নিজস্ব প্রতিবেদক : সম্প্রতি রাজধানীর গুলশানে আর্টিসান হোটেল ও কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় ঈদ জামাতের সন্নিকটে নৃশংস জঙ্গি হামলা, দেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিনষ্টের পাঁয়তারা, অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্টের ষড়যন্ত্রের প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) ভবনে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিএডিসি’র চেয়ারম্যান মো. নাসিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি)’র মহাসচিব কৃষিবিদ মো. মোবারক আলী, জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি কৃষিবিদ এএমএম সালেহ, যুগ্ম মহাসচিব কৃষিবিদ সমীর চন্দ্র চন্দ। সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএডিসি’র সদস্য পরিচালক (ক্ষুদ্রসেচ) ড. মো. সাইদুর রহমান সেলিম, সদস্য পরিচালক (বীজ ও উদ্যান) মো. রওনক মাহমুদ, সচিব ড. মোয়াজ্জেম হোসেনসহ সংস্থাটির সর্বস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারিবৃন্দ। সভার শুরুতে গুলশান ও শোলাকিয়ায় জঙ্গি হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়।
মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিনষ্টে দেশি-বিদেশি গভীর চক্রান্ত চলছে। সম্প্রতি ঘটানো ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় দেশের মানুষ চরম উদ্বেগের মধ্যে আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের অধিক যত্মবান হতে হবে; সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কাদের সাথে মিশছে সে বিষয়ে খোঁজ রাখতে হবে। গুলশান হামলায় বন্ধুর জন্য আত্মোৎসর্গকারী ফাইয়াজ হোসেনের উদারতা ও মানবতার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ফাইয়াজই হচ্ছে মমতামাখা বাংলাদেশের আসল রূপ। কাজেই সবার সচেতনতা আর সমন্বিত পদক্ষেপে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা সম্ভব। এ সময় তিনি বলেন, দেশের ধনিক শ্রেণীর লোকজন তাদের সন্তানদের ইংলিশ মিডিয়ামে ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াচ্ছেন; এখানে ছেলেমেয়েরা দেশের প্রচলিত কৃষ্টির সাথে পরিচিত হচ্ছে না-বিষয়টি ভেবে দেখার তাগিদ দেন তিনি।
মো. মোবারক আলী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ যখন ধারাবাহিক ও ঈর্ষণীয় উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া একাত্তরের পরাজিত শক্তি জামায়াত-শিবিরকে সাথে নিয়ে চরম অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রতিটি নাগরিকের সোচ্চার ও সচেতন হতে হবে উল্লেখ করে তিনি এই জঙ্গিদের ধারক ও সহায়তাকারীদের প্রতিহত করার ঘোষণা দেন। গুলশানে হামলাকারীদের অধিকাংশই নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মন্তব্য করে তিনি বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজাকার গোলাম আযম ও মতিউর রহমান নিজামীর ছেলেরা শিক্ষকতা করার কারণে এখানকার শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদের দিকে ঝুঁকছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়সহ এ জাতীয় অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
সাইদুর রহমান সেলিম বলেন, সরকারের একার পক্ষে জঙ্গিবাদ নির্মূল করা অসম্ভব; তাই দলমত নির্বিশেষে দেশের সব মানুষকে জঙ্গিবাদ রোধে এগিয়ে আসতে হবে।
রওনক মাহমুদ বলেন, দেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়ছে বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের। এ সময় তিনি সন্তানদের নৈতিক ও মানবিক শিক্ষা, দেশাত্মবোধ, সামাজিক মূল্যবোধ, সঠিক ধর্মীয় অনুশাসনসহ দেশের কৃষ্টি ও ঐতিহ্য পালনে উদ্বুদ্ধ করতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান।
সমীর চন্দ্র চন্দ বলেন, দেশের সামাজিক ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা রক্ষার দায়িত্ব আমাদের সবার। জঙ্গিবাদ নির্মূলে সবাইকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি এ লক্ষ্যে সরকারকে সার্বিক সহযোগিতা প্রদানের আহ্বান জানান তিনি।
এএমএম সালেহ বলেন, শান্তিপ্রিয় বাংলাদেশে বিদেশিদের হত্যা করে দেশকে কলংকিত করা হয়েছে। জঙ্গিবাদ নির্মূলে সবাইকে নিজের ঘর, এরপর প্রতিবেশী, আত্মীয়-স্বজন, পাড়া মহল্লার সর্বত্র নজর দিতে হবে; যার যার অবস্থান থেকে নিজের দায়িত্ব পালনের পরামর্শ দেন তিনি।
কেআইবি’র কৃষি ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. মুকসুদ আলম খান মুকুট-এর পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএডিসি কৃষিবিদ সমিতির সাধারণ সম্পাদক কৃষিবিদ একেএম ইউসুফ হারুন, বিএডিসি অফিসার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. মিজানুর রহমান, বিএডিসি প্রকোশলী সমিতির পক্ষে প্রকৌশলী ধীরেন্দ্র চন্দ্র দেবনাথ, সিবিএ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন এবং জঙ্গিবাদ নির্মূলে তাদের পরামর্শ ও মতামত তুলে ধরেন।

