ঢাকাSaturday , 8 April 2017
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কুমড়া চাষে ধু ধু বালুচরে শফিকুলের সোনালী স্বপ্ন

Link Copied!

শতভাগ বালুতে চাষযোগ্য মিষ্টি কুমড়ার আবাদে স্বচ্ছলতার স্বাদ পাচ্ছেন রংপুরের চরাঞ্চলের অনেক কৃষক; ছবিটি জেলার কাউনিয়ার কৃষক শফিকুলের ক্ষেত থেকে কিছুদিন আগে তোলা

শতভাগ বালুতে চাষযোগ্য মিষ্টি কুমড়ার আবাদে স্বচ্ছলতার স্বাদ পাচ্ছেন রংপুরের চরাঞ্চলের অনেক কৃষক; ছবিটি জেলার কাউনিয়ার কৃষক শফিকুলের ক্ষেত থেকে কিছুদিন আগে তোলা

নিজস্ব প্রতিনিধি : রংপুরের কাউনিয়ার হরিচরণশর্মা গ্রামের শফিকুলের চোখে এখন সোনালী দিনের স্বপ্ন। অভাবের সংসারে আশীর্বাদ নিয়ে এসেছে শতভাগ বালুতে চাষযোগ্য মিষ্টি কুমড়া। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সমন্বিত কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের আওতায় দল গঠনের মাধ্যমে মিষ্টি কুমড়ার আবাদ করে শফিকুলের চোখে এখন স্বনির্ভর ও স্বচ্ছল জীবন গড়ার প্রত্যয়।
এইচএসসি পাশ শফিকুল ইসলাম পিতার মৃত্যুর কারণে লেখাপড়া চালাতে পারেননি। পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫ জন। পিতার অবর্তমানে পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব পড়ে তার কাঁধে; অভাবের সংসার কিভাবে চলবে ভেবে উঠতে পারছিলেন না। এ সময় পরিচয় হয় উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসের রাজিব ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ইমদাদুল হকের সাথে। শফিকুল তাকে জানালেন, তার গ্রামের অধিকাংশ চাষি চর এলাকায় বসবাস করে ওখানেই চাষাবাদ করে জীবিকা নির্বাহ করে। কিন্তু চরে চাষাবাদে প্রযুক্তিগত জ্ঞানের বড়ই অভাব। তাই শফিকুল তার গ্রামে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের নিয়ে একটি দল গঠন করে কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাকে অনুরোধ জানান। উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সাথে পরামর্শক্রমে শফিকুলের এলাকায় সমন্বিত কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের আওতায় ৪০ সদস্যবিশিষ্ট একটি দল গঠনের সিদ্ধান্ত নেন এবং বিগত ২০১৫ সালের মে মাসে দল গঠন সম্পন্ন হয়। দল গঠনের পর উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দলের চাষিদের চাষাবাদ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ প্রদান করেন। এ সময় দলের চাষিরা চরে আবাদযোগ্য ফসলের উপর উপজেলা কৃষি অফিসে বিভিন্ন সময়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। উক্ত দলের আগ্রহী ৪ জন চাষির মাঝে ২০১৫ সালে শতভাগ বালুতে চাষযোগ্য মিষ্টি কুমড়ার প্রদর্শনী স্থাপন করা হয়। প্রদর্শনীতে শফিকুলের প্রায় ৪০ শতক জমি ছিল। এই প্রদর্শনী তার জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। এখানে আবাদ করা মিষ্টি কুমড়ার ফলনে শফিকুল ও অন্য চাষিরা এতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। শফিকুলের প্রদর্শনীর ঐ ৪০ শতক জমিতে ২৫০টি গর্তে ৭৫০টি গাছে দেড় হাজার মিষ্টি কুমড়ার ফলন আসে-যার ওজন প্রায় ৮ মেট্রিক টন, বাজারমূল্য প্রায় ৮০ হাজার টাকা। চরে মিষ্টি কুমড়া আবাদ খুবই লাভজনক দেখে শফিকুল ও তার দলের সদস্যরা চরে মিষ্টি কুমড়া চাষের সিদ্ধান্ত নেন। ২০১৫ সালের অভিজ্ঞতা থেকে শফিকুল ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা দলের সকল সদস্যকে ২০১৬ সালে মিষ্টি কুমড়া চাষে উদ্বুদ্ধ করেন। গত রবি মৌসুমে কৃষি বিভাগের সার্বিক সহযোগিতায় শফিকুল ৪০ জন কৃষক-কৃষাণি মিলে ৭ হেক্টর জমিতে শতভাগ বালুতে আবাদযোগ্য মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেন।
বর্তমানে ধু ধু বালুচর মিষ্টি কুমড়ার আশাতীত ফলনে ভরে উঠেছে। মৌসুমের শুরুতে আবাদ করা ক্ষেত এখন পরিপক্ক আর সোনালী মিষ্টি কুমড়ায় সমৃদ্ধ। শফিকুল এখন ক্ষেত থেকে কুমড়া উত্তোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এ মৌসুমে তার নিজস্ব ২৫০টি গর্তে মিষ্টি কুমড়ার কাক্সিক্ষত ফলন এসেছে যা বিক্রি করে ৭০-৮০ হাজার টাকা আয় করতে পারবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
অভাব, দারিদ্র, অশিক্ষা আর ক্ষুধায় ভরা বালুচরে শফিকুল এঁকেছেন সোনালী দিনের স্বপ্ন। যে চর একসময় ছিল শুধু বালুতে ঘেরা সেখানে শফিকুল তার জীবন বিনির্মানে গড়ে তুলেছেন সবুজের সমারোহ। সমন্বিত কৃষি উন্নয়নের মাধ্যমে পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ প্রকল্পের সহায়তায় এই মিষ্টি কুমড়া চাষে ইতোমধ্যেই তার অভাবের সংসারে লেগেছে খুশির ছোঁয়া। সরকারের কৃষি বিভাগের সহায়তায় শফিকুলের সাথে সাথে তার দলের বাকি সদস্যরাও এখন বুনছেন স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ জীবন গড়ার স্বপ্ন।
শফিকুল জানালেন, শতভাগ বালুতে চাষযোগ্য মিষ্টি কুমড়া এই এলাকার কৃষকদের মনে আশার সঞ্চার করেছে; তারা এই কুমড়া চাষ করে জীবন বদলে দিতে চান-গড়তে চান স্বচ্ছল ও সমৃদ্ধ জীবন।