
আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নড়াইলের লোহগড়া উপজেলার পারমল্লিকপুর গ্রামে সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবের খণ্ডচিত্র
নড়াইল প্রতিনিধি : নড়াইল জেলার লোহাগড়া থানার পারমল্লিকপুর গ্রামে ২টি হত্যাকাণ্ডকে কেন্দ্র করে ব্যাপক লুটপাট, হামলা এবং সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে নিহতের পক্ষরা। পুনরায় হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হতে পারে বলে আশংকা করছেন স্থানীয়রা।
গত ১৬ আগস্ট আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের সংঘর্ষে নূর ইসলাম মৃধা (৫০) নামে একজন নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় গুরুতর আহত ইকবাল মৃধা (৩৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২০ আগস্ট মারা যান। নিহত দুইজন সম্পর্কে চাচা-ভাতিজা। নিহত নূর ইসলাম পারমল্লিকপুর ইউনিয়ন কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক বলে জানিয়েছে তার স্বজনরা।
এ ঘটনায় নিহত নূর ইসলাম মৃধার স্ত্রী রুখসানা বাদী হয়ে লোহগড়া থানায় ৪৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১১/১৬৯, তারিখ : ১৬-০৮-২০১৬ ইং। মামলার আসামিরা চীফ জুডিসিয়াল কোর্টে আত্মসমর্পণ করলে কোর্ট তাদের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কতিপয় সন্ত্রাসীরা গ্রামে লুটপাট, ঘরবাড়ি ভাঙচুর, নারী নির্যাতন, ক্ষেত খামারের ফসল এমনকি বাড়ির গাছপালা কেটে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযুক্তরা হলেন- একই গ্রামের থানা বিএনপি’র নেতা মিজানুর রহমান, মো. আব্দুল জলিল শেখ, নড়াইল জেলা বিএনপি’র সদস্য ও থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. টিপু সুলতান শেখ, বিএনপি নেতা সাবেক মেম্বার আব্দুল হক মোল্লা, স্থানীয় ক্যাডার সেলিম মোল্লা, কায়েম মৃধা, জেলা যুবদলের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট রেজাউল করিম মিন্টু শেখ, বিএনপি কর্মী লিটু শেখ, বিএনপি নেতা বাচ্চু শেখ, বিএনপি নেতা আব্দুল্লাহ সরদার, জামায়াত নেতা আকরাম সরদার, বিএনপিকর্মী হালিম কাজী, বিএনপিকর্মী সিরাজ কাজী প্রমূখ।
জানা যায়, অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের লোকজনের উপর হামলা চালায় এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে। স্থানীয় সন্ত্রাসীদের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো এখন পুরুষশূন্য।
এ সুযোগে সন্ত্রাসীরা বাড়িঘরে হামলা করে ইলেক্ট্রনিক জিনিসপত্র (টিভি, ফ্রিজ, মোবাইল), স্বর্ণালঙ্কার, মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। শুধু তাই নয়-মহিলাদের শ্লীলতাহানিসহ মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। ১২ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা না দিলে ১৩ সেপ্টেম্বর আবারও বাড়ি-ঘরে লুটপাট এবং হামলা করবে বলে হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। এর আগেও সেলিম মোল্লা ৫০ হাজার টাকা চাঁদা নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীরা থানা পুলিশকে অবহিত করলেও প্রশাসন কোনো সহায়তা করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, পুলিশের সাথে লুটপাটকারীদের সখ্যতা রয়েছে। পুলিশকে টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে এসব করছে তারা। এ ছাড়াও পুলিশ লুটপাট ও চাঁদার ভাগ পায় বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে আজম মৃধা ও ইকরাম ঠাকুরের বাড়িতে ৩০-৩৫ সদস্যের একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এ সময় ঘরবাড়ি ভাঙচুরসহ মালামাল লুটপাট করে সন্ত্রাসীরা। হামলার শিকার ভুক্তভোগীরা অনেকেই এলাকাছাড়া।
জানা গেছে, গত ৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত প্রায় ১০০টি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করে সন্ত্রাসীরা। এ ছাড়াও নগদ অর্থ, স্বর্ণালঙ্কার, গৃহপালিত গরু-ছাগল, মাঠের ফসল (ধান, পাট), দামি আসবাবপত্রসহ ইলেক্ট্রনিক জিনিসপত্র লুট করে তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ১৬ আগস্ট গাজীপাড়ার ইলিয়াস গাজীর বাড়ি ও ঠাকুরপাড়ার উজ্জ্বল মেম্বারের বাড়ি, গত ১৭ আগস্ট মোস্ত ঠাকুর ও আলিম কাজীর বাড়ি, গত ২৬ আগস্ট পুনরায় গাজীপাড়ার ইলিয়াস গাজীর বাড়ি, গত ১ সেপ্টেম্বর হায়দার গাজী, ওকি শেখ, সাইফুল মৃধা ও মান্নান ঠাকুরের বাড়ি, গত ৭ সেপ্টেম্বর আজম মৃধা ও ইকরাম ঠাকুরের বাড়ি হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট করে উল্লেখিত সন্ত্রাসীরা। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৩ কোটি টাকা হবে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
এতকিছুর পরও ক্ষান্ত হয়নি সন্ত্রাসীরা। তারা ধারাবাহিকভাবে একের পর এক বাড়িঘরে হামলা অব্যাহত রেখেছে। পাশাপাশি হুমকি ও চাঁদা আদায় করছে বলে অভিযোগ করেছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।

