চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : দেশের বৃহত্তম কৃত্রিম কাপ্তাই হ্রদে বিড়ম্বনার অপর নাম কচুরিপানা। হ্রদে পানি যতই বাড়তে থাকে। কচুরিপানার পরিমাণও যেন ততই বাড়তে থাকে।
প্রতিবছর কচুরিপানার কারণে লোকজনকে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। বছরের অর্ধেকেরও বেশি সময় কচুরিপানার এ বিড়ম্বনা পোহাতে হয়। আর কচুরিপানা সরাতে প্রয়োজন কোটি টাকার হারভেস্টার মেশিন।
কচুরিপানার কারণে কাপ্তাই হ্রদ থেকে মাছ আহরণে প্রতিদিন জেলেদের পোহাতে হয় দুর্ভোগ। পাশাপাশি আহরিত মাছ নিয়ে নৌকায় ল্যান্ডিং ঘাটে আসতেও চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কারণ কচুরিপানার কারণে ইঞ্চিনচালিত নৌকার পাখা আটকে যায়। আর এ জট সরাতে প্রতিদিনই তাদের অতিরিক্ত সময় ব্যয় করতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ে মাছ নিয়ে ঘাটে পৌঁছাতে না পেরে আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় ব্যবসায়ীদের।
কাপ্তাই হ্রদ ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. শাহ আলম জানান, কচুরিপানার কারণে জেলেদের মাছ শিকারে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। আবার আহরিত এ মাছ ইঞ্চিনচালিত নৌকায় করে আনার সময়ও লাগে বেশি সময়। এতে করে নৌকার খরচও দিতে হচ্ছে বাড়তি। অথচ মাছের যে বাজার মূল্য তা দিয়ে লাভের আশা তো দূরে থাক, বিনিয়োগের টাকাও তুলতে পারবো কি না সন্দেহ। এতে প্রতিদিনই আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।
রাঙামাটি বোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহেদ জানান, হ্রদে কচুরিপানা বাড়ার কারণে ইঞ্চিনচালিত নৌকা চলাচলে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এক লিটার তেল দিয়ে যে দূরত্বে যাওয়া যায়। সেখানে যেতে এখন তিন লিটারের বেশি তেল লাগে। এ ছাড়াও ঘাটে যথাসময়ে নৌকা পৌঁছাতে পারে না। প্রতিদিনই কচুরিপানার কারণে নৌকার কোনো না কোন অংশ নষ্ট হয়ে অকেজো হয়ে পড়ে।
কাঠ ব্যবসায়ী মো. মনসুর আলী জানান, কচুরিপানার কারণে ঠিক সময়ে গাছ নিয়ে নৌকা আসতে পারে না। ফলে যথা সময়ে গ্রাহককে মাল পৌঁছাতে না পারার কারণে ব্যবসায়ীকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।
মৌসুমী ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম জানান, পাহাড়ে উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত করার জন্য রাঙামাটি আনতে গিয়েই কৃষকদের বেশি সময় পার করতে হয়। অনেক সময় এসব পণ্য নষ্ট হয়ে কিংবা পঁচে যাওয়ার কারণে কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
হ্রদের ওপর নির্ভরশীল লোকজনদের নিত্য ব্যবহার্য্য পানির একমাত্র উৎসও এ হ্রদ। অথচ প্রতিদিনের পানি ব্যবহারে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। পঁচনশীল এ কচুরিপানা পঁচে গিয়ে মারাত্মক দুগর্ন্ধের সৃষ্টি করে। ফলে এ পানি ব্যবহার করে মানবদেহে নানা ধরনের রোগ বাসা বাধছে।
রাঙামাটি সিভিল সার্জন ডা. স্নেহ কান্তি চাকমা জানান, পানিতে পঁচনশীল কিছু থাকলে সে পানি ব্যবহারে মানুষের শরীরে নানা রোগের সৃষ্টির হতে পারে। এ পানির কারণে চোখের সমস্যা ও চর্মরোগ হয়।
কচুরিপানার কারণে কাপ্তাইয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনেও সমস্যা দেখা দিলে তা নিরসনের জন্য কোটি টাকা ব্যয়ে হারভেস্টার মেশিন কেনা হয়। এ মেশিন শুধুমাত্র বিদ্যুৎ প্রজেক্ট এর জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানান হ্রদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সচিব আবদুর রহমান। যখন বিদ্যুৎ প্রজেক্টের জন্য প্রয়োজন হয় তখনই ব্যবহার করা হয় বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, কোটি টাকা ব্যয়ে কেনা হারভেস্টার মেশিন ৭২৫ বর্গ কিলোমিটার হ্রদের অন্য অংশের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে না। এ ছাড়া আর কোনো মেশিন কেনা হবে না বলেও জানান তিনি।

