
মাঠ দিবস অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় বক্তব্য দিচ্ছেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. রেজাউল করিম। মঞ্চে উপবিষ্ট বিএডিসি’র চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামানসহ আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথিবৃন্দ
নিজস্ব প্রতিনিধি : বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি)’র নীলফামারীস্থ ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারে জীব প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি বীজ উন্নয়ন, বর্ধিতকরণ, মান নিরূপণ ও প্রযুক্তি বিস্তার প্রকল্পের উদ্যোগে গত ৩১ জানুয়ারি (মঙ্গলবার) দিনব্যাপী কৃষক সমাবেশ ও মাঠ দিবস পালিত হয়েছে।
মাঠ দিবস অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএডিসি’র চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামান, বিশেষ অতিথি ছিলেন সদস্য পরিচালক (বীজ ও উদ্যান) মো. মাহমুদ হোসেন এবং মহাব্যবস্থাপক (বীজ) নূর মোহাম্মদ মন্ডল। অতিরিক্ত মহাব্যবস্থাপক (সিডিপি ক্রপস) মো. ইকবাল হোসেনের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মো. রেজাউল করিম।
সমাবেশে বিভিন্ন জেলার ৩৫০ জন কৃষককে বিভিন্ন গ্রুপে টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে বীজ আলু উৎপাদন প্রক্রিয়া বিষয়ে হাতে কলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। এ সময় তাদেরকে আলুর নতুন জাতসহ অন্যান্য জাত সম্পর্কেও সম্যক ধারণা দেয়া হয়।
মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, আলু উৎপাদনে আমরা ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছি। এ অর্জনকে ধরে রেখে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। তিনি বলেন, গত বছর দেশে বীজ আলুর চাহিদা ছিল সাড়ে ৬ লাখ মে. টন। এর মধ্যে বিএডিসি নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার ২৭ হাজার মে. টন বীজ আলু কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করেছে; চলতি বছর ৩৩ হাজার মে. টন বীজ আলু বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তা শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। বর্তমান সরকারের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে আগামী ২০২১ সাল নাগাদ বিএডিসি কর্তৃক ৬০ হাজার মে. টন বীজ আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আন্তরিক হতে পরামর্শ দেন তিনি।
ড. মো. রেজাউল করিম বলেন, প্রকল্পের মাধ্যমে ল্যাবে প্লান্টলেট উৎপাদন ও তা থেকে মিনি টিউবার ও ব্রিডার বীজ উৎপাদন করে কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। এর ফলে গত উৎপাদন বর্ষে বিএডিসি’র বীজ আলু আমাদানি শূন্যের কোটায় নেমে এসেছে। এছাড়া বিএডিসি রোগমুক্ত ও মানসম্পন্ন বীজ আলু উৎপাদন ও সরবরাহ করায় দেশে গড় ফলন প্রতি হেক্টরে ১৫ মেট্রিক টন হতে বৃদ্ধি পেয়ে ১৯.৫০ মে. টনে উন্নীত হয়েছে। তিনি আশা করেন, আগামীতে এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ করে বিদেশে রপ্তানির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন ডোমার ভিত্তি বীজ আলু উৎপাদন খামারের উপ-পরিচালক মো. এনামুল হক, রংপুরের উপ-পরিচালক (টিসি) নির্মাল্য কুমার দাস, বিএডিসি হিমাগার (কুড়িগ্রাম)-এর উপ-পরিচালক (টিসি) আবু তালেব, নশিপুর (দিনাজপুর) হিমাগারের উপ-পরিচালক (টিসি) উৎপল কুমার সাহা, শিবগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) হিমাগারের উপ-পরিচালক (টিসি) মো. আব্দুর রশীদ, পঞ্চগড়েরর উপ-পরিচালক (টিসি) মো. আব্দুল হাই এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ডোমার) সাবিহা সুলতানা প্রমুখ।

