ঢাকাSaturday , 8 October 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

আ.লীগের সম্মেলন : সর্বত্র উৎসবের ঢেউ

Link Copied!

A.Legueনিজস্ব প্রতিনিধি : টানা মেয়াদে সরকার গঠন করা আওয়ামী লীগের ২০তম ত্রিবার্ষিক জাতীয় সম্মেলনের বাকি আর মাত্র ১৪ দিন।
আগামী ২২ ও ২৩ অক্টোবর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলন উপলক্ষ্যে ইতিমধ্যেই সাজ সাজ ও উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে। সম্মেলন প্রস্তুতি তদারকির ব্যবস্থায় ব্যতিব্যস্ত হয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনায় সময় পার করছেন ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মীরা। এ কারণে সম্মেলনের উৎসব- আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩/এ অবস্থিত আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে আওয়ামী রাজনীতির স্মৃতিময় পীঠস্থান ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান পর্যন্ত।
শুক্রবার সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সরেজমিনে ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় ও সম্মেলনস্থল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে এমন চিত্র দেখা যায়। শুক্রবার বিকেলে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলন প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ ও তদারকি করতে একে একে আসেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, ডা. দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, উপদপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ, এনামুল হক শামীম, মির্জা আজম প্রমুখ।
সম্মেলনস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সামনে মোহাম্মদ নাসিম সম্মেলনের অনুষ্ঠানসূচি তুলে ধরে বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সম্মেলন মানেই ইতিহাস। আর আগামী সম্মেলন আমাদের দলের জন্য আরো গুরুত্বপূর্ণ। আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এই সম্মেলনে নেতৃত্বে নির্বাচন করা হবে।’ এজন্য দেশবাসীকে সম্মেলন সম্পন্ন করতে সকল ধরনের সহযোগিতা করারও আহ্বান জানান তিনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সম্মেলনের সময় যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ধানমন্ডি থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নেতা-কর্মীদের আনাগোনা ও সরব উপস্থিত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ধীরে ধীরে প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে সম্মেলনের । ইতিমধ্যে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সম্মেলন মঞ্চের সম্মুখস্থলে বাঁশের খুঁটি দিয়ে প্যান্ডেল তৈরি করা হয়েছে। কেবল বৈরী আবহাওয়াকে মাথায় রেখে বাকি আছে ওয়াটার প্রুফ ত্রিফল টাঙানো। সঙ্গে লাইটিংসহ রঙিন সজ্জা। আগামী সপ্তাহের মধ্যেই প্যান্ডেলের অন্য ৯০ শতাংশ কাজ শেষ হয়ে যাবে বলে জানান কর্মরত এক শ্রমিক।
দলীয় সূত্রে আরো জানা যায়, প্যান্ডেলের নিচে ৪০ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্যান্ডেলের নিচে প্রতিটি জেলার জন্য পৃথক পৃথক বসার স্থান বরাদ্ধ থাকবে। ইতিমধ্যে মঞ্চ তৈরির কাজও শুরু হয়েছে। নৌকার আদলে এ মঞ্চ তৈরি হবে। মঞ্চ ও সাজসজ্জা উপকমিটির পক্ষ থেকে মঞ্চটির ডিসপ্লে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের অস্থায়ী ক্যাম্পে রাখা হয়েছে। ডিসপ্লেতে নৌকা আকৃতির মঞ্চের নকশা তৈরি করা হয়েছে। ডিসপ্লেতে আরো দেখা যায়, মঞ্চের দুই পাশে স্থান পাচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা সম্মেলন প্রস্তুতির দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতারা পালাক্রমে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আসছেন।
অপরদিকে প্রতিদিনই দলীয় সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বিভিন্ন উপকমিটির ধারাবাহিক বৈঠক চলছে। বৈঠক শেষে সংশ্লিষ্ট নেতারা নিজ নিজ উপকমিটির সর্বশেষ প্রস্তুতির তথ্য জানাচ্ছেন। শুক্রবার সকালেও দপ্তর উপকমিটির বরিশাল বিভাগীয় বৈঠকের শুরুতে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং দপ্তর উপকমিটির আহ্বায়ক ওবায়দুল কাদের নেতা-কর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘এবার স্মরণকালের সবচেয়ে সুশৃঙ্খল, বর্ণাঢ্য সম্মেলন হবে। এটা একটা টিম ওয়ার্ক। আমরা কেউ কারো প্রতিদ্বন্দ্বী নই। নেত্রীর ওপর আমাদের শতভাগ আস্থা রয়েছে। যা করার উনিই করবেন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা যেমন ঐক্যবদ্ধ তেমনই প্রতিটি স্থানে আমাদের চেইন অব কমান্ড মেনে চলতে হবে। মনে রাখতে হবে, আওয়ামী লীগের ইতিহাস সংগ্রাম এবং ঐতিহ্যের ইতিহাস। এর সঙ্গে প্রযুক্তির সমন্বয়ে ২০২১ সালকে টার্গেট করে আমরা এগিয়ে এসেছি। সম্মেলনের মাধ্যমে আমরা আরো এগিয়ে যাব। সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কেউ অতি উৎসাহী হয়ে অফিসে এসে বিরক্তকর পরিবেশ সৃষ্টি করবেন না। অতি বাড়াবাড়ি ভালো নয়, সীমা লঙ্ঘন করবেন না।’
ওই একই বৈঠকে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন, ‘জেলা পর্যায়ে তালিকা করে অতীতে ডেলিগেটদের কার্ড দেওয়া হয়নি, এবার হচ্ছে। তালিকা অনুযায়ী কার্ড বিতরণ করা হবে। কারণ আমাদের সরকারের বিরুদ্ধে অতীতেও নানা ষড়যন্ত্র হয়েছে। এখনো চলছে। কোনো ষড়যন্ত্রকারী যেন দলে ঢুকতে না পারে, সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে।’
আওয়ামী লীগের বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের সভাপতিত্বে আরো উপস্থিত ছিলেন দলের সাংগঠনিক সম্পাদক আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, তথ্য ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক আফজাল হোসেন, উপদপ্তর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাস, কেন্দ্রীয় সদস্য সুজিত রায় নন্দী ও এনামুল হক শামীম প্রমুখ।
শুধু সকালেই নয়, দুপুর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয় প্রতিদিনই বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীর আনাগোনায় সরগরম হয়ে থাকছে। ইতিমধ্যেই কার্যালয়টির ভিতরে এবং বাইরে সুসজ্জিত লাইটিং করা হয়েছে। যে কারণে নেতা-কর্মীদের অনেকেই আড্ডাচ্ছলে সেলফিটাও সেরে নিচ্ছেন সম্মেলন স্মৃতির অংশ হিসেবে। শনিবারও ওই কার্যালয়সহ তার সামনে অবস্থিত প্রিয়াংকা কমিউনিটি সেন্টারে চারটি সম্মেলন প্রস্তুতির লক্ষ্যে গঠিত চারটি উপকমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। উপকমিটিগুলো হলো- ঘোষণাপত্র উপকমিটি, মঞ্চ ও সাজ-সজ্জা উপকমিটি, খাদ্য উপকমিটি এবং প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি। শুক্রবার আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
সম্মেলন সংশ্লিষ্ট নেতাদের সূত্র জানায়, সম্মেলনের সময় যতই এগিয়ে আসছে সম্মেলন প্রস্তুতির পালে ততই হাওয়া লাগছে। এ কারণেই কয়েকদিন আগেই সম্মেলনের স্লোগান ঘোষণা করা হয়েছে। প্রচার ও প্রকাশনা উপকমিটি স্নোগান ঘোষণা করেন। এবার দলের স্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে– ‘শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে চলেছি দুর্বার, এখন সময় বাংলাদেশের মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার।’
অপরদিকে দপ্তর উপকমিটি সম্মেলনে কাউন্সিলর সংখ্যার তালিকা ঘোষণা করেছেন।এ ছাড়াও সম্মেলন উপলক্ষ্যে গঠিত অন্যান্য উপকমিটিগুলোও তাদের প্রস্তুতির কাজ এগিয়ে নিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের আগেই সম্মেলনের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হবে।
দলীয় সূত্র আরো জানায়, সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সভাপতির ধানমন্ডির কার্যালয়ের কর্মকাণ্ড মনিটরিং করার জন্য ইতিমধ্যে সেখানে বিভিন্ন ইলেকট্রিক ডিভাইসও লাগানো হয়েছে। যার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা তার সরকারি বাসভবন গণভবনে বসেই সম্মেলন প্রস্তুতি তদারকি ও খোঁজখবর নিচ্ছেন। সে লক্ষ্যেই আজ (শুক্রবার) তার এই কার্যালয়ে আসার কথা ছিল। কিন্তু তিনি অনিবার্য কারণ দেখিয়ে আগামী ১৮ অক্টোবর কার্যালয়ে আসার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। কারণ এদিন কার্যালয়ের পাশেই বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের নামে নেওয়া ভবনটির মালিকানা সংক্রান্ত কাগজপত্রাদি হন্তান্তর করা হবে। দলীয় সভাপতি হিসেবে তিনি সেদিন উপস্থিত থাকবেন।