ঢাকাMonday , 5 December 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দক্ষিণাঞ্চলে জনপ্রিয় হচ্ছে উন্নত খাটো জাতের নারিকেল চাষ

Link Copied!

খুলনার পাইকগাছা পৌর সদরের কাজী কামরুল ইসলামের বিদেশি খাটো জাতের নারিকেল গাছে বাম্পার ফলন

খুলনার পাইকগাছা পৌর সদরের কাজী কামরুল ইসলামের বিদেশি খাটো জাতের নারিকেল গাছে বাম্পার ফলন

নিজস্ব প্রতিনিধি : দেশের দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক জনপ্রিয় হয়ে উঠছে উন্নত খাটো (ওপি) জাতের নারিকেল চাষ। ইতোমধ্যে এ অঞ্চলের বিভিন্ন প্রান্তে বৃহৎ পরিসরে এ জাতের নারিকেল আবাদ শুরু হয়েছে। অল্প দিনে অধিক ফল দান ক্ষমতা ও লবণ সহিষ্ণুতার পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত প্রাকৃতিক দুর্যোগ সহনশীলতাই এ জাতটির জনপ্রিয়তার মূল কারণ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট চাষি ও কৃষি বিভাগ।
এদিকে, উপকূলীয় জেলা খুলনার পাইকগাছায় এ জাতের নারিকেল চাষে এক চাষির সাফল্যে মাতোয়ারা পুরো উপজেলার আগ্রহী চাষি ও কৃষি বিভাগ। জানা গেছে, পৌর সদরের বাতিখালী গ্রামের কাজী কামরুল ইসলাম খাটো জাতের চারা রোপনের ৪ বছরের মধ্যে ফলন পেয়েছেন। তিনিই এখন নারিকেল চাষে উপজেলায় অন্যান্যদের অনুপ্রেরণার মূল উৎস। তার দেখাদেখি অন্যরাও এখন এ জাতের নারিকেল চাষে উৎসাহী হয়ে উঠছেন বলে জানা গেছে। সূত্র জানায়, উপকূলীয় জনপদে নারিকেল চাষে নতুন বিপ্লব ঘটানোর লক্ষ্যে চলতি মৌসুমে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উদ্যোগে ভিয়েতনামের সিয়াম গ্রীণ কোকোনাট জাতের নারিকেলের চারা প্রায় ১ হাজার জনের ১টি করে বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া আরো অনেক চারা বিতরণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। স্থানীয় চাষিরা কৃষি অফিসে এসে তাদের উৎসাহের কথা প্রকাশ করছেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হর্টিকালচার উইংয়ের পরিচালক কৃষিবিদ কুদরত-ই-গনী দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, নারিকেল গাছের প্রতিটি অংশ মানুষের কোন না কোনভাবে কাজে আসে। এ গাছের পাতা, ফুল, ফল, কা-, শিকড় সব কিছুই ছোট বড় বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং মুখরোচক নানা খাবার তৈরীরও উপকরণ। এছাড়া, সুস্বাদু পানীয় ও রোগীর পথ্য হিসেবে নারিকেলের বিকল্প নেই। তিনি বলেন, আমাদের দেশে যেসব জাতের নারিকেলের চাষ হয় সেগুলো মূলত লম্বা জাতের; ফলনও তুলনামূলক কম। চারা রোপনের ৭-৮ বছরের মাথায় গাছ প্রতি বছরে ফল পাওয়া যায় সর্বোচ্চ মাত্র ৩০-৪০টি পর্যন্ত। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে লম্বা জাতের নারিকেল চাষ হয়। তবে ঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এ গাছগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে উন্নত খাটো জাতের নারিকেল গাছের অল্প সময়ে ফলনসহ ফলদান ক্ষমতা বেশি হওয়ায় তা সম্প্রসারণে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে কৃষি বিভাগ এগিয়ে যাচ্ছে। এ লক্ষ্যে অধিদপ্তরের বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের তত্ত্বাবধানে ভিয়েতনাম থেকে সিয়াম গ্রীণ কোকোনাট ও সিয়াম ব্লু কোকোনাট নামের খাটো ও উন্নত জাতের নারিকেল চারা আমদানি করে দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক সম্প্রসারণ কার্যক্রম চলছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
জানতে চাইলে বছরব্যাপী ফল উৎপাদনের মাধ্যমে পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক কৃষিবিদ মো. মেহেদী মাসুদ দৈনিক পাঞ্জেরীকে বলেন, দক্ষিণাঞ্চলের বায়ু, পানি, মাটি তথা জলবায়ু নারিকেল চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। এ অঞ্চলে চাষাবাদ উপযোগী লবণাক্ত সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবনে বিজ্ঞানীরা যেখানে অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন সেখানে আমাদের হাতের কাছেই উন্নত খাটো জাতের নারিকেলের মতো অপার সম্ভাবনাময় একটি অর্থকরী ফসল রয়েছে; যা চাষের মাধ্যমে পুরো দক্ষিণাঞ্চলে বিপ্লব ঘটানো সম্ভব। তিনি আরো বলেন, আমাদের দেশে বেশ কয়েক বছর আগেই কিছু খাটো জাতের নারিকেল গাছ দেখা গেছে। কিন্তু অধিক ফলন, আবহাওয়া উপযোগী উন্নত ও সঠিক জাত নির্বাচন করে তা সম্প্রসারণের কোন উদ্যোগ ইতোপূর্বে নেওয়া হয়নি। কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরীর যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত ও আন্তরিকতায় ভিয়েতনাম থেকে খাটো জাতের উন্নত নারিকেল চারা আমদানি করে ব্যাপকভিত্তিক সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কার্যক্রম অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।
সূত্র জানায়, ইতোমধ্যে খাটো ও উন্নত এ জাতের প্রায় ২ লাখ চারা আমদানি করা হয়েছে এবং সর্বমোট ১০ লাখ চারা আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কৃষি সংশ্লিষ্টরা নারিকেল গাছকে পৃথিবীর অন্যতম অপূর্ব তথা ‘স্বর্গীয় গাছ’ হিসেবে উল্লেখ করে বর্তমান সরকারের এ পদক্ষেপকে অত্যন্ত সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেছেন।