লালমনিরহাট প্রতিনিধি : রত্নাই নদীর কারণে লালমনিরহাট সদর উপজেলার কুলঘাট ইউনিয়নের সম্ভাবনাময় শিবেরকুটি এলাকা আধুনিক সভ্যতার উন্নত যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন । স্বাধীনতার পর ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও শিবেরকুটিতে একটি সেতু নির্মাণ করা যায়নি। বছর জুড়েই শিবেরকুটিবাসীকে বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হয়। এলাকাটি কুলাঘাট ইউনিয়নের প্রায় ৩টি ওয়ার্ডের অংশজুড়ে। সেতু না থাকায় মহাদুর্ভোগে আছে শিবেরকুটির ১৪ হাজার মানুষ। সংসদ নির্বাচনকালে প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিলেও সেতু নির্মাণ করতে পারেননি জনপ্রতিনিধিরা।
প্রাক্তণ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী জিএম কাদের তার নির্বাচনী এলাকা শিবেরকুটিবাসীর চলাচলের জন্য রত্নাই নদীর ওপর রাবার ড্যাম কাম ব্রিজ নির্মাণে ব্যবস্থা নিতে ২০১০ সালের ২৮ অক্টোবর আবেদন জানান। সেই আবেদনও কোন কাজ হয়নি। বিএনপির প্রাক্তণ উপমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলুর নির্বাচনী এলাকা সত্বেও সেতু নির্মাণ করতে পারেননি। বর্তমান সাংসদ আবু সালেহ মোহাম্মদ সাঈদও পারছেন না। জনপ্রতিনিধিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় শিবেরকুটিবাসী হতাশ।
কুলাঘাট ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আনিছুর রহমান বলেন, ‘আমার নির্বাচনী সম্পূর্ণ এলাকাটি রত্নাই নদী দ্বারা বিচ্ছিন্ন। অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে এ এলাকার প্রায় ১৪ হাজার মানুষের কাঙ্খিত জীবনমান উন্নয়ন হচ্ছে না। আর্থসামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়ছে। সহজে শিক্ষা ও চিকিৎসা লাভ করা যাচ্ছেনা। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।’
কুলাঘাট ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী জানান, ‘উপজেলার মাসিক উন্নয়ন সমন্বয় সভায় সেতু নির্মাণের কথা একাধিকবার উপস্থাপন করা হলেও লাভ হয়নি।’ লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী আল আমিন খান বলেন, ‘শিবেরকুটিতে সেতু নির্মাণের জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। কিন্তু বরাদ্দ মিলছে না।’
লালমনিরহাট-৩ (সদর উপজেলা) আসনের সাংসদ আবু সালেহ মোহাম্মদ সাঈদ বলেন, ‘স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকাবাসীর গণস্বাক্ষরিত আবেদনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেওয়া হয়েছে। রত্নাই নদীতে সেতু নির্মাণের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’

