নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জাসদের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার কয়েকবার নির্বাচিত চেয়ারম্যান, সাবেক সংসদ সদস্য, ১৯৮৮-৯০ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা এহসান আলী খান গত শুক্রবার (১০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টায় ঢাকায় সেন্ট্রাল হসপিটালে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি…রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। তিনি স্ত্রী, ৩ পুত্র, ৫ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন-গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মরদেহ রাতেই চাঁপাইনবাবগঞ্জে তার নিজস্ব নিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। শনিবার বাদ জোহর চাঁপাইনবাবগঞ্জ ফকিরপাড়া কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দান সংলগ্ন গোরস্থানে দাফন করা হয়।
তথ্যমন্ত্রীর শোক : জাসদ সভাপতি তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি দলের প্রতিষ্ঠাতা সহ-সভাপতি এহসান আলী খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন এবং তার শোক সন্তপ্ত পরিবার ও স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন। দলটির সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার এমপিও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
কর্মময় জীবন : এহসান আলী খান ১৯৩১ সালের ১ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহরের পাঠানপাড়া মহল্লার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা প্রয়াত এন্তাজ আলী খান এবং মাতা প্রয়াত আয়েশা খানম। পিতা-মাতার একমাত্র সন্তান তিনি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ পরবর্তীতে আওয়ামী মুসলিম লীগের রাজনীতি করার সুযোগে মজলুম জননেতা মাওলানা ভাসানী, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান প্রমুখ বরেণ্য রাজনীতিকদের সান্নিধ্য লাভ করেন এহসান আলী খান। তিনি দুইবারের (দ্বিতীয় ও চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) নির্বাচিত অন্যতম সফল সংসদ সদস্য হিসেবে চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিভিন্ন উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। দ্বিতীয়বার সংসদ সদস্য থাকাকালীন সময়ে তিনি বিরোধী দলীয় উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ঐতিহ্যবাহী চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভার অন্যতম সফল চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতাল আধুনিকীকরণ, শহীদ সাটু হল, নিউ মার্কেট, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সরকারি কলেজ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহিলা সরকারি কলেজ, আলিয়া মাদ্রাসাসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন এহসান আলী খান।
শুধু রাজনীতিক নন, একজন নন্দিত নাট্য ও ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব হিসেবেও এহসান আলী খানের খ্যাতি রয়েছে। তার তত্ত্বাবধানে ষাটের দশকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ টাউন ক্লাব নামে একটি চৌকষ ফুটবল দল গঠিত হয়। সেই সময় এই ফুটবল দলটি রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করে। ভালো রেফারি হিসেবেও এহসান আলী খানের ছিল যথেষ্ট খ্যাতি। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ পরবর্তীতে তার আন্তরিক প্রচেষ্টায় তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ মহকুমা শহরে প্রথম গড়ে ওঠে ‘উদয়ন নাট্য সংসদ’ নামে একটি নাট্য গোষ্ঠী (এমেচার ক্লাব)। উদয়ন নাট্য সংসদের প্রতিটি নাটকই তৎকালীন জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের বিখ্যাত শিল্পী অভিনীত ‘চ্যারিটি শো’ হিসেবে মঞ্চস্থ হতো। এসব শো থেকে অর্জিত অর্থ হরিমোহন ইনস্টিটিউশন, রামকৃষ্ণ মিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দান করা হতো। শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিকাশে সেই সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন সংস্কৃতিসেবী এহসান আলী খান।

