নিজস্ব প্রতিবেদক : বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও গতকাল ১ জুন বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উদযাপিত হয়েছে। দুধ এবং দুগ্ধজাত পণ্যের উপকারিতা বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও)’র উদ্যোগে ২০০১ সাল থেকে প্রতি বছর জুন মাসের প্রথম দিনে দিবসটি পালিত হচ্ছে। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘দুধ পানের অভ্যাস গড়ি, পুষ্টি চাহিদা পূরণ করি’।
এদিন রাজধানীর ফার্মগেটস্থ প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সামনে থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হয়। কৃষি খামার সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে র্যালিটি ফার্মগেটস্থ বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে গিয়ে শেষ হয়।
একইদিন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশে বেশি দুধ গ্রহণের মাধ্যেমে পুষ্টি বৃদ্ধিকরণ’ শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার যৌথ আয়োজনে সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাকসুদুল হাসান খান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথি বলেন, ২০১১-১২ অর্থ বছরে দেশে দুধ উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩৪.৬০ লাখ মে. টন। মাত্র পাঁচ বছরে এই উৎপাদন বেড়ে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৭২.৭৫ লাখ মে. টনে উন্নীত হয়েছে। মাত্র ৫ শতাংশ সুদে ব্যাংক লোন দিয়ে সরকার দুধ উৎপাদন উৎসাহিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। কাজেই দুধ উৎপাদন বৃদ্ধির এ ধারা যেমন আমাদের ধরে রাখা প্রয়োজন; তেমনি দরকার গুণগত মানসম্পন্ন দুধ উৎপাদন নিশ্চিত করা। তিনি আরো বলেন, দুগ্ধনীতির খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে যেখানে মানসম্মত দুধ উৎপাদনের উপর জোর দেয়া হয়েছে। এই নীতি বাস্তবায়ন করা গেলে পর্যাপ্ত দুধ উৎপাদন, দুগ্ধ বহুমূখীকরণ, মান নিয়ন্ত্রণ, রপ্তানি করা সবই সম্ভব হবে। এছাড়া, দুগ্ধ বাজারজাতকরণের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করাও এখন অত্যন্ত প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন। তিনি আরো বলেন, ইতোমধ্যেই শ্বেত বিপ্লবের লক্ষ্যে বিশ্ব ব্যাংক প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করতে যাচ্ছে যার মাধ্যমে গুণগত মানসম্পন্ন দুধ উৎপাদন করতে আমরা সক্ষম হবো।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের এআইইটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. বেলাল হোসেন। সেমিনারে জানানো হয়, এদেশে সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও অনেক অভিভাবকের মধ্যে সন্তানদের দুধ পানে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। বিভিন্ন ফাস্ট ফুড বা ড্রিংকসের পেছনে অর্থ ব্যয় করলেও দুধ পানের বিষয়ে অভিভাবকদের উৎসাহ দিতে দেখা যায় না। সেমিনারে শিশুদের নিয়মিত দুধ পানে সচেতন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। বিশেষ করে সুস্থ ও মেধাবি জাতি গঠনের লক্ষ্যে অন্ততপক্ষে সপ্তাহের একটি দিনে বিদ্যালয়গুলোতে স্কুলের টিফিনে দুধ সরবরাহের উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আইনুল হকের সভাপতিত্বে সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রতিনিধি মিসেস সু লাউজ ও বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)’র নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. জালাল উদ্দীন।
প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, দুধ শুধুমাত্র শিশুখাদ্য নয়; সকল বয়সের মানুষের জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর স্বাস্থ্যসম্মত পূর্ণাঙ্গ খাদ্য। মেধা বিকাশ থেকে শুরু করে নিরোগ জীবন যাপনের বিকল্পহীন খাদ্যের নামই দুধ।
সেমিনারে দুগ্ধ শিল্প উদ্যোক্তরা নিরাপদ দুগ্ধ উৎপাদনের লক্ষ্যে সুসংগঠিত বাজার ব্যবস্থা, গো-খাদ্যের মূল্য স্থিতিশীলতা, সহজ শর্তে ঋণ প্রাপ্তি, খামার উপকরণে ভর্তুকি, বহুমুখীকরণ শিল্পে ঋণ প্রদানসহ সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশ্ব দুগ্ধ দিবস উপলক্ষে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উদ্যোগে বিভিন্ন এতিমখানায় দুধ বিতরণ করা হয়।

