাদের খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করতে হবে। তবে উৎপাদন বাড়াতে অধিকমাত্রায় সার ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসার তাগিদ দেন তিনি। এক্ষেত্রে সুষ্ঠু পরিবেশ নীতি পালনসহ উত্তম ফসল ব্যবস্থাপনার উপর গুরুত্বারোপ করে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির জন্য জৈব সার ব্যবহারের পরামর্শ দেন চেয়ারম্যান। জৈব সার বাজারজাতকরণ এবং অর্গানিক ফার্মিংয়ে বিএডিসি’র সংশ্লিষ্ট উইং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
আশুতোষ লাহিড়ী বলেন, সারের বর্তমান ধারণ ক্ষমতার অতিরিক্ত ৫০ হাজার মে. টন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রিফ্যাব্রিকেটেড স্টিল গোডাউন নির্মাণের কার্যক্রম ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। তিনি আরো বলেন, প্রতি বছর সারের চাহিদা বাড়ছে; বর্তমান সরকারের সুষ্ঠু ও কৃষিবান্ধব নীতির কারণে সারাদেশে চাহিদামাফিক সার সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। বিগত বছরের চাইতে এ বছর ৪ হাজার মে. টন সার বেশি বিক্রি হয়েছে এবং বর্তমান অর্থ বছরে ১১ লাখ ৫০ হাজার মে. টন সার আমদানি করা হবে বলেও সেমিনারে জানান তিনি।
নূর মোহাম্মদ মন্ডল বলেন, সারের মূল্য কমানো, ডিলারের সংখ্যা বৃদ্ধি, বেসরকারি পর্যায় থেকে বিএডিসিকে সার সরবরাহে সম্পৃক্তকরণসহ বর্তমান সরকারের বিভিন্ন দূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে সার নিয়ে কৃষককে এখন আর চিন্তা করতে হয় না। তবে, বাজেট অপ্রতুলতা, পরিবহণ ও জনবল সংকটের কারণে কৃষকের কাছে সার পৌঁছে দিতে অনেক বেগে পেতে হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মোহাম্মদ মাহফুজুল হক বলেন, সার আমদানিতে এলসি’র সুদ ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশ করা হয়েছে; এর ফলে সারের আমদানি খরচ অনেক কমে যাবে।
সেমিনারের শুরুতে স্বাগত বক্তব্যে এফএমএসপি’র প্রকল্প পরিচালক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, বিএডিসি’র সার বিভাগ অত্যন্ত দক্ষতার সাথে সঠিক পরিমাণে গুণগত মানসম্পন্ন সার যথাসময়ে সরবরাহের মাধ্যমে দেশব্যাপী সুনাম অর্জন করেছে এবং কৃষকের আস্থায় পরিণত হয়েছে। তিনি আরো বলেন, নন-ইউরিয়া সারের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ইউরিয়া সারের ব্যবহার হ্রাস পাচ্ছে; সুষম সার ব্যবহারে চাষিরা আগ্রহী হচ্ছেন। এর ফলে মাটির স্বাস্থ্যের উন্নতি হচ্ছে এবং ফসল উৎপাদন বাড়ছে যা দেশের খাদ্য নিরাপত্তায় বিরাট ভূমিকা রাখছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্য শেষে সেমিনারে উপস্থাপিত মূল প্রবন্ধের উপর মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন জাতীয় সবজি বীজ প্রকল্পের পরিচালক মুশতাক আহমেদ, প্রধান প্রকৌশলী (সওকা) মো. লুৎফর রহমান, মহাব্যবস্থাপক (পাট বীজ) মো. ফারুক জাহিদুল হক, যুগ্ম পরিচালক ড. মো. রেজাউল করিম, বিএডিসি’র বিদ্যমান বীজ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বিতরণ ব্যবস্থাদির আধুনিকীকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক রিপন কুমার মন্ডল, প্রধান প্রকৌশলী (নির্মাণ) মো. ফেরদৌসুর রহমান, মহাব্যবস্থাপক (এগ্রো সার্ভিস সেন্টার) মো. নূরুন্নবী সরকার, মহাব্যবস্থাপক (ক্রয়) মেরিনা সারমীন, যুগ্ম পরিচালক (যশোর) সেলিম হায়দার, যুগ্ম পরিচালক শামসুদ্দিন আলম, উপব্যবস্থাপক (বীপ্রস) ড. মো. শাফায়েত হোসেন, উপব্যবস্থাপক (পরিবহন) রাজীব হোসেন এবং বিএডিসি’র সার ডিলারদের প্রতিনিধি আখতার হোসাইন।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এফএমএস প্রকল্পের সহকারী প্রকল্প পরিচালক ড. আজিজা বেগম। বিএডিসি’র বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট আরো অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বিএডিসি’র সার ব্যবস্থাপনা বিভাগসহ অন্যান্য বিভাগে প্রকট জনবল সংকট, পদ শূন্যতা ও পরিবহণ সংকট সমাধানে সেমিনারে আশু হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়।

