ঢাকাMonday , 3 October 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

সার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে শঙ্কা

Link Copied!

saarcবিশেষ প্রতিবেদন : সদস্য কয়েকটি দেশ অংশগ্রহণে অসম্মতি জানানোয় ভেস্তে গেছে ১৯তম সার্ক শীর্ষ সম্মেলন। এ কারণে প্রশ্ন উঠছে সংগঠনের কার্যকারিতা নিয়ে।
কূটনীতিকরা সার্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। সন্দেহ, অবিশ্বাস ও আস্থাহীনতার কারণে দেশগুলোর মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা কতটা গড়ে উঠবে তা নিয়েও সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, ‘সার্ক প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশ নিয়ে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল সদস্য দেশগুলোর মধ্যে শান্তি ও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা। সেখানে কেউ যদি অশান্তি সৃষ্টি করে তার সঙ্গে কোনো শান্তির সম্পর্ক থাকতে পারে না।’
তিনি বলেন, ‘পাকিস্তান জঙ্গিবাদ সৃষ্টির মধ্যদিয়ে সন্ত্রাসবাদ সৃষ্টি করেছে। সে দেশে সার্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ সংগঠনের শীর্ষ সম্মেলনের অনুষ্ঠিত হওয়া সম্ভব নয়। এখন বাকি দেশগুলোর উচিত হবে পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে সার্ক নিয়ে নতুনভাবে চিন্তা করা। যে দেশ সন্ত্রাসবাদের জন্ম দেয় সে দেশকে নিয়ে অন্তত কোনো শান্তির জোট করা সম্ভব নয়।’
সার্ক দেশভুক্ত দেশের কূটনীতিকরা সংশয় প্রকাশ করে বলেছেন, সার্ক জোটের আট দেশের মধ্যে কয়েকটি দেশ এই জোট চায় না। দেশগুলো বিকল্প কোনো জোটে যুক্ত হতে চাচ্ছে। অনাগ্রহী এসব দেশের মধ্যে রয়েছে ভারত, বাংলাদেশ, ভুটান, আফগানিস্তান এবং নেপাল।
তবে বেশিরভাগ দেশের কূটনীতিকরা বলছেন, ৩৩ বছরেও সার্ক তার আশানুরূপ ফল দেখাতে পারেনি। আর এবার বিরোধ চরম আকার ধারণ করেছে। ফলে সার্ক জোট থাকলেও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. এমাজউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সার্ক গঠন করা হয়েছিল দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা বজায় রাখার জন্য। কিন্তু বর্তমানে সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে একটি টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। পরস্পরের মধ্যে বিশ্বাস, আস্থা ও ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টি হয়েছে। এ অবস্থায় সার্কের ভবিষ্যৎ ঝুঁকিপূর্ণ।’
তিনি বলেন, ‘সার্কের সংবিধানে লেখা আছে সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের মধ্যে কোনো রাষ্ট্র অনাস্থা প্রকাশ করলে শীর্ষ সম্মেলন হবে না। যেহেতু পাকিস্তানে আসন্ন সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে যেতে ভারত, বাংলাদেশসহ একাধিক রাষ্ট্র অনীহা প্রকাশ করেছে তেমনি আগামী শীর্ষ সম্মেলনেও পাকিস্তান অনীহা প্রকাশ করলে এটি স্থগিত হয়ে যাবে।’
সার্ক বিষয়ে কূটনীতিকদের মনোভাব হচ্ছে, সার্ক একটি আইনগত সংস্থা এবং এটি বন্ধ করতে হলে সবাইকে একমত হয়ে করতে হবে। এটি কোনো সহজ প্রক্রিয়া নয়।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখনই সার্ক হয়তো ভাঙবে না। তবে এর কার্যকারিতা নষ্ট হতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার বলেন, বর্তমানে ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে একটি বৈরিভাব বিস্তার করছে। আর এটি সহজেই কেটে উঠবে বলেও মনে হচ্ছে না।
‘তা ছাড়া সার্কভুক্ত দেশসমূহের মধ্যে এমন কোনো নেতা গড়ে উঠেনি যে সবাইকে এক কাতারে নিয়ে এসে সবার মাঝে সম্প্রীতি সৃষ্টি করতে পারে। বরং পারস্পরিক দ্বিধা-দ্বন্দ্ব আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। একে অপরের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাসের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে সার্কের ভবিষ্যৎ অন্ধকার।’
সার্ক সচিবালয়ের প্রাক্তন পরিচালক মাহমুদ হাসান বলেন, এটি একটি সাময়িক সমস্যা। সার্কের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হচ্ছে রিট্রিট, যেখানে সব শীর্ষ নেতা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সমস্যা নিয়ে আলোচনার সুযোগ পান। এবার তা হচ্ছে না।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক নেহাল করিম বলেন, সার্ক শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত সার্কভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের জন্য একটি অশনিসংকেত। এটি প্রতিষ্ঠার মূল লক্ষ্য ছিল সদস্যভুক্ত রাষ্ট্রসমূহের সমস্যাসমূহ নিজেদের মাঝে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা। কিন্তু বর্তমান পারস্পরিক দ্বিধাদ্বন্দ্বে সে পথ অনেকটা বন্ধ হয়ে গেছে। যা সবার জন্যই ক্ষতির কারণ হবে।
আগামী নভেম্বরে সার্কের ১৯তম শীর্ষ সম্মেলন পাকিস্তানে হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সার্কের মধ্যে আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসী ঘটনা ও সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে একটি দেশের হস্তক্ষেপের কারণ দেখিয়ে ভারত জানায়, তারা এ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করবে না।
এরপর আফগানিস্তানও তাদের দেশে সন্ত্রাসী ঘটনার কারণ দেখিয়ে এ সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার কথা জানায়। সবশেষে ভুটানও এবারের সম্মেলনে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। আর অভ্যন্তরীণ বিষয়ে পাকিস্তানের অব্যাহত হস্তক্ষেপের কারণ দেখিয়ে বাংলাদেশ সার্ক চেয়ারম্যান নেপালকে জানিয়ে দেয়, এ সম্মেলনে তারা অংশ নিচ্ছে না।
প্রসঙ্গত, এর আগেও ছয়বার বাতিল হয়েছে সার্ক শীর্ষ সম্মলেন।