ঢাকাSunday , 9 July 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

প্রাণিসম্পদের উন্নয়নে স্থাপিত হচ্ছে ৫টি ইনস্টিটিউট

Link Copied!

নিজস্ব প্রতিবেদক : প্রাণিসম্পদ খাতে উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণসহ মাঠ পর্যায়ে চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবা কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দক্ষ জনসম্পদ সৃষ্টিতে ৫টি ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি স্থাপনের কার্যক্রম দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইনস্টিটিউটগুলোতে প্রাণিসম্পদ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্সে অধ্যয়ন করতে পারবেন। প্রতিটি ইনস্টিটিউটে প্রতি বছর ৪০ জন করে শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবেন। ফলে প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়নের জন্য ডিপ্লোমা মানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি তৈরির ধারা সফলতার সাথে অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে।
সূত্র জানায়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের আওতাধীন ইনস্টিটিউট অব লাইভস্টক সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প এ লক্ষ্যে কাজ করছে। প্রকল্পের মাধ্যমে নেত্রকোনা সদর, গোপালগঞ্জ সদর, খুলনার ডুমুরিয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে নতুন ৪টি ইনস্টিটিউট র্মিাণ করা হবে। এর মধ্যে নাসিরনগরে ৮০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে; এখানে আগামী বছরই একাডেমিক কার্যক্রম শুরু করা যাবে বলে জানায় প্রকল্প অফিস। অন্যদিকে, গাইবান্ধা এলটিআই ইতোমধ্যে ইনস্টিটিউটে রূপান্তরিত হয়েছে যেখানে আছে একাডেমিক ভবন, লাইব্রেরি, ছাত্র হোস্টেল, ছাত্রী হোস্টেল, ভ্যাটেরিনারি হাসপাতাল। এছাড়া, নির্মিতব্য অন্য ইনস্টিটিউটগুলোর ভবনের পাইলিংয়ের কাজ শেষ হয়েছে; অবকাঠামো নির্মাণের কাজ শীঘ্রই শুরু হবে বলে জানা গেছে।
২০১৪ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পের কার্যক্রম আগামী ২০১৯ সাল নাগাদ সম্পন্ন হওয়ার কথা। প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ২০৭ কোটি ৩৭ লাখ ৬৪ হাজার টাকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ইনস্টিটিউটগুলো স্থাপনের ফলে আধুনিক ও বাস্তবসম্মত শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ডিপ্লোমা কোর্সের গুণগতমান বজায় রেখে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি হবে। এই জনশক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন এবং সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধন করে দেশের প্রাণিজ আমিষের ঘাটতি কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, কৃষি প্রধান বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রাণিসম্পদ খাত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এ খাত থেকে মানুষের অন্যতম খাদ্য দুধ, মাংস, ডিম (প্রাণিজ আমিষ) উৎপাদিত হচ্ছে। দেশের লাখ লাখ বেকার যুবক, দুস্থ মহিলা ও খামারি গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগি লালন-পালনের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দারিদ্র্য হ্রাসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
সরকারও প্রাণিসম্পদের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। ইতোমধ্যে দেশে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক গরু, ছাগল ও পোল্ট্রি খামার স্থাপিত হয়েছে। এছাড়া উদ্যোক্তারা এ খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে দেশের বেকার যুবক, মহিলা ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করেছেন। দ্রুত বর্ধনশীল এ খাতের বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে আরও বেশি কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন জনশক্তির প্রয়োজন। কিন্তু চাহিদা মতো দক্ষ জনশক্তির যোগান দেওয়ার মতো কাঠামো দেশে নেই। এমনকি কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশে কোনো ডিপ্লোমা মানের ইনস্টিটিউট এখন পর্যন্ত গড়ে ওঠেনি। অন্যান্য খাতে দক্ষ বা কারিগরি জনবল সৃষ্টির লক্ষ্যে ডিপ্লোমা ইনস্টিটিউট গড়ে উঠলেও প্রাণিসম্পদ খাতে কোনো ডিপ্লোমা মানের ইনস্টিটিউট গড়ে ওঠেনি। দুধ, মাংস ও ডিমের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে উন্নত প্রযুক্তি সম্প্রসারণ এবং মাঠ পর্যায়ে এ সমস্ত প্রযুক্তির সফল ব্যবহার তদারকিকরণের জন্য দক্ষ ও কারিগরি জনশক্তি খুব প্রয়োজন। এ ছাড়া বিভিন্ন দুর্যোগ মোকাবেলাসহ গবাদি প্রাণী-পাখির রোগ নিয়ন্ত্রণ, খামারিদের প্রশিক্ষণ, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ খাতে প্রচুর সংখ্যক দক্ষ জনবলের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
প্রকল্পের প্রধান কার্যক্রমগুলো হচ্ছে-প্রতিটি ইনস্টিটিউটের জন্য ৩ একর করে জমি অধিগ্রহণ, ৬তলা ফাউন্ডেশনসহ ৪তলা বিশিষ্ট একাডেমিক প্রশাসনিক যেখানে থাকবে লাইব্রেরি ও ল্যাবরেটরি (গাইবান্ধা ছাড়া), ৪তলা ফাউন্ডেশনসহ ২তলা বিশিষ্ট ভেটেরিনারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক ল্যাব (গাইবান্ধা ছাড়া) যেখানে শিক্ষার্থীরা হাতে কলমে প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবেন, ৬তলা ফাউন্ডেশনসহ ৪তলা বিশিষ্ট ক্যাফেটেরিয়া, অডিটরিয়াম ও শিক্ষকদের ডরমিটারি (গাইবান্ধা ছাড়া), ৬তলা ফাউন্ডেশনসহ ৫তলা বিশিষ্ট ছাত্র হোস্টেল (গাইবান্ধা ছাড়া) যেখানে ১৩৮ জন শিক্ষার্থী আবাসনের সুযোগ পাবেন, ৬তলা ফাউন্ডেশনসহ ৫তলা বিশিষ্ট ছাত্রী হোস্টেল যেখানে ৮৮ জন শিক্ষার্থীর আবাসনের ব্যবস্থা থাকবে, ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষের আবাসনের জন্য ২তলা বিশিষ্ট কোয়ার্টার নির্মাণ, ৬তলা ফাউন্ডেশনসহ ৪তলা বিশিষ্ট ৪র্থ শ্রেণির ডরমিটরি নির্মাণ।
জানতে চাইলে প্রকল্প পরিচালক ডা. মুহাম্মদ হায়দার আলী দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রাণিসম্পদ বিষয়ে ডিপ্লোমা করার কোন সুযোগ ছিল না। ফলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনশক্তির অপ্রতুলতা রয়েছে। এই ইনস্টিটিউটগুলো স্থাপিত হলে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা এখানে ৪ বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স করতে পারবে। এতে করে দক্ষ ও মানসম্পন্ন জনশক্তি প্রাণিসম্পদ খাতে যুক্ত হয়ে এ সেক্টরের উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।