ঢাকাMonday , 12 September 2016
  1. অর্থনীতি
  2. আইন-আদালত
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আবহাওয়া
  5. কৃষি ও অন্যান্য
  6. খেলাধুলা
  7. গল্প ও কবিতা
  8. জাতীয়
  9. তথ্যপ্রযুক্তি
  10. দেশজুড়ে
  11. ধর্ম ও জীবন
  12. প্রবাস
  13. বানিজ্য
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ক্রিকেটেও নারীদলের জয়

Link Copied!

women-cricket-teamক্রীড়া প্রতিবেদক : ওয়ানডে সিরিজের প্রাথমিক সূচিতে তৃতীয় ওয়ানডে বলতে কিছু ছিলই না। বৃষ্টির বাধায় ব্রেডি ক্রিকেট ক্লাব মাঠে অনুষ্ঠিত প্রথম ওয়ানডে পরিত্যক্ত হয়। দু’দলের জন্যই সফরটা গুরুত্বপূর্ণ, তাই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড থেকে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ডকে অনুরোধ করা হয়েছিল সিরিজে একটা ম্যাচ বাড়ানোর। বৃষ্টিতে দ্বিতীয় ওয়ানডেও ভেসে যাওয়ার পর তৃতীয় ম্যাচ তাই হয়ে উঠেছিল সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ। আর আয়ারল্যান্ডের মেয়েদের বিপক্ষে সে ম্যাচেই ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশের লেগস্পিনার রুমানা আহমেদ। মেয়েদের ক্রিকেটের যে কোনো ফরম্যাটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে করলেন হ্যাটট্রিক, আর তার অসাধারণ বোলিং নৈপুণ্যে ভর করে ম্যাচ ও সিরিজ জিতে নিল জাহানারা আলমের দল।
শনিবার বেলফাস্টের ইনস্টনিয়ান্স ক্রিকেট ক্লাব মাঠে জয়ের জন্য আয়ারল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১০৭ রান। ছোট এই সংগ্রহ তাড়া করতে নেমে শুরুটা ভালোই করেন দুই আইরিশ ওপেনার সিসিলিয়া জয়েস ও মেগ কেন্ডাল। এই জুটি যতক্ষণ মাঠে ছিল, ততক্ষণ ১০৭ রানকে খুব সহজ এক লক্ষ্যই মনে হচ্ছিল। জুটির রান যখন ৫২, তখনই প্রথমবার আঘাত হানে বাংলাদেশ। খাদিজা তুল কুবরার বলে এলবিডবি্লউ হয়ে ফিরে যান কেন্ডাল। পরের বলেই শন কাভানাহকেও তুলে নেন কুবরা। তৃতীয় বলেও উইকেট নিয়ে হ্যাটট্রিক করা হয়ে ওঠেনি এই বোলারের। তবে কুবরা না পারলেও রুমানা ঠিকই পেরেছেন। টানা তিন বলে আইরিশ মিডল অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান কিম গার্থ, ক্লেয়ার শিলিংটন ও ম্যারি ওয়ালড্রনকে ফিরিয়ে দিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন রুমানা। ২০ রানের বিনিময়ে তিন উইকেট নিয়ে এদিন দলের সেরা বোলারও তিনিই। দলীয় সর্বোচ্চ ৩৫ রান করে রান আউটের শিকার হন জয়েস, রান আউট হন আইরিশদের শেষ ব্যাটসম্যান সিয়ারা মেটকাফেও। বাকি তিন উইকেটের দুটি নিয়েছেন ফাহিমা খাতুন, আর একটি নাহিদা আক্তার।
এর আগে টসে জিতে ব্যাট করতে নেমে আইরিশ পেসার অ্যামি কেনেলির দাপুটে বোলিংয়ে শুরুটা প্রত্যাশিত হয়নি বাংলাদেশের। মাত্র ২৫ রানের মধ্যেই প্রথম পাঁচ উইকেট হারিয়ে ফেলে তারা। অন্যপ্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট পড়লেও একপ্রান্ত আগলে রেখেছিলেন ওপেনার সানজিদা ইসলাম। ষষ্ঠ উইকেটে রিতু মনির সঙ্গে সানজিদার গড়া ৪৪ রানের এক চমৎকার জুটিতে খেলায় ফিরে আসে বাংলাদেশ। ১৩ রানে রিতু মনি আউট হওয়ার পরপরই দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করা সানজিদাও আউট হলে বাংলাদেশ আবারও বিপদে পড়ে। ৭৩ রানে সাত উইকেট হারিয়ে ফেলা বাংলাদেশের সামনে তখন দলীয় ১০০ রান তোলাটাও বেশ দুরূহ মনে হচ্ছিল। সে অবস্থায় হাল ধরেন অধিনায়ক জাহানারা আলম ও নাহিদা। অষ্টম উইকেটে এ দু’জনের ৩২ রানের জুটিতে তিন অঙ্ক ছোঁয় বাংলাদেশের সংগ্রহ। দলীয় ১০৫ রানে এই জুটি ভাঙার পর আর মাত্র এক রান যোগ করেই অলআউট হয় বাংলাদেশ। আয়ারল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ চার উইকেট নেন কেনেলি।
রুমানার হ্যাটট্রিকটি মেয়েদের ওয়ানডে ক্রিকেটের মাত্র নবম হ্যাটট্রিক, আর সব ফরম্যাট মিলিয়ে ১৭তম। তিনটি উইকেটই এলবিডবি্লউতে পেয়েছেন রুমানা। রুমানার আগে মেয়েদের ক্রিকেটে মাত্র একজন বোলারই তিন এলবিডবি্লউতে হ্যাটট্রিক পূরণ করেছেন, নিউজিল্যান্ডের জুলি হ্যারিস। ১৯৯৩ সালে মেয়েদের বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম ওই কীর্তি গড়েন হ্যারিস। তবে মেয়েদের ক্রিকেটের প্রথম হ্যাটট্রিক অবশ্য এসেছিল টেস্ট ক্রিকেটে। ১৯৫৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার বেটি উইলসন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মেলবোর্ন টেস্টে টানা তিন বলে এডনা বার্কার, জোয়ান হয়েস ও ডরোথি ম্যাকফারলেনকে তুলে নিয়েছিলেন।
প্রথম যে কোনো কীর্তিই অন্যদের অনুপ্রেরণা জোগায়। প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে মেয়েদের ক্রিকেটে রুমানার করা এই হ্যাটট্রিকও নারী ক্রিকেট দলের অন্যদের জন্যও অনেক বড় এক অনুপ্রেরণা হয়েই থাকবে নিঃসন্দেহে। ছোট রান সংগ্রহ করেও বোলারদের নৈপুণ্যে ম্যাচ বের করে নিয়ে আসার গল্পটাও সামনে আরও অনেক ম্যাচে হারার আগে হাল না ছেড়ে দেওয়ার সাহস জোগাবে। এই সফর থেকে বাংলাদেশের মেয়েরা দেশে ফিরবে একরাশ আত্মবিশ্বাস নিয়ে।
কিছুদিন আগেই কৃষ্ণা-সানজিদা-অনুচিং মারমারা ফুটবলের জয়ে মাতিয়েছেন পুরো দেশকে। আয়ারল্যান্ড থেকে নিয়ে আসা আত্মবিশ্বাসটা কাজে লাগিয়ে রুমানা-জাহানারা-সানজিদারাও আগামীতে এভাবেই দেশকে মাতাবেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একের পর এক সাফল্য এনে দেবেন-এই স্বপ্ন তো দেখাই যায়। কৃষ্ণা বা রুমানাদের থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ক্রিকেট-ফুটবলের মতো অন্য সব ক্ষেত্রেও মেয়েরা দেশ মাতাবেন, ব্যক্তিগত সাফল্যে দেশকে আলোকিত করবেন-এই আশা তো করাই যায়।